প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জয় দিয়েই সিরিজ শুরু টাইগারদের

আক্তারুজ্জামান : প্রায় আটমাস পর ঘরের মাটিতে সিরিজ। তার ওপর সাকিব-তামিমকে ছাড়া! যেটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে মাসাকাদজা নিজেদের ফেভারিট বলেছিলেন। কিন্তু মাঠে নেমে জিম্বাবুয়ে বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ টিম সত্যিই পরিপূর্ণ টিম। সাকিব-তামিমকে ছাড়াই সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের ২৮ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ৪৯ তম ওভারের সময় মনেই হচ্ছিল বাংলাদেশ দল আজ হারতেও পারে। তবে মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ এক টেকনিক কাজে লাগে।

ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশকে ৬৬ রানে ৩টি এবং ১৩৯ রানে ৬টি উইকেট ফেলে দলকে বিপদে ফেলেছিল। এরপরও সেই বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেয় ২৭২ রানের। যার জবাব দিতে নেমে ভালো শুরু করেছিল সফরকারীরা। এমনকি শেষের দিকে উইলয়ামস ও জার্ভিস জুটি তো টাইগারদের কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিল। তবে মাহমুদউল্লাহ সেই কাঁপুনি থামিয়ে দলকে জিতিয়ে দেন।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুতে মাসাকাদজা ও জোহুয়া জুটি ৪৮ রান নিয়ে যখন চোখ রাঙানি দিতে শুরু করেছিল তখন ‘কাটার মাস্টার’ জোহুয়ার (৩৫) স্ট্যাম্প উপড়ে দেন। এরপর ক্রিজে আসা টেইলরের স্ট্যাম্প নাড়িয়ে দেন ‘নাগিন’। আর দেখেশুনে খেলতে থাকা অধিনায়ক মাসাকাদজাকে দূর থেকে আসা থ্রোতে দুর্দান্তভাবে রান আউট করেন মুশফিক। ছোট ছোট কয়েকটি জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেননি কেউই।

সবক’টি উইকেট না হারালেও নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৪৩ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। জয় থেকে তখনও ২৮ রান দূরে তারা। জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ শেন উইলিয়ামস করেন অর্ধশত। আর জার্ভিস ৩৭ ও জোহুয়া ৩৫ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে মিরাজ ৩টি, অপু ২টি এবং মোস্তাফিজ ও রিয়াদ একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে রোববার বিকালে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান তুলেছিল টাইগাররা। মুশফিক-ইমরুল ও সাঈফ-ইমরুল জুটিতে ভর করেই বড় সংগ্রহ পায় টাইগাররা।

সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে বেশ বিপদে পড়ে বাংলাদেশ দল। তবে ইমরুল কায়েস ও সাঈফউদ্দিনের ব্যাটে ভর করে ২৭০ পেরুনো ইনিংস পেয়েছে বাংলাদেশ দল।

দলের হাল ধরার জন্য কাউকেই দেখা যায়নি। ওপেনার লিটন ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার পর অভিষিক্ত ফজলে রাব্বীর ইনিংস ফোঁটার আগেই ঝরে যায়। তবে মুশফিককে নিয়ে বিপদ পার করেন ইমরুল। খেলেন ৪৯ রানের জুটি। এরপর আবারও দ্রুত পতন। মিথুনকে নিয়ে ৭১ রানের জুটির পর, মাহমুদুল্লাহ ও মিরাজ ফিরে যান দলকে কিছু উপহার না দিয়েই।

তখন মনে হয়েছিল ২০০’র কোটা পার করতে পারবে না বাংলাদেশ দল। কিন্তু ইমরুল-সাঈফ জুটির ভেলকি তখনো বাকি ছিল। সাঈফউদ্দিনকে নিয়ে ১১৭ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহ উপহার দেন ইমরুল। ১৪০ বলে ১৪৪ রান করে ফেরেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক তুলে নেওয়া ইমরুল। আর সাঈফউদ্দিন তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক।

জিম্বাবুয়ের হয়ে কাইলি জার্ভিস ৪টি, টেন্ডাই চাতারা ৩টি এবং মাভুতা ১টি উইকেট নেন। ১৪০ বলে ১৪৪ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলা ইমরুল কায়েস ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ