প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

এ্যাডাইর টার্নার : জলবায়ু পরিবর্তনকে অস্বীকার করার আরেক অর্থ হলো তাদের সঙ্গে সুর মেলানো, যারা মনে করেন অর্থনীতিতে কোন রকম প্রভাব সৃষ্টি করা সরকারের কাজ নয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উদ্যোগ নিলে প্রবৃদ্ধি বা ব্যক্তিখাত কোনভাবেই হুমকির মুখে পড়ে না। ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্যেই বলে থাকেন, জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি আসলে ‘কালচারাল মার্ক্সিট’দের একটা চক্রান্ত, পশ্চিমা অর্থনীতির গলা টিপে ধরার জন্য। তিনি মনে করেন, পরিবেশবাদী নামের অশুভ শক্তির কাজ হলো দেশে দেশে অর্থনীতির ওপর রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব বাড়ানোর পক্ষে সাফাই গাওয়া।

বাস্তবতা হলো, জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিদিন পৃথিবীকে একটু একটু করে বাসের অযোগ্য করে তুলছে এবং সরকারি পর্যায়ে নীতিগতভাবে এর মোকাবেলা জরুরি। কম কার্বন নিঃসরণের জন্য প্রণোদনা, জ্বালানি সাশ্রয়ী আসবাব, বাহন ব্যবহার ও তেমন ভবন নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা, কম কার্বন নিঃসরন করে কিন্তু সাশ্রয়ী নয়- এমন উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহারে ভর্তূকি দেয়া-জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এমন অনেক কিছুই করার আছে সরকারের।

জলবায়ু পরিবর্তনকে অস্বীকার করার পেছনে প্রচ্ছন্ন যে কারণ থাকতে পারে, তা হলো এই ভুল ধারণা যে, তা মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিলে পিছিয়ে যেতে হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে।

এনার্জি ট্রানজিশন কমিশন – ইটিসি সঙ্গে অনেক বড় বড় ব্যবসা খাতের প্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত। সম্প্রতি ইটিসির এক প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে ২০৬০ সালের মধ্যে কিভাবে অর্থনীতিকে যথাসম্ভব রক্ষা করে একটা কার্বনমুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। তেমন একটা অর্থনীতি ততটাই কর্মসংস্থান আর ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে যতটা করছে আজকের দিনের জীবাস্ম জ্বালানী নির্ভর অর্থনীতি। এটা উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য আরো বেশি সত্য। ভারতের কথা ধরুন। আজকের দিনের উন্নত কোন দেশের সমান জীবনমান অর্জন করতে গেলে ভারতকে তার মাথা পিছু জ্বালানি ব্যবহার বাড়াতে হবে তিন গুণ। তবে একই সাফল্য ভারত পাবে যদি সে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরন কমাতে পারে এবং তার বড় শহরগুলোর বায়ু দূষণ কমিয়ে আনতে পারে। ইটিসির ঐ প্রতিবেদন বলছে, নতুন কোন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন না করেই, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কোন আপস না করেই, ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াতে পারে।

২০৬০ সালের কার্বনমুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি এখনকার চাইতে ৪/৫ গুণ বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে। যার সুবাদে কোটি কোটি মানুষের জন্য উন্নত জীবন যাপন নিশ্চিত করা যাবে। তা করতে গেলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান আর আয় প্রবৃদ্ধির বড় বড় সুযোগ তৈরি হবে।

লেখক : সাবেক চেয়ারম্যান, ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটি, যুক্তরাজ্য। মূল ইংরেজি থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত।

সম্পাদনা : ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত