প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশেষ সাক্ষাৎকারে মোনায়েম সরকার
ভাই পাকিস্তানি গোয়েন্দা দলিলগুলো কি পাওয়া সম্ভব ?

আশিক রহমান : বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলমেন্ট রিসার্চ-এর মহাপরিচালক মোনায়েম সরকার বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক বই তৈরির জন্যই পাকিস্তানি গোয়েন্দা দলিলের খোঁজ করি। বইটাকে সমৃদ্ধ, অথেনটিক করা ছিল অন্যতম লক্ষ্য। আমাদের নতুন সময়কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, দলিলপত্র বের করার সময় অনেকেই সহায়তা করেন। তবে বিশেষভাবে মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারীর কথা বলতে হয়। পাটোয়ারী তখন আমার এখানে আসত-যেত। পাটোয়ারীকে বললাম যে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কাজ করছি, একটি বই হচ্ছে, সেখানে আপনি কাজ করেন। এটা সম্ভবত ২০০০ সাল বা তারও কিছু আগের কথা। পাটোয়ারী তখন বললেন, মোনায়েম ভাই গোয়েন্দা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংস পেলে ভালো হতো। সামছুদ্দিন নামের একজন পুলিশ অফিসার তখন বেইলি রোডে দায়িত্ব পালন করতেন। শামসুদ্দিনকে আমি একদিন ডাকলাম। বললাম যে, ভাই পাকিস্তানি গোয়েন্দা দলিলগুলো কি পাওয়া সম্ভব? তখন তার রুমেই পাওয়া গেল। কোনো এক কোণায় পড়েছিল। তার কাছ থেকেই আসলে দলিলগুলো আমি নিই। ফটোকপি করে সংগ্রহ করি।

এক প্রশ্নের জবাবে মোনায়েম সরকার বলেন, ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’Ñএ বইটা পড়লে বোঝা যাবে কেন পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে টার্গেট করেছিল। ওখান থেকে বাংলাদেশের ইতিহাস খোঁজে পাওয়া যাবে। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর যে অসামান্য ভূমিকা ছিল তা প্রতিভাত হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বা তার আগে অনেকের জন্মই হয়নি তাদের জন্য এ বইটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ। এ বই পাঠে অনেক অজানাকে জানা যাবে। কেন পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে এতবার জেলে নিয়েছিল সে সমস্ত ঘটনা বোঝা যাবে।

তিনি বলেন, দলিলগুলো বের করার এতবছর পর পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা খুব ছোটভাবে প্রকাশ করেছিলাম। আমার বইয়ে মূল বিষয়গুলো কিছু কিছু আছে। পূর্ণাঙ্গ দলিলটা দেখলে পরে নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারবে স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা কি ছিল। কী তিনি করেছিলেন। কত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর হাঁচি-কাশি সবকিছুই বইটিতে আছে। তার জেল জীবন অনেক বৈচিত্রপূর্ণ ছিল। জানা যাবে তাও।

তিনি আরও বলেন, গবেষক ও ঐতিহাসকরা এখন মূল্যায়ন করতে পারবেন যে, কীভাবে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পঁচাত্তর পরবর্তীতে তো বঙ্গবন্ধুর নামও নেওয়া যেত না। সন্তোষ গুপ্ত মাঝেমধ্যে সাহস করে লিখতেন। পঁচাত্তর থেকে নব্বই পর্যন্ত একটা জেনারেশন গ্যাপ হয়ে গিয়েছিল, যারা বঙ্গবন্ধুর নামই জানত না। স্বাধীনতার ঘোষক কে? জিয়াউর রহমান বলা হতো। কিন্তু তা কি সত্য ছিল?

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই গবেষক বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা দলিলপত্র ১৪ খ-ের প্রথম দুই খ- প্রকাশিত হয়েছে। এতে অনেকেই কৃতিত্ব নেওয়ার নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে আমার  কোনো ব্যথা নেই। কোনো হতাশাও নেই। বঙ্গবন্ধুকে আমরা আজকে টেনে বড় করতে পারব না, ছোটও করতে পারব না। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি তার জায়গায় থাকবেন। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি, তাকে বিভিন্নভাবে তুলে ধরার। আমাদের ফাউন্ডেশনের পঞ্চাশ শতাংশ কাজ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। তার বিভিন্ন অপ্রকাশিত তথ্য-দলিলপত্র উদ্ধার করে প্রকাশ করতে। বঙ্গবন্ধুকে যথার্থভাবে তুলে ধরতে হলে অথেনটিক তথ্যাদি দরকার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। তিনি আমার খোঁজখবর নেন। দাওয়াত দিয়েও নিয়েছেন প্রোগ্রামে। মাঝে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল। কেন হয়েছিল এখন আর বলতে চাই না। তবে তার কোনো ক্ষতি হোক ঘুণাক্ষরে চাইনি। এখনো, কখনো এমনটি চাই না। কারণ তিনিই এখন বাংলাদেশের ভরসা। বিশ্বাস। বিশ্বাস ও ভরসার জায়গাটা আমাদের আগলে রাখতে হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ