প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির কাঁধ থেকে আইএসআইর ভূত নামাতে হবে

বাংলাদেশ প্রতিদিন :  নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার (অব.) বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্সের (আইএসআই) সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন ষড়যন্ত্র বিষয়ে শোনা যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

আগামীতে জাতীয় নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন না হতে পারে সেজন্য তারা ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। সুতরাং বিএনপির কাঁধ থেকে আইএসআইর ভূত নামাতে হবে। গতকাল  দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানতন্ত্রের রাজনীতি থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে। এটা করতে পারলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসবে। আইএসআই ১৯৭১ সাল থেকেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা জামায়াত-বিএনপির কাঁধে সওয়ার হয়েছে। ২০০১-০৬ সালে তাদের আইএসআইর নীলনকশা বাস্তবায়নের প্রমাণ মিলেছে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে জনগণের কোনো ভূমিকা নেই। ক্ষমতা সেনাবাহিনী আর আইএসআইর হাতে। তারা ১৯৭১ সালের হারের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া। জামায়াত-বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে তারা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বাতিল ও বিকৃত করতে চায়। যা বিএনপি ১৯৭৮ সাল থেকে করে আসছে। এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে পাকিস্তানি তন্ত্রের রাষ্ট্র বানাতে চায় তারা। ষড়যন্ত্রের বিষয়ে এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার আরও বলেন, আইএসআই বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতের আসাম-ত্রিপুরা রাজ্যের সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে। তারা এই গ্রুপগুলোকে শক্তিশালী করে ভারতে দাঙ্গা-হানাহানি তৈরি করতে চায়। এতে তাদের দুটি লাভ রয়েছে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের চিরশত্রু মনোভাব বিদ্যমান। তাহলে ভারতের একদিকে হাঙ্গামা বাধলে পশ্চিম ফ্রন্টে যে সামরিক ভারসাম্য তা পাকিস্তানের পক্ষে থাকে। আরেকটি হলো তাদের প্রচেষ্টা সব সময়ই আছে কোনোভাবে অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ বাধিয়ে ভারতের একটি রাজ্যকে আলাদা করে দেওয়া। তাহলে ’৭১ সালে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার প্রতিশোধ তাদের নেওয়া হবে। এজন্য তারা জামায়াত-বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চায়। ১৯৯১ সালে নির্বাচন পরিচালনায় বিএনপি-জামায়াতকে আইএসআই কয়েক শ কোটি টাকা দিয়েছে। ক্ষমতায় আসার নীলনকশাও তাদের আঁতাতে হয়েছে। তারেক রহমান সৌদি আরব গিয়ে একাধিকবার পাকিস্তানপন্থিদের সঙ্গে মিটিং করেছেন। শুধু তাই নয়, যুক্তরাজ্য ও দুবাইতেও আইএসআইর সঙ্গে কয়েক দফা মিটিং করা হয়েছে। তাই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাংলাদেশকে সজাগ রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বতন্ত্রভাবে এ ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ২০০১ সালে নির্বাচনের পরে এবং ২০১৪ সালে তাদের এ অপচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। তাই তাদের এ ষড়যন্ত্র গুঁড়িয়ে দিতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ