শিরোনাম
◈ এক যুগের বেশি সময় পর ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত, বদলে যাচ্ছে সড়কের নকশা ◈ সুখবর পেলেন ঋতুপর্ণারা, ফিফা নারী র‍্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে ১০৬ নম্বরে বাংলাদেশ ◈ রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন তারেক রহমান ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে স্টোর ভবনে আগুন ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর ২৬ অক্টোবর, সই হবে অন্তত ৪ সমঝোতা স্মারক ◈ যে কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি, নেপথ্যে যা জানা গেল ◈ জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জরুরি নির্দেশনা ◈ ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দিল্লি থেকে টাকা আসছে কলকাতায়, উসকানি ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ থেকে: দিলীপ ঘোষ ◈ ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ কার্যকর ◈ নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, চালকসহ ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত

প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল, ২০১৯, ০৭:১৭ সকাল
আপডেট : ২৮ এপ্রিল, ২০১৯, ০৭:১৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইসলাম ধর্ম সম্পত্তিতে নারীর উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেছে, বললেন প্রধানমন্ত্রী

মারুফুল আলম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেকসময় দেখা যায়, বাবা মা’র সম্পদে মেয়েদের উত্তরাধিকার সঠিকভাবে বন্টন হয় না। পৃথিবীতে বোধহয় একটিমাত্র ধর্ম আমাদের ইসলামই নারীর উত্তরাধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু এরপরও মেয়েরা সে উত্তরাধিকার থেকে অনেক সময় বঞ্চিত হয় বা তাদের ভাইয়েরা সম্পদ দিতে চায় না।

রোববার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের নানা অন্ধকার যুগের কথাও আমি শুনেছি। বস্তি এলাকার ছোট ছেলে মেয়ে আর মহিলাদের কাছে জেনেছি, কেন তারা রাস্তায় নেমে এসেছে। ভাই ভাইকে খুন করেছে অথবা আত্মীয়স্বজনকে খুন করে সম্পত্তি দখল করে ভাইয়ের স্ত্রী সন্তানদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের স্থান হয়েছে বস্তিতে। ছেলেমেয়ে হয়ে গেছে টোকাই। আর মহিলার ভাগ্যে জুটেছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করে খাওয়া অথবা পতিতা। এইরকম সামাজিক অবিচারের দিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে।

এসময় তিনি বাবা ও স্বামীর সম্পদে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে আইনজীবী ও বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যেই দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে চাই। এজন্য সমাজে প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে আদালতগুলোতে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপর দিকে আপোষ যোগ্য মামলাগুলো মধ্যস্ততার অভাবে দীর্ঘ সময়ের পর নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই অবস্থান থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার বিকল্প পদ্ধতি মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য উৎসাহিত করছে।

‘গ্রামের অনেক অসহায় মানুষই গ্রাম্য শালিশ বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দারস্ত হন। কিন্তু শালিশকারিদের অনেকেরই আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাই ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে এই সেবা বাস্তাবায়নের উদ্দেশ্যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যেন সঠিক ধারণা অর্জন করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায় সম্বলহীন ও নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে দেশের কোনো নাগরিক যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ প্রণয়ন করেছি।’

অসহায়, দরিদ্র ও নিঃস্ব জনগণকে বিনা খরচে সরকারি আইন সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জেলা লিগ্যাল এইড অফিসসমূহ ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’র কেন্দ্রস্থল হিসেবে মামলার পক্ষসমূহের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করছে, যা সারাদেশের আদালতসমূহে মামলাজট হ্রাস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম স্বপ্ন ছিল সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও সুবিচার নিশ্চিত করা। তিনি ১৯৭২ সালে মহান সংবিধানে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সব নাগরিকের আইনের আশ্রয় পাওয়ার সমানাধিকার নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশে আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়। ’৭৫ পরবর্তী বিএনপি-জামাত জোট সরকার হত্যা, দমন, নির্যাতন ও নিপীড়নের রাজত্ব কায়েম করে। সুবিচারের পথ রুদ্ধ করে দেয়। দেশের জনগণ আইনগত সহায়তা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

  • সর্বশেষ