প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটার বিমুখতায় শঙ্কিত ইসি

ডেস্ক রিপোর্ট : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ধাপে ধাপে ভোটার উপস্থিতি কমেছে। আর ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতায় শঙ্কিত নির্বাচন কমিশনও (ইসি)। একজন নির্বাচন কমিশনার এ নিয়ে লিখিত বক্তব্যও দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ভোট পড়েছে ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং শেষ ধাপের উপজেলা নির্বাচনে  চেয়ারম্যান পদে ৩৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত ১৮ জুন পঞ্চম তথা শেষ ধাপে ২২ উপজেলায় ভোট হয়, এর মধ্যে দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন

গত ১৯ জুন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, এবার উপজেলা নির্বাচনে সবচেয়ে আশঙ্কার দিক হচ্ছে ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতা। পাঁচ ধাপের উপজেলা ভোট শেষে এ মন্তব্য করেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ না করায় এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল একতরফা। একতরফা নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, শেষ ধাপে ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৭ জন ভোটারের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৯ জন ভোট দিয়েছেন। এটা মোট ভোটারের ৩৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। এবারের উপজেলা নির্বাচন ‘জৌলুসহীন’ হয়ে পড়ার পর ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিও কম ছিল। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রথম ধাপে ভোটের হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ; দ্বিতীয় ধাপে তা কমে দাঁড়ায় ৪১ দশমিক ২৫ শতাংশে। তৃতীয় ধাপে ৪১ দশমিক ৪১ শতাংশ ও চতুর্থ ধাপে ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। সব মিলিয়ে পাঁচ ধাপে গড়ে এবার ভোট পড়েছে ৪০ দশমিক ২২ শতাংশ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অর্ধেক ভোটের হার উপজেলা নির্বাচনে। ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে ৮০ দশমিক ২০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে ইসি। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আগের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গড়ে ৬১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ২০০৯ সালের নির্বাচনে ভোটের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

উপজেলায় নৌকার দুই-তৃতীয়াংশ চেয়ারম্যান : পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেশের দুই-তৃতীয় উপজেলায় চেয়ারম্যান হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। নৌকা প্রতীক তিন শতাধিক উপজেলায় জয়ী হলেও দলটির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্ররা মিলে পেয়েছেন তাদের অর্ধেকই। পাঁচ ধাপের বাইরে নানা কারণে স্থগিত কয়েকটি উপজেলার ভোট ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ৪৯২ উপজেলার মধ্যে বাকিগুলোয় মেয়াদোত্তীর্ণ বিবেচনায় ভোট করবে ইসি। ভোট হওয়া ৪৭০টি উপজেলার মধ্যে ১১৫টি উপজেলায় চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ইসি কর্মকর্তারা জানান, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৩১৭ জন নৌকা প্রতীকে জয় পান। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ১৪৯টি উপজেলায়; তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতা। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির তিনজন ও জেপির একজন চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি ভোটে না থাকায় এবারের উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্ধীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।

ফলাফল দলভিত্তিক : পঞ্চম ধাপে আওয়ামী লীগের ১৩ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জন ভোটে ও ৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী  ৯ জন ভোটে জিতেছেন। চতুর্থ ধাপে আওয়ামী লীগের ৮৯ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৯ জন ভোটে ও ৪০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। জাতীয় পার্টি-জেপি থেকে চেয়ারম্যান পদে একজন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩২ জন জিতেছেন এ ধাপে। তৃতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৮৩ জন (এর মধ্যে ভোটে জিতেছেন ৫২ জন, বাকিরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), জাতীয় পার্টির একজন, স্বতন্ত্র ৩৮ জন নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৭৪ জন নির্বাচিত হন; এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৩ জন। জাতীয় পার্টির ২ জন ও স্বতন্ত্র ৪৪ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন দ্বিতীয় ধাপে। প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান পদে ৫৮ জন নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে; এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৬ জন। আর ২৩ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত