প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতির বেহাল দশা কাটবে কীভাবে?

বিভুরঞ্জন সরকার : আগের দিনের খবর : খালেদা জিয়াসহ মোট পাঁচজন বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। পরের দিনের খবর : বেগম জিয়া মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর দানে অসম্মতি জানিয়েছেন। তিনি বগুড়ার উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এই ঘটনা থেকে আবার এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, বিএনপিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়হীনতা চলছে। জেলের ভেতরে থাকা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাবনা-চিন্তার সঙ্গে জেলের বাইরের সিনিয়র নেতাদের চিন্তার মিল নেই। আবার লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের চিন্তার সঙ্গে দেশের নেতাদের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। এতোদিন শোনা গিয়েছিলো, বেগম জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেই তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কিন্তু বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের ব্যাপারে দেখা গেলো, তারেক রহমান এবং বেগম জিয়ার চিন্তা এক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে না। বেগম জিয়া উপনির্বাচনে অংশ নিতে অনাগ্রহী। কিন্তু তারেক অংশগ্রহণের পক্ষে। বিএনপি এখন কার্যত এরকম এলোমেলো অবস্থায়ই চলছে। বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়ে সংসদে গেলে বেগম জিয়ার কারামুক্তির যে সম্ভাবনার কথা শোনা গিয়েছিলো সেটাও বাস্তবে সঠিক না হওয়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। বেগম জিয়ার মুক্তির কোনো আভাসই পাচ্ছেন না নীতিনির্ধারকরা। তাদের কি করা উচিত তা-ও হয়তো বুঝে উঠতে পারছেন না। আন্দোলন করে হবে না, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ। বাকি থাকে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা। সমঝোতার প্রকাশ্য উদ্যোগ দেখা যায় না। চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে সম্মত হলে একটি অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা প্রচার হলেও বাস্তবে তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বেগম জিয়া কি প্যারোলে মুক্তি চান না?

এদিকে গত ২৪ মে এক সংবাদ সম্মলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে, সরকার ছলচাতুরি করে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায় কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন মির্জা আলমগীর।

আবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলার মতো অমানবিক ও নিষ্ঠুর কাজ শেখ হাসিনার সরকার করবে না। বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ভয়াবহ চিত্র বিএনপির পক্ষ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে তিনি জেলে যাওয়ার পর থেকেই। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার অবস্থা গুরুতর বলে মত দিচ্ছেন না। তবে এটা ঠিক যে, তিনি অসুস্থ। সে জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিএনপি তাকে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। সরকার মনে করছে, বিএসএমএমইউতেই খালেদা জিয়ার উপযুক্ত চিকিৎসা সম্ভব এবং হচ্ছে।

বেগম জিয়ার কারাবাস তার দলকেও কার্যত নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছে। বিএনপি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে বেহাল অবস্থায় আছে। নির্বাচনের পর বিএনপির সমস্যা বেড়েছে। দলটি ক্রমাগত অস্তিত্ব সংকটের দিকেই যাচ্ছে। বেগম জিয়াকে মুক্ত করার কোনো উপায় তাদের সামনে খোলা আছে বলেও এখন আর মনে করা হচ্ছে না। সম্প্রতি ভারতের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসায় বিএনপিতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার সরকার বিএনপির সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাওয়ার গরজ বোধ না করারই কথা। পরিস্থিতি সরকারের অনুকূলে এবং নিয়ন্ত্রণে। বিএনপিকে রাজনীতিতে জায়গা পেতে হলে সরকারের প্রতি নমনীয়তা না দেখিয়ে উপায় আছে বলে মনে হয় না।
লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ