আবু হায়াত মাহমুদ : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিটারে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপী জাতীয় জীব-প্রযুক্তি মেলা ২০১৮। শুক্রবার ও শনিবার দুদিন ব্যাপী এ মেলায় ৬৮ টি জীব-প্রযুক্তিগত প্রদর্শনী কেন্দ্র খুলে বসেছেন দেশের স্বনামধোন্য পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব-প্রযুক্তি বিভাগ এবং কলেজ ও স্কুলের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারে গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
শুক্রবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এ মেলার উদ্বোধন করেন ও কয়েকটি স্টলে প্রদর্শিত তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্ভাবনী ও জীব-প্রযুক্তিগত বিভিন্ন আবিস্কার দেখেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াফেস ওসমান বলেন, দেশের প্রতিটি প্রতিটি মানুষের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রযুক্তিরন ছোয়া পৌঁছে দেয়া হবে। বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের রোল মডেল। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে এবং প্রতিনিয়ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রতিনিয়ত এ ব্যাপারে সহযোগীতা প্রদান কওে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রগতির মধ্যে প্রতিনিয়তই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একটি প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। তিনি বলেন, ‘এ সরকারের বড় সাফল্য ও অর্জন হচ্ছে দেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তাধারা ও আত্মবিশ্বাস তৈরী করিয়ে দেয়া। কোনো মানুষের মনে যখন এমন শক্তির সঞ্চার হয় যে আমি পারব, ঠিক তখনই উন্নয়ন সম্ভব।’
বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের শক্তি বিষয়ক একটি ত্বত্ত¡কে বাংলাদেশে একটু ভিন্নভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে এ প্রযুক্তিকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইয়াফেস উসমান বলেন, ’বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্ভাবনশীল তরুনদের আামরা সার্বক্ষনিক সহযোগীতা করছি।’ দেশের প্রতিটি প্রান্ত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সেবা পৌছে দেয়া হবে বলে আস্বস্ত করেন মন্ত্রী।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের সচিব আব্দুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল হালম ও কৃষি মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. ইাসিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোললির ড. মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ।
পরিদর্শন করে দেখা গেছে স্টলগুলোতে কৃষি, চিকিৎসা, পরিবেশ ও শিল্প ক্ষেত্রে জীব-প্রযুক্তিসহ নানান ধরনের উদ্ভাবনী আবিস্কার –এর প্রসংশাও করেন মন্ত্রী। দেশের জীব-প্রযুক্তি বিষয়ক সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব বায়োটেকনোলজি গ্রাজুয়েটস্ (বিএবিজি) সহ সভাপতি মুহাম্মাদ শওগাত ইসলাম এই প্রতিবেদকে বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়ো-প্রযুক্তি গ্রাজুয়েটদের সমন্বয়ে ২০১৭ সাল থেকে তারা এ সংগঠনটি চালু করেছেন নতুন ও তরুন প্রজন্মকে উদ্ভাবনী চিন্তাধারার প্রতি আকৃষ্ট করতে ও নতুন কিছু আবিস্কার করতে।
তিনি বলেন, ’জীবপ্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের একাট বিশেষায়িত শাখা যার মাধ্যমে বিশ্বেও উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে কৃষি, চিকিৎসা, পরিবেশ এবং শিল্প ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।