প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জবাবদিহিতা ও ভোটের প্রয়োজন না থাকায় প্রশাসনের অঢেল সুবিধা বাজেটে, বললেন সাইফুল হক

ইউসুফ বাচ্চু : বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, জবাবদিহিতা ও ভোটের প্রয়োজন না থাকায় বাজেটে শ্রমিক, কৃষক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের উপেক্ষা করা হয়েছে। লুটেরা পুঁজিপতি, কালো টাকার মালিক, ঋণখেলাপি, বিত্তবান শ্রেণী এবং আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনকে জবাবদিহিতাহীন অঢেল বাড়তি সুবিধা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাজেটে প্রস্তাবিত প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক উন্নয়ন কৌশল কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও চরম দারিদ্র্য কমাতে পারবে না। স্বল্পসংখ্যক লোকের হাতে অর্থ ও সম্পদের আরো পুঞ্জিভবন ঘটাবে। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরো বাড়িয়ে দেবে।

বুধবার প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে দলটির সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন পার্টির কেন্দ্রীয় নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা আকবর খান, আনছার আলী দুলাল, মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মহানগর কমিটির মুক্তা ইসলাম, জোনায়েদ হোসেন, আবদুল জব্বার, ইমরান হোসেন প্রমুখ।

সাইফুল হক বলেন, বাজেট রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুন্ঠনকে জোরদার করে এক দেশে দুই অর্থনীতির ধারাকে শক্তিশালী করবে। বাজেট মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সরকারি দলের বৈষম্য হ্রাসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও পরিপন্থী।

সংবাদ সম্মেলনে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় হ্রাসসহ বাজেট সম্পর্কে দলটির পক্ষ থেকে ১৫টি প্রস্তাবনাও তুলে ধরা হয়। সাইফুল হক বলেন, অর্থনৈতিক মাফিয়াদেরকে বাজেটে যেসব সুবিধা দেয়া হয়েছে তাতে ব্যাংক ও আর্থিক খাতসহ অর্থনীতিতে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও নৈরাজ্য আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বাজেটের নীতি-দর্শন একদিকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী আর অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ধিত ‘বৈষম্য’ বিলোপেরও পরিপন্থী। তিনি বলেন, এই বাজেট স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ-দুর্গতিকে আরো বাড়িয়ে দেবে। তিনি রাজস্ব ব্যয়সহ অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় কমিয়ে উৎপাদনশীল ও সামাজিক খাতে ব্যয় বরাদ্দের আহ্বান জানান।

পাটির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে অনুন্নয়ন খাতে বাজেট বরাদ্দ কমিয়ে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। রাজস্ব ব্যয়সহ অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ কমিয়ে শিল্প-কৃষির মতো উৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ বাড়ানো আবশ্যক। সরকার পরিচালনার খরচ যথাসম্ভব কমিয়ে আনা দরকার। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অপচয় বন্ধে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত