প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘুরে দাঁড়াতে দলে পুর্নবাসন চান ড. মোশাররফ

শিমুল মাহমুদ : চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজপথে ঘুরে দাঁড়াতে দলে পুর্নবাসনের কথা বলেছেন বিএনপির স্থাওয়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এই জন্য দলে পুর্নবাসন করতে হবে। বিগত দিনে দলের যারা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের পাশে দলের নেতারা এবং যারা নির্বাচনে প্রার্থীদের দাঁড়াতে হবে।

শুক্রবার(৮ ফেব্য়ারুরি) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘গণতন্ত্রের মা বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং দেশব্যাপী বিএনপির বন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে’ এর আয়োজন করে বিএনপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঐক্যবদ্ধ ও সু-সাহস নিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আমরা ঘুরে দাঁড়াবো। এই জন্য সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, ৮০ ভাগ মানুষ ধানের শীষের ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তত ছিল। এটা সরকারের কাছে গোপন থাকেনি। তাই ২৯ তারিখ সরকার ভোট সম্পুন্ন করেছিল।

তিনি আরো বলেন, ৩০ তারিখ এ দেশে কোনো ভোট হয়নি৷ ২৯ তারিখ ভোট হয়েছে এটা আমেরিকার প্রসিডেন্টসহ দেশি-বিদেশী সবাই জানে।

সরকারের মন্ত্রী পরিষদ গঠনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বাইরে রেখে মন্ত্রী সভা গঠন করা হয়েছে। আর দেশে কোনো ভোট হয়নি। এই দুটি অস্বাবিক ঘটনার ফলে সরকার বেশি টিকে থাকতে পারবে না।

খালেদা জিয়াকে বেশি দিন আটকে রাখা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধানের শীষের ভোট দিতে পারলে এত দিনে খালেদা জিয়া মুক্ত হতেন। সরকার জানে দিনের বেলায় ভোট হলে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারবে মা। তাই তারা রাতের বেলায় ভোট করছে।

তিনি বলেন, বিএনপি পরাজিত হয়নি। আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়ছে। কারণ তারা একজনও নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারেনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দলকে পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন করতে হবে। তাহলেই কেমন আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনতে পারবো।

তিনি বলেন, তৃণমুল থেকে দল পুনর্গঠন কতে হবে। যারা খালেদা জিয়ার জন্য সংগ্রাম করেছে তাদের ওপরে জায়গা দিতে হবে। দল পুর্গঠন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি সম্পন্ন ভিত্তিহীন মামলায় সরকারের কুটকৌশলে তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তাকে ৫ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে রেওয়াজ অনুযায়ী এ মামলার আপিলের ফাইল সাবমিট করলেই তা মুন্জুর হয়ে যায়। আশা করে ছিলাম সাত দিনের মধ্যে জামিনে মু্ক্ত হয়ে যাবে। কিন্ত সময় পিছিয়ে পরবর্তিতে জামিন আনার দুটি মানহানি মামলা দেয়া এটা সরকার

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আইনী প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মু্ক্তি হবে না। আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তাই আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন।

সংলাপের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমাদের একটি দাবিও মানা হয়নি। তারপরও কেন নির্বাচনে গিয়েছিলাম। কারণ ৭৮ হাজার মামলা দেয়া হয়েছে। নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা সাবাক রাজনীতে আসতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, দুটি কারণে আমরা নির্বাচনে গিয়েছিলাম, আশা ছিল, মানুষ ভোট দিতে পারলে আমরা জয়ী হবো। আর সেদিন আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে বাধ্য হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে গিয়েছিলাম। কিন্ত কিছুই করতে পারিনি। আন্দোলন করতে হলে সংগঠন লাগে। গত ১০ বছর অনেক কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। কিন্ত কি দেখলাম মনে হয় কিছুই করা হয়নি।

বিগত নির্বাচনে প্রার্থীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রার্থীদের উচিত হবে, যারা মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজকে এক বছর হলো রাজনীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তাকে কি আইনী প্রক্রিয়ায় মুক্ত করা যাবে?। আমরা নেত্রীকে রাজনীতিকভাবেই মুক্ত করে আনবো।

তিনি বলেন, কারাগারে থেকে আজকে গণতন্ত্রের জন্য মূল্য দিচ্ছেন। তাই আমাদেরকে রাজপথ আন্দোলন করে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনবো।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আবার প্রধানমন্ত্রী করার জন্য আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতির বক্তব্যে বলেন, এক বছরে আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারিনি। অামরা ব্যর্থ। এর থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। নেত্রী আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
তিনি বলেন, আসছে আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিতে হবে। অঙ্গ সংগঠন গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আইনী প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নিজেরা বাঁচতে চাইলেও আন্দোলন করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী,ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের যৌথ সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসে।বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ,ড:আব্দুল মঈন খান,গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী,বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন,আহমেদ আজম খান,চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম আতাউর রহমান ঢালী, আবুল খায়ের ভূঁইয়া,যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুব উদ্দীন খোকন,মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,স্বেচ্ছাসেব দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাসিম হোসাইন,মহিলা দলের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হেলেন জেরিন খান,ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স,প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত