প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাংবাদিকদের নিয়ে ইউএনওর বক্তব্যে তোলপাড়! (অডিও)

যুগান্তর রিপোর্ট : ‘সিরাজগঞ্জে কামারখন্দ উপজেলায় জেলার সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে বা সংবাদ সংগ্রহ করতে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি এবং আমার (ইউএনও) কনসার্ন নিতে হবে’- সম্প্রতি কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলমের এমন বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ইউএনওর ওই বক্তব্যে জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ইউএনওর দুর্নীতি সংবাদ যাতে কেউ প্রকাশ করতে না পারে সে জন্যই এমন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে কামারখন্দ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়াকে উদ্দেশ করে ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘এখানে (কামারখন্দে) বাইরের সাংবাদিক একদিন এসে বুঝবে? যে কোনো নেগেটিভ নিউজ করলে আমার সঙ্গে কথা বলে তারপর করবে। বাইরের সাংবাদিক যেন আমার কাছে কম আসে, আমার কথা হচ্ছে প্রপার চ্যানেলের মাধ্যমে আসবে, আপনি সভাপতি-আহ্বায়ক, বাইরের সাংবাদিক আসলে নক করে আসবে। গঠনতন্ত্র করেন, বাইরের সাংবাদিক বা জেলার সাংবাদিক আসলে সভাপতিকে জানিয়ে প্রতিবেদন করবে, এটা গঠনতন্ত্রের মাঝে ঢুকান, আছে না? নীতিমালায় ঢুকান এইডা। সভাপতির কনসার্ন ছাড়া বাহিরে যেতে না পারে। দরকার হলে হেলাল সাহেবকে (সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি) বলে দিব। হেলাল সাহেবের সঙ্গে অলরেডি কথা হয়েছে। আমি বলে দিয়েছি যে কোনো সাংবাদিক আসলে সভাপতির সঙ্গে কনসাল্ট করে তারপর যেন সে মুভ করে। কারণ হুদাই একটা প্রবলেম বের করে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে অথচ এসব কিছুই না, তাই না? আমাদের সাংবাদিক রিপোর্ট করবে এদেরকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমাদের। কামারখন্দের সাংবাদিকদের ভালো রাখার দায়িত্ব আমাদের। অতএব যদি কোনো ফিনান্সিয়াল দরকার হয় দিব। সমস্যা কী? আমাদের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার মতো কোনো অভাব নাই। আছে? বিভিন্ন জায়গা আছে। আমরা ফিনান্সিয়াল সুবিধা দেব সমস্যা আছে আপনার? বাইরের সাংবাদিক কেন এখানে আসবে।’

এদিকে ইউএনওর এমন বক্তব্যে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাদের ধারণা, সম্প্রতি সরকারিভাবে গম-ধান ক্রয়ে দুর্নীতি, কর্মসৃজন প্রকল্পে দুর্নীতি, টিআর কাবিখা প্রকল্পে দুর্নীতি, জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পে দুর্নীতি ও স্কুলে দফতরি কাম প্রহরী নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের দুর্নীতির সংবাদ যাতে প্রকাশ না হয় সেজন্য তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ৫-৬ দিন আগে ইউএনও কামারখন্দের সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময়ে তিনি বলেছেন, কোনো নেগেটিভ নিউজ থাকলে জেলার কোনো সাংবাদিকরা কামারখন্দে এসে নিউজ করতে চাইলে অন্তত পক্ষে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি-সম্পাদকের সঙ্গে যেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। নিউজ প্রকাশ করার আগে উপজেলার প্রধান হিসেবে আমাকেও এ বিষয়ে অবহিত করা উচিত। অডিও ভাইরাল হওয়ার পর আমি বিষয়টি জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতিকেও অবগত করেছি।

সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রবিন ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জেহাদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। আমরা তার এ বক্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

এ বিষয়ে ইউএনও মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার উপজেলায় কোনো নেগেটিভ নিউজ হলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে অনেক সময় জবাবদিহি করতে হয়। যেহেতু সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি, তাই কামারখন্দের যে কোনো নেগেটিভ নিউজ করার আগে জেলার সাংবাদিকদের উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতাদের সঙ্গে আলোচনাসহ আমার মতামত নিলে ভালো হয়। আমি কাউকে আহত করার জন্য এমন মন্তব্য করিনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফিরোজ মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কামারখন্দ ইউএনওর অডিও বক্তব্য সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জানান, বিষয়টি শুনেছি। তবে অডিওটি শুনতে পারেনি। অডিওটি শুনে কামারখন্দের ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে তারপর আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারব। এর আগে এ ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব নয়।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত