প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : বন্ধুত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ : বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যাত্রা শুরু ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার ও সে দেশের সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের মধ্যদিয়ে। বাংলাদেশের মানুষ আজো সে কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। সেসময় দুদেশের সরকার ও জনতার মাঝে যে সমঝোতা ও বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিলো, সেটাই ছিলো বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি। যদিও সবসময় এ সম্পর্ক একই রকম থাকেনি। এ সম্পর্কে চির ধরাতে বারবার চক্রান্ত হয়েছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানপন্থীরা যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলো, তখন। জাতির জনককে হত্যার পর থেকে যেসব সামরিক শাসক অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে, তারা বাংলাদেশে ভারতের বিরুদ্ধে জনমনে বিদ্বেষ ছড়াতে সরকারি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনেক চেষ্টা চালিয়েছে। বাংলাদেশে ভারতবিরোধী তৎপরতার বড় প্রমাণ, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে দেয়া আইএসআই এর প্রধান আসাদ দুররানির জবানবন্দী।

যেখানে সে স্বীকার করেছে, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে জেতাতে অর্থ খরচ করেছে আইএসআই। উদ্দেশ্য ছিলো, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে ক্ষমতায় এনে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্টকে উসকে দেয়া। বলাবাহুল্য, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সে সরকারের আমলে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছিলো।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের সরকার দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সফল হয়। সেসময়ে হওয়া গঙ্গা পানি চুক্তি এবং পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি দুই দেশের সুসম্পর্কের স্মারক হয়ে আছে।

কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে আবারো হোঁচট খায় বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক। দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের মত ঘটনা বুঝিয়ে দিচ্ছিলো দুদেশের সম্পর্ক তখন তলানিতে পৌঁছেছিলো।

তবে গত দশ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেশ সুবাতাস বইছে দুই দেশের মধ্যে। ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানের ভারতবিরোধী তৎপরতা চলতে না দেয়া এবং জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই বাংলাদেশকে ভারতের অনেক কাছাকাছি এনে দিয়েছে।

২০১৫ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরে গুরুত্বপূর্ণ ২২টি চুক্তি সাক্ষরিত হয়। যা দুই দেশের সম্পর্ক ও বোঝাপড়ার গভীরতাই প্রমাণ করে।

অনেক বাংলাদেশি পণ্য এখন ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশ সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ গত তিন বছরে বেড়েছে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাছাড়া, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব প্রতি বছরই নতুন নতুন উচ্চতা স্পর্শ করছে।

আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, প্রতিবেশি হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক সারা বিশ্বের জন্য বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর এই সম্পর্ক সঠিক পথ তখনই খুঁজে পায় যখন বাংলাদেশে একটা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ২০১০ সালের কথা। যখন বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলো। কিছু কিছু দেশ তখন এব্যাপারে সমালোচনা করা শুরু করে। যা ছিলো, আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও রীতিনীতির খেলাপ। ভারত কিন্তু তখন আনুষ্ঠানিকভাব জানিয়েছিলো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

প্রথমে যেমনটা বলছিলাম। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিলো। তারপর আমরা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি। এ বন্ধুত্ব যত পোক্ত হবে দুই দেশের দ্রুত উন্নয়নের সম্ভাবনা ততই বাড়বে। সম্পাদনা : ইকবাল খান