প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ঔষধ থেকে বঞ্চিত রোগীরা

সাজিয়া আক্তার : কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ও উপজেলা থেকে হাজার খানেক মানুষ আসেন চিকিৎসা সেবা নিতে। জরুরী বিভাগ থেকে শুরু করে এমন কোনো বিভাগ নেই যার সামনে মানুষের ভিড় নেই। কিন্তু চিকিৎসা সেবা নিতে আসা এই মানুষদের প্রেসক্রিপশনে লিখা ঔষধের বেশিরভাগ ঔষধই কিনতে হয় বাহির থেকে। ‘ঔষধ নাই’ যেন তাদের নিত্যদিনের ঘটনা।

হাসপাতালে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের লোকজন বেশিরভাগ ভর্তি হয়ে থাকেন। ভর্তি হওয়া রোগীদের স্বজনরা সরকারি ঔষধের জন্য বললে বলা হয় ‘সাপ্লাই নাই’ । মুমূর্ষ অবস্থায় আসা জরুরী রোগীরা হাসপাতালে আসার পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্বজনদের বাহির থেকে ঔষধপত্র কিনে আনতে বলা হয়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ রোগীদের প্রেসক্রিপশনে ৩-৪ টি ঔষধ লিখা থাকলে ১-২ টি ঔষধ দিচ্ছে। ২০-২২ জন রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের বেশিরভাগ ঔষধই কিনতে হবে বাহির থেকে।

ভূক্তভোগী রোগী জানান, আমার স্ত্রীর সিজার করতে গিয়ে ৩টা ঔষধ ছাড়া সব ঔষধ বাহির থেকে কিনে আনতে হয়েছে। সিজার করার আগে ঔষধের একটা লিস্ট ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রাইট চিহ্ন দেয়া ঔষধ/ইনজেকশান/স্যালাইন বাহির থেকে কিনে আনতে হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে ডাক্তাররা রোগী দেখার পর নার্সরা স্লিপ দিয়ে যায় ঔষধ কিনে আনতে।

প্যাথলজি বিভাগের সামনে কি কি পরীক্ষা করা হয় তার কোন তালিকাও চোখে পড়েনি। প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত শ্যামলী রাণী দাস জানান, তালিকা ছিলো মনে হয় কেউ ছিড়ে ফেলছে। আর.বি.এস, এইচ.বি.এস.এ.জি, ভি.ডি.আর.এল পরীক্ষা কি হয় না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, স্টোর রুমে আগুন লাগার পর এইসব পরীক্ষা করার প্রায় সব রি-এজেন্ট আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা চাহিদাপত্র দিয়েছি। সামনে তা পাবো।

হাসপাতালের টিকেট কাউন্টার থেকে শুরু করে প্রতিটা ডাক্তার কক্ষের সামনে রোগীদের উপচে পড়া ভীড় থাকলেও ফার্মেসি কিংবা রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা কক্ষে রোগীদের খুব একটা ভীড় নেই। ফার্মেসি থেকে ঔষধ নেয়া কাকলী আক্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কম দামি ঔষধগুলাই নাকি হাসপাতাল থেকে দেয়া হয়, দামি ঔষধগুলো বাহির থেকে কিনতে হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে তালিকায় উল্লেখিত কতগুলো এবং কি পরিমান ঔষধ রোগীদের জন্য সরবরাহ করা হবে তা জেনে হাসপাতালের কর্মচারীরা এবং দালালরা ডাক্তারদের কাছে গিয়ে বলে “স্যার আমার দশটা ওমিপ্রাজল লাগবে’। অনেক ধরনের রোগ দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ নিয়ে যায় কর্মচারীরা এবং দালালরা। ঔষধ নিয়ে তারা বাহিরে বিক্রি করে দেয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত