Skip to main content

যেমন ‍ছিলেন সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.)

আমিন মুনশি : রাসুলুল্লাহ (সা.) যে ১০ জন সাহাবিকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) তাদের অন্যতম। তিনি আবুবকর সিদ্দিক (রা.) এর দাওয়াতে কালেমা পড়ে মুসলমান হয়েছিলেন। তখন মুসলমানদের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ জন। ইসলাম গ্রহণের দরুণ তার ওপরও নেমে এসেছিল নির্যাতনের পাহাড়। তিনি নিজেই বর্ণনা করেন, ‘ইসলামের জন্য আমাকে এবং স্ত্রীকে বেঁধে ওমর বেদম প্রহার করেছেন। তখন তিনি মুসলমান হননি।’ (বোখারি : ৩৮৬৭) তিনি হিজরতের ২২ বছর আগে কোরাইশের শাখা আদি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা যায়েদ বিন আমর রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নবুয়তকাল পাননি। কিন্তু তিনি ছিলেন সত্যের অনুরাগী। সত্যধর্মের সন্ধানে তিনি সিরিয়ার ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের কাছে গিয়েছেন। কিন্তু তাদের ধর্ম তার পছন্দ হয়নি। অবশেষে মক্কায় ফিরে এসে ঘোষণা করলেন, ‘আমি দ্বীনে ইবরাহিমির ওপর আছি।’ অন্ধকার যুগেও তিনি মূর্তি পূজা থেকে মুক্ত ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তার ব্যাপারে বলেছেন, ‘সে একা এক উম্মত হিসেবে কেয়ামতের দিন উঠবে।’ (ইতহাফ : ৭৪) সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে প্রায় প্রতিটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে নবীজি (সা.) তাকে কোরাইশ কাফেলার সংবাদ গ্রহণের উদ্দেশ্যে শামের দিকে প্রেরণ করেছিলেন বিধায় বদর যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু নবীজি তাকে বদর যুদ্ধের গনিমত প্রদান করেছেন। সুতরাং তিনি বদরি সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত। আবুবকর সিদ্দিক (রা.) এর খেলাফতকালে তিনি শাম অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। দামেস্ক বিজয়ের পর আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রা.) তাকে নিজের স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেন। কিন্তু ক্ষমতার প্রতি ছিল তার চরম অনাসক্তি। তাই তিনি আবু উবাইদুল্লাহ (রা.) এর কাছে গভর্নরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পত্র লেখেন এবং জিহাদে অংশগ্রহণের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। ইয়ারমুকের যুদ্ধে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেন। একভাগের নেতৃত্বে ছিলেন সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা.)। হাবিব ইবনে সালামা (রা.) বলেন, ‘ইয়ারমুকের রণাঙ্গনে আমরা ছিলাম সাঈদ ইবনে যায়েদের অধীনে। রোমান সৈন্যদের দেখে তিনি হাঁটু গেড়ে বসে গেলেন। যেইমাত্র শত্রুবাহিনী কাছাকাছি এলো অমনি তিনি সিংহের মতো তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও বীরবিক্রমে আক্রমণ করল। মুসলিম বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে রোমান সৈন্যরা পালাতে বাধ্য হয়। আল্লাহ তায়ালা এ যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় দান করেন। অনন্য মর্যাদার এ মহান সাহাবি ৫১ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) তাকে গোসল এবং কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করেন। তার থেকে ৪৮টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।