প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিন্নির গোপন তথ্য ফাঁস করেলেন নয়ন বন্ডের মা(ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট : এবার ‘জিরো জিরো সেভেন’ গ্রুপের প্রধান বন্দুকযুদ্ধে নিহত নয়ন বন্ডের ‘মায়ের’ কাঠগড়ায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী মিন্নির সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে জানিয়েছেন নয়নের মা শাহিদা বেগম। নয়ন বন্ডের মায়ের বর্ণনা বলছে, মিন্নি কোনোভাবেই দোষ এড়াতে পারেন না। নয়ন বন্ড হত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে মিন্নির পরোক্ষ মদদেই। রিফাতের স্ত্রী হলেও মিন্নি অধিকাংশ সময় নয়নকেই দিয়েছে, সেটা সশরীরে সাক্ষাতে কিংবা মুঠোফোনে।

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি নিহত নয়নের মা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বুধবার (২৬ জুন)। কিন্তু আগের দিন মঙ্গলবারও মিন্নি আমাদের বাড়িতে এসেছিল। সে আমার ছেলে নয়নের সঙ্গে দেখা করেছে। ছেলে তো মারাই গেল, এখন আর মিথ্যা কথা বলে কী লাভ? মিন্নি যে ঘটনার আগের দিনও আমাদের বাড়িতে এসেছিল; সেটি আমাদের প্রতিবেশীরাও দেখেছে। আমার ছেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

শাহিদা বেগম বলেন, শুধু হত্যার আগের দিনই আসেনি, রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরেও মিন্নি নিয়মিত আমাদের বাড়ি আসত। আমার মনে হয়েছে; সে নয়নকে না দেখে থাকতেই পারত না। আমি এ ব্যাপারে মিন্নিকেও কয়েকবার বলেছি, সে কেন এমন করে, কেন আমার ছেলের সঙ্গে বাড়িতে এসে নিয়মিত দেখা করে? রিফাত শরীফ মোটরসাইকেলে করে মিন্নিকে নিয়মিত কলেজে নামিয়ে চলে যেত। কিন্তু মিন্নি কলেজ থেকে সোজা চলে আসত আমাদের বাড়িতে, দেখা করত নয়নের সঙ্গে। তারা দুজন একসঙ্গে সারাক্ষণ থাকত, কথা বলত। মিন্নি নিয়মিত কখনো কলেজে ক্লাস করত বলে আমার মনে হয় না। কলেজের ক্লাস শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে সে আমার বাড়ি থেকে আবার কলেজে চলে যেত। তখন রিফাত শরীফ তাকে বাড়ি নিয়ে যেত, কিন্তু এসবের কিছুই জানত না রিফাত।

নয়নের মায়ের দাবি, এ হত্যার ঘটনার সঙ্গে মিন্নি জড়িত। তিনি বলেন, আমি পরে জানতে পেরেছি মিন্নির সঙ্গে রিফাতের বিয়ে হয়েছে। তখন মিন্নিকে আমার বাড়িতে আসতে মানা করেছি। আমার ছেলেকেও তার সঙ্গে দেখা করতে নিষেধ করেছি। কিন্তু কেউই আমার নিষেধ মানেনি। তারা নিয়মিতই যোগাযোগ রেখেছে। নয়ন কখনই আমার কথা শুনত না। আমার ছেলে তার মন মতো চলত। ছেলে আমার কথা শুনলে এমন নির্মম ঘটনা ঘটত না।

ঘটনার আগের দিন নয়ন বন্ডের বাড়িতে কেন গিয়েছিল; কেনইবা নিয়মিত দেখা করত, এসব বিষয়ে শনিবার (১৩ জুলাই) মিন্নির সঙ্গে কথা বলতে তার বাবা মো. মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। মিন্নির বাবা জানান, মিন্নি খুবই অসুস্থ। শুক্রবার (১২ জুলাই) তাকে চিকিৎসক দেখে গেছে। মিন্নি এ মুহূর্তে কথা বলতে পারবে না, সে ঘুমাচ্ছে। তাছাড়া মিন্নির সঙ্গে কথা বলতে হলে বরগুনা জেলা পুলিশের অনুমতি লাগবে।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ওই দিনই ফেসবুকে ভাইরাল হয়। রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। রিফাত ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। এ ঘটনায় দায়ের মামলায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েকজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গ্রেফতার কেউ কেউ বর্তমানেও রিমান্ডে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত