প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বললেন, উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে

আমিরুল ইসলাম : বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্যমতে উচ্চশিক্ষায় পিছিয়ে রয়েছে নারীরা। উচ্চশিক্ষায় কীভাবে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো যায়? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেছেন, নারীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। নারীদের জন্য স্নাতোকোত্তর পর্যন্ত বৃত্তি বাড়াতে হবে এবং আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নারীদের উচ্চ শিক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা শুধু সরকারের কাজ না। নারীদের উচ্চশিক্ষায় পিছিয়ে যাওযার প্রধান কারণ হচ্ছে, মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া। বেশিরভাগ বাংলাদেশি পরিবার মেয়েদেরকে উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দিয়ে থাকতে চায় না। এটা একটা সামাজিক সমস্যা। এর কারণ হচ্ছে, পরিবারগুলোর ভিতরে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আছে, কিন্তু নারীশিক্ষার প্রতি আগ্রহটা একটা পর্যায় এসে থেমে যায়। সেখানে সরকারের কিছু করার নেই। নারীদের উচ্চ শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের নারীদের ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করা প্রতি অনাগ্রহ তৈরি করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে গবেষণা করার সুযোগ আছে, চাকরীর সুযোগ আছে, অনেককিছু করা যায়। নারীদের বিজ্ঞান বিষয় থেকে কিছুটা বঞ্চিত রাখা হয়। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি চারজনে একজন নারী। বিজ্ঞানে যারা পড়াশোনা করে, তারা সবাই শেষ করে। কেউ আধা সমাপ্ত করে চলে যায় না। যারা মানবিকে পড়ে, তারা আধা সমাপ্ত করে চলে যায়। সেজন্য মেয়েদেরকে বিজ্ঞান শিক্ষা দিতে হবে অনেক বেশি। টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা যেটায় চাকরির নিশ্চয়তা আছে, সে বিষয়ে পড়তে আগ্রহী করে তুলতে হবে। মেয়েদেরকে ক্যারিয়ার তৈরির জন্য উৎসাহ দেয়াটা বিদ্যালয় থেকে শুরু করে শিক্ষকদেরও দায়িত্ব এবং সমাজেরও দায়িত্ব। মেয়েদেরকে ইতোমধ্যে এইচএসসি পর্যন্ত বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এই বৃত্তিটা যদি আর একটু বাড়িয়ে অনার্স পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায় তাহলে অনেক মেয়ে অনার্স ও ডিগ্রি পর্যন্ত পড়তে পারবে। বিশেষ করে যারা পশ্চাৎপদ এলাকা থেকে এসেছে এবং অথনৈতিকভাবে খুব শক্তিশালী নয়, এধরনের পরিবারের মেয়েদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা উচিত। এটা করা হলে অনেকেই পড়তে উৎসাহী হবে। সরকার এইচএসসি পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছে, সেটা যথেষ্ঠ। সরকার এখন যেটা করতে পারে, সেটা হচ্ছে এ বৃত্তি বড়াতে পারে।

তিনি আরো বলেন, মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল নেই বলে অনেকে মেয়েদের চাকরি করতে দেয় না, বিয়ে দিয়ে দেয়। চাকরিজীবী মেয়েদের আবাসনের জন্য সরকার পর্যাপ্ত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল তৈরি করে দিতে পারে। মেয়েরা চাকরিতে একা থাকতে পারবে একটা শহরে এরকম নিশ্চয়তা পেলে মেয়েরা পড়াশোনা করবে। প্রত্যেক জেলায় জেলায় কয়েকটি করে মহিলা হোস্টেল তৈরি করতে পারলে অনেক মেয়ে পড়াশোনা শেষ করতে উৎসাহী হবে। মেয়েদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মেয়েদের জন্য সত্যিকার অর্থে ভালো বাস থাকলে এবং চলাচলের ব্যবস্থা সহজ হলে অনেক মেয়ে পড়াশোনা করতে উৎসাহী হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার খরচ বেশি হয়ে যাওয়ায় সেখানেও বৃত্তি ব্যবস্থা করা দরকার। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ শতাংশ বৃত্তি দিতে হবে এটা ইউজিসির নিয়ম। সেখানে আরো দুই শতাংশ বাড়ানো গেলে খুব সুবধা হবে। ছেলেদের জন্য ২ শতাংশ ও মেয়েদের জন্য পাঁচ শতাংশ রাখা হলে অনেক মেয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহী হবে। প্রত্যেকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত আবসন সুবধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মেয়েদের আবাসন ব্যবস্থা করতে বাধ্য করা উচিত। আবাসন নিশ্চিত করা গেলে অনেক মেয়ে তখন পড়তে উৎসাহী হবে। শিক্ষা সমাপ্ত না করে মেয়েদের বিয়ে দেবো না, এই যদি সমাজ বিশ্বাস করে ও স্লোগান হয়ে ওঠে তাহলে মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথে আর কোনো বাধা থাকবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত