প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্যাম্পাস আমরা বিনা চ্যালেঞ্জে সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দেব না : লিটন নন্দী

রিয়াজ হোসেন : বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন ডাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছাত্রনেতা লিটন নন্দী বলেছেন এতদিন অধিকার আধায়ের প্লাটফর্ম ডাকসুর কণ্ঠস্বরকে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল ফলে তার মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছে । আমরা মনে করি, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচনের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সেটি আমাদের মাঝে মেধাভিত্তিক রাজনীতির বিকাশ ঘটাবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটাবে এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সকল ধারণার অপমৃত্যু ঘটেছে সেই সকল ধারণা পুনর্জন্ম লাভ করবে।

শনিবার আমাদের সময় ডট কমকে দেয়া একন্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা এ বছরের ডাকসু নির্বাচনকে শুধুমাত্র একটি নির্বাচন হিসেবে দেখছি না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ধারণাগত ও গুণগত পরিবর্তনের স‚চনা হিসেবে দেখছি। প্রশাসন দীর্ঘ সময় পরে যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি নিশ্চই প্রশংসিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ডাকসু নির্বাচনটাকে আয়োজন করতে চাচ্ছে, সেই উদ্যোগ আমাদের মধ্যে অনেক সংশয় আর উৎকন্ঠার জন্ম দিয়েছে।

হলগুলোতে প্রশাসনের কার্যকর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই উল্লেখ করে লিটন নন্দী বলেন, ছাত্রদের এবং অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনের মতামতকে অগ্রাহ্য করে প্রশাসন ভোটকেন্দ্রগুলো হলে স্থাপন করেছে। তারা ক্লাসরুম ক্যাম্পেইনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার মধ্য দিয়ে হলের বাইরে যে সকল শিক্ষার্থী অবস্থান করছে তাদের কাছে যেন আমরা আমাদের বক্তব্য , প্যানেল নিয়ে পৌছাতে না পাড়ি সেই আয়োজনই তারা করেছে।

তিনি বলেন, ডাকসুর নির্বাহী কমিটির সঙ্গে সভাপতি বা ভাইস চ্যান্সেলরের যে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, সেখানে ভারসাম্য আনার কথা আমরা বলেছিলাম, কিন্তু সেটিও তারা করেনি। সর্বোপরি তারা এমন একটি আয়োজন করেছে, যে আয়োজনটি একটি নির্দিষ্ট দলকে জেতাবার জন্যই তারা করেছে। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এর জবাব দেবে । সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় করে নিবে।

লিটন নন্দী বলেন , ক্যাম্পাসে এই মুহ‚র্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এখানে মুক্ত মত প্রকাশের সুযোগ নেই। সেখানে শিক্ষার্থীদের মতের বিপরীতে গিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার রাজনীতি করতে বাধ্য করা হয় এবং এখানে এক ধরনের মনুষত্বহীন রাজনীতির চর্চা করা হয় গণরুমকে কেন্দ্র করে গেস্টরুম নামক এক নির্যাতন কারখানার মধ্য দিয়ে। এটির অবসান করা দরকার।

তিনি বলেন, কলেজিয়েট, নন-কলেজিয়েট,ডিসকলেজিট প্রথার উচ্ছেদ প্রয়োজন এবং পরিবর্তে শিক্ষক ম‚ল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। কারণ, আমরা মনে করি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বসুলভ এবং এখানে উভয়পক্ষের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের সহায়ক পরিবেশ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জাতির একটি সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে কখনো শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে নন-কলেজিয়েট আর ডিসকলেজিয়েটের মত ভয় দেখানোর প্রথা থাকতে পারে না। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন জ্ঞান চর্চার প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে নামে-বেনামে ডিপার্টমেন্টের ফি বৃদ্ধি করা হয়, এখানে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স এবং মাস্টার্সের নামে সার্টিফিকেট বিক্রি করা হয়। আমরা মনে করি একটি বিশ্ববিদ্যালয় একবেলা পাবলিক আর একবেলা ব্যবসায়িক বা প্রাইভেট উদ্দেশ্যে পরিচালিত হতে পারে না।

প্যানেলের বিষয়ে জোটের এই শীর্ষ নেতা বলেন আমরা ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছি প্রগতিশীল, উদারনৈতিক ও গণতন্ত্রমনা সকল ব্যক্তি এবং সংগঠনকে নিয়েই একটি বৃহত্তর ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। ইতিমধ্যে আমরা বিভিন্ন আদিবাসী ছাত্র সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মঞ্চের পাশাপাশি যে সকল ইন্ডিভিজুয়াল বা ব্যক্তি রয়েছেন তাদের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি। এছাড়া আমরা প্রগতিশীল ছাত্র জোট এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য আমরা ঐক্যমত পোষণ করেছি নির্বাচন এবং আন্দোলনের ব্যাপারে। প্যানেল প্রায় চ‚ড়ান্ত করে ফেলেছি এবং আমরা কালকের মধ্যেই চ’রান্ত প্যানেল ঘোষণা করব।

প্রচারণার বিষয়ে লিটন নন্দী বলেন আমরা শিক্ষার্থীদের মাঝে যাচ্ছি, আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি শতকরা ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোটকেন্দ্র হলগুলোতে চায় না, কারণ হলগুলো ক্ষমতাসীনদের দুর্গে পরিণত হয়েছে। তারা ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে চায় এটার মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয় যে তারা গেস্ট রুম নির্যাতনকে না বলছে, গণরুমের অত্যাচারকে না বলছে, ছাত্রলীগের আধিপত্যকে না বলছে। একই সঙ্গে, তারা চায় একটি গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়, একটি প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, একটি বৈষম্যহীন বিশ্ববিদ্যালয় আমরা যে দাবিগুলো নিয়ে ইতিমধ্যেই বলেছি। ছাত্ররা আমাদের বক্তব্যকে গ্রহণ করছে এবং আমরা প্রত্যাশা করি ছাত্ররা যদি ভোট দেয়ার সুযোগ পায় তারা পশুত্বকে নয় মনুষ্যত্বকে জয়যুক্ত করবে এবং রড, হাতুড়ি ও হেলমেটের জবাব ব্যালটে দেবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত