প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইফতারের প্রথম মুহূর্তে রোজা ভাঙা সুন্নত, বিলম্বে হয় মাকরুহ

ডেস্ক রিপোর্ট : স‚র্যাস্তের পরপর আহার গ্রহণের মাধ্যমে রোজার যে পরিসমাপ্তি করা হয়, তাকে ইফতার বলে। বিলম্ব না করে যথাসময়ে ইফতার করা সুন্নত। রমজানের অপরিহার্য একটি অংশ ইফতার, যা সেহরি খাওয়ার মতোই ইবাদত। খেজুর দ্বারা ইফতার করা সুন্নত। তা না থাকলে পানি দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব। সমকাল।

হজরত ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাস‚ল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রাত সেদিক থেকে ঘনিয়ে আসে, দিনও এদিক থেকে চলে যায় এবং সূর্য ডুবে যায়, তখন সায়িম তথা রোজাদার ইফতার করবে। (সহিহ বুখারি) হাদিসমতে, যখন সূর্যাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়, তখন ইফতার করে নিতে হবে। তখন আর আপনাকে সাইরেন কিংবা আজানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

কি দিয়ে ইফতার করবে- এ প্রসঙ্গে হজরত সালমান ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ ইফতার করে, তবে সে যেন খেজুর কিংবা খোরমা দিয়ে ইফতার করে। কারণ, তা হচ্ছে বরকত। আর তা না হলে পানি দিয়ে করবে, তা তো পবিত্রকারী। (তিরমিজি, ৬৯৫)

ইফতারির সময় হওয়ার আগ থেকে ইফতার নিয়ে বসে থাকা ইবাদত। অনেকেই ইফতারির সময় হওয়ার পরও অহেতুক বিলম্ব করে থাকেন। বিলম্বে ইফতার করা উচিত নয়। এতে মাকরুহ হবে। হজরত সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাস‚ল (সা.) বলেছেন, মানুষ ততো দিন কল্যাণের ওপর থাকবে, যতো দিন তারা অবিলম্বে ইফতার করবে। (বুখারি, ১৯৫৭)
ইফতার তাড়াতাড়ি করা রাসূলের (সা.) কাছে তো প্রিয়, স্বয়ং আল্লাহর কাছেও প্রিয়। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে সেই বেশি প্রিয় যে তাড়াতাড়ি ইফতার করে। (তিরমিজি, ৭০০)

হজরত আবু আতিয়্যাহ (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, একবার আমি ও মাসরুক হজরত আয়েশা (রা.)-এর নিকট গিয়ে বললাম – হে উম্মুল মুমিনিন! রাসূলের (সা.) সাথীদের মধ্যে দু’জন এমন আছেন, যাদের একজন অবিলম্বে ইফতার করেন এবং অবিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। আর অপরজন বিলম্ব করে ইফতার করেন এবং বিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, দু’জনের মধ্যে কে অবিলম্বে ইফতার করেন এবং অবিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন? আমরা বললাম, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এভাবেই করতেন। (মুসলিম, ১০৯৯)

আরেক হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আল্লাহর হাবিব (সা.) এরশাদ করেছেন, এ দ্বীন ততো দিন বিজয়ী থাকবে, যতো দিন পর্যন্ত লোকেরা ইফতার তাড়াতাড়ি করতে পারবে। কারণ, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা দেরিতে ইফতার করে থাকে। (আবু দাউদ)

রোজাদারকে ইফতার করানোর মধ্যেও রয়েছে সীমাহীন সওয়াব। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, এর দ্বারা তার গুনাহ ক্ষমা করা হবে এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়া হবে। আর রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব তাকে দান করা হবে অথচ রোজাদারের সওয়াব একটুও কমানো হবে না। সাহাবারা আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে সবার তো রোজাদারকে ইফতার করানোর মতো সঙ্গতি নেই! রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যে কেউ কোনো রোজাদারকে একটি মাত্র খেজুর দিয়ে বা পানি পান করিয়ে অথবা এক ঢোক দুধ দিয়ে ইফতার করাবে, মহান আল্লাহ তাকে এই সওয়াব দান করবেন। (সহিহ ইবনে খুজাইমা, ১৮৮৭)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত