প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবননগরের কলম্বো লেবু দেশ পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানির অপেক্ষায়

জামাল হোসেন : কাছে ঘেঁষতেই দারুণ সুঘ্রাণ ভেসে এলো। মৃদুবাতাস সেই অপূর্ব গন্ধটুকু ছড়িয়ে দেবার প্রাকৃতিক দায়িত্বটুকু নীরবে পালন করছে যেন। কী সতেজ অনুভূতি! বাগানজুড়ে গাছের শাখায় ঝুলে রয়েছে বড় বড় আকারের সবুজ-সৌন্দর্য।

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর পৌর এলাকার লক্ষীপুর মিলপাড়ার ঈদগাহ মাঠে লিটনের বাগানটি আজ ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ফলদ সম্ভারের জন্যে। এই স্থানটি গৌরবের আসন দখল করে আছে বৃক্ষপ্রেমীদের হৃদয়ে। এখানকার সমস্ত ফল বিষমুক্ত এবং প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত।

এই ফলদবাগানের পরিচর্চাকারী ও ম্যানেজারের নাম রাজু মিয়া তিনি এখানে বেশ কয়েক বছর ধরে কর্মরত আছেন তার হাত দিয়েই ফলেছে শতশত ফল। “কলম্বো লেবু” নামটি প্রথম শোনাতেই কৌতূহল জাগালো মনে।

কলম্বো লেবুর ব্যাপারে রাজু মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, এই লেবুটি অন্যসব লেবুর চেয়ে অনেক বেশি সুগন্ধযুক্ত। লেবুটি কাটলে দারুণ গন্ধ বেরোয়। লেবুটি আকারে কিছুটা বড়। এর বাকল পুরো।কাচা অবস্থায় রঙ ঘন সবুজ ও পরিপূর্ণ হলে হালকা হলুদ হয়।

বাজারদর সম্পর্কে বলেন, প্রায় একমাস আগে একশত কলম্বো লেবু জীবননগর বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। সেখানকার পাইকারী বাজারের প্রবেশের আগেই আরৎদার রাস্তা থেকেই কিনে নিয়েছেন। একশত লেবুর দাম পেয়েছিলাম ১২শ’ টাকা। আমার কাছ থেকে ১২ টাকা দরে কিনে খুচরা বিক্রেতার প্রতি পিস ২০-২৫ টাকা দামে বিক্রয় করে থাকে। আমাদের এখানের সব ফল প্রাকৃতিক সার দিয়ে ফলানো। কোনো প্রকার ক্ষতিকর কীটনাশক এখানে ছিটানো হয় না।রোগ বালাই থেকে মুক্ত রাখতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা নজরুল সাহেবের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।

সৌখিন চাষী শিক্ষিত যুবক রুহুল আমিন লিটনের সাথে কথা হলে তিনি জানান,২০০৮ সালে ডিপ্লোমা কমপ্লিট করেন। বর্তমান বাজারে চাকরি পাওয়া আর সোনার হরিণ পাওয়ার সমান। আর চাকরি নিতে লাগে কাড়িকাড়ি টাকা।

তাই তিনি চাকুরীর পিছনে না ঘুরে নিজেই কিছু করার চেষ্টা করেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি একজন একজন বৃক্ষপ্রেমী। তার একক প্রচেষ্টাতেই এখানে গড়ে উঠেছে নানা জাতের ফলসম্ভার। তার বাগানে পেয়ারা,বারোমাসি খাঁটো সজিনা,কামরাঙা,জলপাইসহ নানা জাতের লেবুও রয়েছে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ১৮-২০ জন শ্রমিক কাজ করে।

তিনি আরো বলেন, কলম্বো লেবুটি বেশ রসালো ও সুগন্ধিযুক্ত। এ লেবুটির চাষ চুয়াডাঙ্গা জেলায় খুব কমই হয়। আমিই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে এক একর এ লেবু চাষ করছি। চারা লাগানো চার মাসের মধ্যেই গাছে ফুল আসে। গাছ ছোট এবং প্রথম বছর বলে তখন খুব বেশি লেবু রাখিনি গাছে। তবে এবার আশানুরূপ ফুল ও ফল ধরছে প্রতিটি গাছে। একেটটি গাছে বছরে বছরে ১থেকে দেড় হাজার পিস লেবু ধরে।

লেবু গুলো কেজি হিসেবে বিক্রি হয়। সর্বনিম্ন তিন পিসে এক কেজি হয়। পাইকারি বাজারে ৬০-৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এখন। এই লেবুটি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। তবে বাংলাদেশেও বেশ সুনাম ছড়িয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে নরসিংদী জেলায় কলম্বো লেবু ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সৌদি আরব, কানাডাসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নে কলম্বো লেবু রপ্তানী হচ্ছে। বিষমুক্ত হওয়ায় বিদেশীরা এখানকার লেবু ক্রয় করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলন ও বাজার দর ভাল হওয়ায় এই কলম্বো লেবুর চাষ করে কৃষকরা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন।

“কলম্বো” জাতের সুগন্ধি লেবু’র চাষাবাদে শুধু পানি আর কিছু কীটনাশক ছাড়া তেমন কোন বাড়তি উপকরণ ব্যবহার করতে হয়না। লেবু বাগানের গাছের পাতা শুকিয়ে মাটিতে পড়লে তা চাষীরা জমিতে কিছু পানি দিয়ে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করে। অল্প সময়ে স্বল্প খরচে, কম পরিশ্রমে বেশী লাভ অন্য কোন ফসলের চাষাবাদে হয়না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত