প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে কোন নিশ্চয়তা নেই

লয়েড গ্রিন: ১৬ কোটির দেশ বাংলাদেশে আগামী জানুয়ারির শুরুর দিকে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভারত ও মিয়ানমারের মাঝখানে অবস্থিত বাংলাদেশ ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ যুক্তরাষ্ট্রকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে এবং প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে।

অস্থিরতার মধ্যেও অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। দারিদ্র হ্রাস পেয়েছে এবং নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ডের হিসেব মতে, “বাংলাদেশ বর্তমানে নিম্ন-আয়ের দেশ থেকে মধ্য-আয়ের অর্থনীতির দিকে যাচ্ছে”।

হাঁ, ঢেউ উঁচু হলে সব নৌযান উপরে ওঠে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ শতাংশের উপরে ছিল। এ বছর ও আগামী বছর সেটা ৭ শতাংশের উপরে থাকবে বলে সূচকে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, দারিদ্রের হার ১৫ শতাংশের আশেপাশে রয়েছে। ১৯৯১ সালে দারিদ্রের হার ছিল ৪৫ শতাংশ। বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগের পরিমাণ ২০০৮ সালে ছিল ৭৫০ মিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে এসে সেটা দাঁড়িয়েছে ১.৭ বিলিয়ন ডলারে।

তাহলে, গল্পের পেছনে কি রয়েছে? অর্থনীতিবিদরা এর কারণ হিসেবে ভোক্তাদের ব্যয়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছেন। এক হিসেবে আধুনিকতা এখানে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশ এই স্রোতের সাথে তাল মিলিয়েছে।

তাছাড়া, অর্থনীতিতে কৃষি ক্রমেই তার অবস্থান হারাচ্ছে। উৎপাদন এবং সেবা খাত অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান এবং মার্কিন দোকানগুলোতেও বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শোভা পাচ্ছে।

২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আমলে বাংলাদেশ ধর্মীয় মৌলবাদীদের দমনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ একটি মুসলিমপ্রধান দেশ এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠি রয়েছে এই দেশে।

মেয়েদের শিক্ষিত করার ব্যাপারে এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসার দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছেন হাসিনা। জনস্বাস্থ্য খাতেরও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশে এখন প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭২ বছরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতে এটা ৬৮ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৬ বছর।

সরকারের সাথে মিলে বাংলাদেশের বেসরকারী সংস্থাগুলোও এখানে কৃতিত্বের দাবি রাখে। নাগরিক যোগ ঘটায় এখানে একটা পার্থক্য তৈরি হয়েছে। যে অর্জনটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, সেটা হলো বাংলাদেশ ভারত বা পাকিস্তানের চেয়ে মাথাপিছু খরচ করে কম।

ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউটের (আইআরআই) এক জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রতি পাঁচজন নাগরিকের মধ্যে তিনজন মনে করেন যে বাংলাদেশ সঠিক পথেই চলছে। ১০ জনের মধ্যে সাতজন অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই জরিপের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও ছয়টি দল নিয়ে গঠিত তার মহোজোট আগামী নির্বাচনে ফেভারিট হিসেবে থাকবে।

তবু, কোনকিছুই নিশ্চিত নয়। বিরোধী দলগুলোও এবার পার্লামেন্টে নির্বাচনে লড়বে, যেটা ২০১৪ সালে তারা করেনি। সে বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচন বয়কট করেছিল। তাছাড়া আইআরআইয়ের মতে, গণতন্ত্রের ব্যাপারে জনগণের আস্থার পতন ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।

দেশের আপাত ইতিবাচক অর্থনৈতিক চেহারা সত্বেও, গেলো গ্রীষ্মে সারা দেশে ছাত্র-বিক্ষোভ হয়েছে। সরকারকে ক্ষুব্ধ করেছিল এই আন্দোলন। ইতোমধ্যে, গণতন্ত্রের ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সার্বিক আত্মবিশ্বাসের অবনতি হয়েছে।

জীবনযাত্রার মান বাড়লে সেখানে স্বাধীনতা, জবাবদিহীতা, সুশাসনের দাবিও বাড়ে। ফ্রিডম হাউজের মতে, বাংলাদেশ ‘আংশিকভাবে মুক্ত’ দেশ। এই গ্রুপের মধ্যে আরও রয়েছে পাকিস্তান, নেপাল এবং মালয়েশিয়া। তাই যেই জিতুক না কেন, তাদেরকে এইসব বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে এবং বিশ্ব সেদিকে নজর রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, কিন্তু নির্বাচন দিয়ে উদারীকরণের দাবির ইতি ঘটবে না। স্বাধীনতা সবসময়ই নিজের দাবিকে শোনাতে চায়।

-লয়েড গ্রিন। নিউইয়র্কের আইনজীবী। এশিয়া টাইমস-এ তিনি এই কলামটি লিখেছেন। সাউথ এশিয়ান মনিটর থেকে লেখাটি নেওয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ