প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে হারিয়ে যাচ্ছে পোষ্ট অফিস

মাগুরা প্রতিনিধি: আধুনিকয়তার ছোয়ায় এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে হারিয়ে যাচ্ছে পোষ্ট অফিসের হাজার বছরের ঐতিহ্য। সেই সাথে হারিয়ে গেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পোষ্ট অফিসের সেই পুরানো ঐতিহ্য। নেই তেমন একটা চিঠি আদান-প্রদান।  লেগেছে আধুনিকয়তার ছোয়া।

তাই এখন আর কানে আসেনা ঠক ঠক শব্দ করে টিকিট লাগাতে বা চিল মারতে। ৯০’র দশক পর্যন্তও এই পোষ্ট অফিসগুলোতে সাধারণ মানুষের পদচারণায় মূখরিত ছিল। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোয়ায় এ অফিসগুলোর ব্যবহারও হ্রাস পেয়েছে। ফলে হারাতে বসেছে পোষ্ট অফিসের অধিকাংশ কার্যক্রম। আর তাই উপযোগিতাও হারিয়েছে “নাই টেলিফোন নাইরে পিয়ন, নাইরে টেলিগ্রাম, বন্ধুর কাছে মনের খবর কেমনে পৌছাইতাম” এ জাতিয় গানগুলোর।

অফিসের খাকি পোশাকের পিয়ন দরজায় কড়া নেড়ে যখন উচ্চস্বরে হাক দিত চি..ঠি, তখন কে আগে চিঠি নেবে এই ভেবে দৌড় প্রতিযোগিতাও হয়ে যেতো। মা-বাবা তার সন্তানের হাতে লেখা চিঠি যখন পড়তেন লেখার মধ্যে তখন হৃদয় দিয়ে সন্তানের মুখ দেখতে পেতেন। আবার যে মা-বাবা নিজে পড়তে পারতেন না আবেগ আকুলতা ও ব্যাকুলতায় গ্রামের অনেকের কাছে নিয়ে যেতেন একটু পড়ে দেওয়ার জন্য। আবার কিছুদিন চিঠি না পেলে অর্থাৎ দীর্ঘদিন পিয়নের এই হাকডাক না শুনলে মনের মধ্যে নানা ভাবনার উদয় হতো।

এই চিঠিই ছিলো আগের দিনের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। নানা ধরণের কথোপকথন হতো এই চিঠির মাধ্যমে। আর চিঠি পত্র আদান প্রদানের সকল ব্যবস্থায় ছিলো পোষ্ট অফিস নির্ভর। ফলে সেই সময় পোষ্ট অফিসের সামনে দেখা যেতো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। হাতে কলম আর টেবিলে রাখা সাদা কাগজে চেয়ারে বসে লেখা পত্রগুলো পড়ে কখনো আনন্দে মুখে হাসি ফুটত। আবার কোন চিঠি পড়ে চোখের পানিও গড়িয়ে পড়ত।

তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সেই স্থান দখল করে নিয়েছে মোবাইল, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার। এ প্রযুক্তিতে ইন্টানেটের মাধ্যমে ই-মেইল, এসএমএস সহ নানা ভাবে যোগাযোগের দ্রুত মাধ্যম হওয়ায় উন্নত এ প্রযুক্তির দিকে মানুষ ধাবিত হচ্ছে। এতে হারিয়ে যেতে বসেছে চিঠি আদান-প্রদান। অফিসিয়াল কিছু চিঠি পত্র ছাড়া অন্য কোন চিঠি আদান-প্রদান হয়না বললেই চলে। যোগাযোগে আধুনিক এ প্রযুক্তির ছোয়ায় শহরের পোষ্ট অফিসগুলোর কার্যক্রম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু মফস্বল পোষ্ট অফিসে এর কোন প্রভাব নেই। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে অনেক পোষ্ট অফিস।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা ৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। যেখানে উপজেলা পর্যায়ে ১ টি ও এর সাব-অফিস হিসেবে নহাটায় ১ টি সরকারী পোষ্ট অফিস সহ এই দুই অফিসের অধিনে ১২ টি শাখা অফিস রয়েছে। যার মধ্যে উপজেলা অফিসের অধিনে ৫ টি এবং নহাটা অফিসের অধিনে ৭ টি। তখনকার সময়ে সদর কেন্দ্রীক পোষ্ট অফিসের চাপ কমাতে তাদের শাখা অফিস হিসেবে এসব পোষ্ট অফিস গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এখন উপজেলা পোষ্ট অফিস ও নহাটা সাব-পোষ্ট অফিস ছাড়া তেমন কোন কর্যক্রম নেই শাখা অফিসগুলোর। এমন কি নিজেস্ব কোন ভবনও নেই এই সব শাখা অফিসের। এসব অফিসগুলো ভাড়া ঘরে বা পোষ্ট মাষ্টারদের বাড়ীতেই চালিয়ে থাকেন কার্যক্রম। কিন্তু আধুনিকয়তার ছোয়ায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে চিঠি পত্র আদান প্রদান না থাকায় বিলীনের পথে প্রায় এসব পোষ্ট অফিসগুলো।

উপজেলা পোষ্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত পোষ্ট মাষ্টার মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তথ্য প্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেট যোগাযোগের দ্রুত মাধ্যম হওয়ায় মানুষ সে দিকেই ধাবিত হচ্ছে। ফলে কিছু অফিসিয়াল চিঠি পত্র ছাড়া আর কোন চিঠি পত্র আদান প্রদান নেই বললেই চলে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরাও চেষ্টা করছি গ্রাহকদের সেবা দিতে। আমাদের সেবার মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফা সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, সেভিং একাউন্ট, মানি অর্ডার, মোবাইল মানি অর্ডার, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদেশে কথা বলা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও চাকুরির আবেদন, পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে টাকা লেন-দেন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা বিতরণ।

কলমের সৈনিক সংসদের উপদেষ্টা অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক শেখ রেজাউল হক রিজু বলেন, রানারের হাতে লাঠি নিয়ে লন্ঠন  জ্বালিয়ে রাতের আধারে সেই হাকডাক এখন অতীত। এক সময় মানুষ পোষ্ট অফিসের সামনে বসে থাকতো রানারের অপেক্ষায়। আপনজনদের চিঠি পাবে বলে। কিন্তু এই যুগের কাছে সে সব এখন স্বপ্ন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত