প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাউবো’র তিতাস নদীর মাটি খেকো প্রকল্প পরিচালকের দুর্নীতির আমলনামা ও খতিয়ান বড় হচ্ছে

পিএনএস (মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার) : ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার তিতাস নদী পূণ:খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বরাবরই দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী হিসেবে চিহ্নিত। পাউবো’র বিভিন্ন বড় কাজ ডিপিএম-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সাব-কন্ট্রাক্টরকে পাইয়ে দিয়ে তাদের নিকট থেকে বড় অংকের কমিশন আদায় তার মূল পেশায় পরিণত হয়েছে। নোয়াখালীতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি কি পরিমান লুটপাট করেছেন তা কিংবদন্তী হয়ে আছে এখনও। নোয়াখালীতে তার অধীনস্থ সকলেই তার কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। তথ্য- পিএনএস নিউজ

সূত্র মতে, তিতাস নদী পূণ:খনন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পাউবো’র স্বার্থের বদলে সাব-কন্ট্রাক্টরদের স্বার্থকে বড় করে দেখে থাকেন। আর সে কারণেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সভায় যোগদান করে তিনি সাব-কন্ট্রাক্টরদের ব্যাপারে সাফাই গেয়ে থাকেন। সাব-কন্ট্রাক্টরদের নানবিধ দোষ ঢাকতে তিনি তাদের গুণকীর্তণ করেন পাউবো এবং মন্ত্রণালয়ের সভায়। অনেকেই রসিকতা করে বলেন, তিতাস নদী পূণ:খনন প্রকল্পের পিডি সাব-কন্ট্রাক্টরের সাব-কন্ট্রাক্টর। সাব-কন্ট্রাক্টরদের অনৈতিক সহযোগিতা প্রদান করে তাদের নিকট থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হতে তিনি মরিয়া। এতে পাউবো’র ক্ষতি কতোটা হলো তা দেখার সুযোগ এই দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর নেই বললেই চলে। এভাবে দুর্নীতি করেই মীরপুর সিদ্ধান্ত স্কুলের একজন শিক্ষকের পুত্র বিশাল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁর সম্পদের হিসাব নিলে কেঁচো খুড়তে সাপ বের হয়ে আসবে। তবে এই ধরণের দুর্নীতি শুধু তিতাস নদী প্রকল্পের পিডিই করে না। অনেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীই নাকি ডিপিএম-এর নামে কাজ বাগিয়ে নিয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের মালিক হচ্ছেন। তাঁদের অনেকেই এখন একেবারেই চিহ্নিত। তাঁদের নাম পাউবো’র প্রকৌশলীদের মুখে মুখে। কারণ, ডিপিএম- এর মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ডিপিপি মূল্যের শতকরা এক টাকা হারে দালালী পেয়ে থাকে। ভদ্রতার খাতিরে যাকে কমিশন বলা হয়ে থাকে। এই সমস্ত দালাল প্রকৌশলীরা মুখে মুখে ডিপিএম-এর বিরুদ্ধে কথা বললেও ভিতরে ভিতরে এরাই ডিপিএম-এর ছক আঁকে। এদের সকলেই চিনে। ডিপিএম-এর গডফাদার বলে খ্যাত একজন ঠিকাদারের অফিসে এদের ঘন ঘন যাতায়াত করতে দেখা যায়। ডিপিএম-এর গডফাদারের অফিসের এবং আশেপাশের অফিসের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা পরীক্ষা করলেই তাদের নিয়মিত হাজিরার প্রমাণ মিলবে। দেখা যাবে, খালি ব্যাগ নিয়ে ঢুকে ভরা ব্যাগ নিয়ে কে, কে সেখান থেকে বের হয়। এই সমস্ত দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর জন্যেই পাউবো পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার তিতাস নদী পূণ:খনন প্রকল্পে এখন পর্যন্ত এক কোটি সত্তর লাখ টাকার মাটি বিক্রি করে প্রকল্পের পিডি জনৈক সঞ্চয় বাবুর সাথে ভাগ-বাটোয়ারা করেছে। প্রতি শতাংশ জমি ভরাট করে তিন হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। তবে এই লুটপাটের সাথে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম শোনা যাচ্ছে।

অভিজ্ঞমহল মনে করেন, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার তিতাস নদী পূণ:খনন প্রকল্পের দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাট বন্ধে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত