প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানুষ ধরেই নিয়েছে নেতা-মন্ত্রীরা ঘুষ খাবে, বাদশা মৈত্রের অকপট অভিব্যক্তি

রাশিদ রিয়াজ : সরকারের প্রতি মোহগ্রস্ত না হয়ে জনস্বার্থে আওয়াজ তোলেন ভারতের অভিনেতা বাদশা মৈত্র তাদের একজন। চলতি লোকসভা নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন এই প্রতিভাবান অভিনেতা? একান্ত সাক্ষাতকারে নির্বাচনে কারচুপি, বোমাবাজি, হিংসা।

বাদশা মৈত্র: যা হচ্ছে তা অভিপ্রেত নয়। এসব থামাতে হলে যারা ক্ষমতায় থাকেন তাদের দায়িত্ব নিতে হয়। যদিও নির্বাচনের সময় সবটাই নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে যায়। সেক্ষেত্রে অনভিপ্রেত কিছু ঘটলে তার দায় ইলেকশন কমিশনের ওপর বর্তায়। তবে আমি মনে করি, রাজ্য প্রশাসনও এর দায় এড়াতে পারে না। শুধু নির্বাচনের কয়েকটা দিন নিয়ে ভাবলে হবে না। রাজ্যে সারা বছর ভয়মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। তবেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব।

প্রশ্ন: কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় ভয়মুক্ত নির্বাচন হতে পরে?

বাদশা মৈত্র: কেন্দ্রীয় বাহিনী আর কতদিন একটা অঞ্চলে থাকে! কাদের ভরসায় সাধারণ মানুষকে সারা বছর থাকতে হয়? স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় নেতৃত্ব– তারাই তো শেষ কথা। সুতরাং নির্বাচনে মুক্ত পরিবেশ পেতে হলে সারা বছর ধরে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। সারা বছর ভয়মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে পারলেই নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে।

প্রশ্ন: চলতি নির্বাচনে বামপন্থায় বিশ্বাস রাখায় জন্য আপনি বসিরহাটের সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান রেখেছেন।

বাদশা মৈত্র: বামপন্থায় আমার বিশ্বাস আছে। ৩৪ বছর ধরে বামপন্থীরা সরকার চালিয়েছে। বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ আমরা এটুকু বুঝতে পেরেছি, সততা-স্বচ্ছতার নিরিখে নিরপেক্ষ তুলনামূলক বিচারে এই দেশে বামপন্থীরা এগিয়ে। যারা বর্তমানে সরকার চালাচ্ছে তারাও সেটা এক ভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন। এ জন্যই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আজকের মুখ্যমন্ত্রী সততার প্রতিমূর্তি বলে মেনে নিয়েছেন। আদ্যোপান্ত সৎ ও ভদ্রলোক বলতে বুদ্ধদেবকেই মনে করেন মমতা। ৩৪ বছর সরকার চালানোর পরেও, সেই সময় যারা মন্ত্রিত্ব চালিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অনেক চেষ্টা করেও বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারেনি। তাই আমি বামপন্থার সমর্থক। বামপন্থীরা নানা বিষয়ে বিকল্প ভাবনার জন্ম দিয়েছে। যে পথে চলছে গোটা পৃথিবী, তার বাইরেও যে ভাবা যেতে পারে বামপন্থীরাই সেই ভাবনাটার জন্ম দিয়েছে। তাই আমি মনে করি যদি বামপন্থীরা শক্তিশালী হয় তাহলে সংসদে স্বছতা বজায় থাকবে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে যাবে। সেটা দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য ভাল হবে বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন: পরিবর্তন এক দশক পেরোতে চলল। কতটা পরিবর্তন হয়েছে বলে রাজ্যবাসী হিসেবে আপনি মনে করেন?

বাদশা মৈত্র: আজ যারা ক্ষমতায় আছেন তারা বামেদের খারাপ দিকটাকেই সম্পূর্ণ ভাবে আত্মস্থ করেছেন। বামেদের সময় কোনও সমাজবিরোধী ছিল না এমনটা নয়। কিন্তু তাদের ওপর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু আজ আমরা দেখতে পাই, তারাই নানাক্ষেত্রে প্রসাশন নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের ভয়ে পুলিশ টেবিলের তলায় মুখ লুকোচ্ছে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে চুরি করা বা ঘুষ খাওয়াটা আর অপরাধ বলে গণ্য হচ্ছে না। মানুষ ধরেই নিয়েছে নেতা-মন্ত্রীরা ঘুষ খাবে। এটাই পরিবর্তনের ফসল। এই অভিজ্ঞতা আগে আমাদের ছিল না এবং এটা কাম্য নয়। বামপন্থীদের একটা অংশের কিছু কার্যকলাপ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সেই অংশটার পরিবর্তন চেয়েছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু পরিবর্তনের ফলে যেটা হয়েছে, ওই খারাপ অংশটাই আজকের শাসকদল রাজ্যের সামগ্রিক চেহারায় পরিণত করেছে।

প্রশ্ন: কিছুদিন আগে এক অজানা কারণে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত প্রেক্ষাগৃহে ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিটা দেখানো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আপনি সিনে জগতের মানুষ। এ ব্যাপারে কী বলবেন?

বাদশা মৈত্র: এমন ঘটনা আমার জীবদ্দশায় দেখিনি। একটা ছবি পরিকল্পনা করে গোটা পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ করে দেবার দৃষ্টান্ত আমার দেখা এই প্রথম। আগের আমলে এমন ঘটনা দেখিনি। এই আমলেও প্রথম দেখলাম। এটা অভাবনীয় ঘটনা। এমনটা হতে পারে দেখে আমি বিস্মিত। এতে মানুষের মুক্ত চিন্তা করার অভ্যেস বন্ধ হয়ে যায়। কোনও কিছু প্রকাশ করবার আগে একজন শিল্পী-সাহিত্যিককে দশবার ভাবতে হয় তার ফল কী হতে পারে! এটা সুস্থ ভয়মুক্ত সংস্কৃতির পরিবেশ নয়। কোলকাতা ২৪

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত