প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপিকে যারা ভালোবাসে তাদের মূল্যায়ন হয় না, ঘাপটি মেরে থাকা লোকদের মূল্যায়ন হয়, বললেন খোন্দকার দেলোয়ার পুত্র ডাবলু

এইচ এম জামাল: বিএনপিকে যারা জীবন দিয়ে ভালোবাসে তাদের মূল্যায়ন হয় না। বরং ঘাপটি মেরে থাকা লোকদের মূল্যায়ন করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু। বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে দল গোছানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, হাইকমান্ডকে বুঝতে হবে, মূল্যায়ন করতে হবে, দলের জন্য যারা ডেডিকেটেড তাদের কথা চিন্তা করতে হবে। ঢাকা টাইমস

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মানিকগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে অনেক ঝড়ঝাপ্টা পোহাতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত দলের গুডবুকে না থাকলেও শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছিলেন ডাবলু। কিন্তু এর মাঝে মনোনয়ন হাতছাড়া হওয়ায় চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে অশ্রুসিক্ত হয়ে ফিরে আসেন তিনি।

দলের মনোনয়ন পাওয়া এসএ জিন্নাহ কবিরের পরিবর্তে আদালতের নির্দেশে সুযোগ পেয়ে নির্বাচন করে পঞ্চাশ হাজারের বেশি ভোট পান খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু। এই অবস্থার মধ্যে নির্বাচন শেষ করলেও দলের প্রতি ক্ষোভ কমেনি দেলোয়ার পুত্রের। তাই রাজনীতিতে সক্রিয় না থেকে এখন সময় দিচ্ছেন নিজের আইনি পেশায়।
ডাবলু বলেন, বিএনপি এখন দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসৎ লোক দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই রাহু থেকে মুক্ত হয়ে সঠিক ধারায় না আসলে বিএনপিকে আরো দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

১/১১এর পটপরিবর্তনের পর আবদুল মান্নান ভুঁইয়াকে বহিষ্কার করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে মহাসচিব নিযুক্ত করেন। দলের ত্যাগী নেতা হিসেবে নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত দেলোয়ার হোসেন। দলের ক্রান্তিকালে তিনি হাল ধরেছেন বলে নেতাকর্মীরা এখনো স্বীকার করছেন। তার পরিবারের সদস্যদের ভাবনা ছিল নির্বাচনে মনোনয়ন নিশ্চিত। কিন্তু গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি দেলোয়ার পুত্র ডাবলু।

বিএনপির কেন্দ্রয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাবলু ওই সময় বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কেঁদে ফেলেন। গত ৮ ডিসেম্বর রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান ডাবলু। সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আটকে দেয়। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশের এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন আবদুল হামিদ ডাবলু। তিনি বলেন,‘আমার বাবা এই দলের জন্য নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে গেছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমূলে শেষ করতে গুলশান অফিসে সংস্কারপন্থিরা আসন গেড়ে বসেছে।’

ডাবলু বলেন, আমার বাবা হাজার হাজার নেতাকর্মী তৈরি করেছেন। আজীবন দলের জন্য কাজ করেছেন। সেখানে আমাদের মনোনয়ন না দেয়ার কারণ কী। দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও আমি আদালতের নির্দেশে নির্বাচন করতে পেরেছি। এত সমস্যার নির্বাচনের মধ্যেও ৫৮ হাজার ভোট পেয়েছি। আসলে বিএনপিকে যারা জীবন দিয়ে ভালোবাসে তাদের মূল্যায়ন হয় না। নিজের ব্যস্ততা সম্পর্কে ডাবলু বলেন, আমি এখন মূলত আইন পেশা নিয়ে ব্যস্ত আছি। সেখানেই বেশি কাজ করছি। আর লোকাল পলিটিক্সে কিছুটা সময় দিচ্ছি। এর বাইরে আর কোনো ব্যস্ততা নেই আপাতত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত