বি.ডি রহমতউল্লাহ : আমরা ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জন করতে পারি। কিন্তু চাহিদার যোগান কি দিতে পারছি? আমাদের তো বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করলেই হবে না, গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে হবে। একটি পাওয়ার স্টেশনের লাইফ হচ্ছে ১৫-২০ বছর। আমাদের এখানে একেকটি পাওয়ার স্টেশন ৪০ বছর পর্যন্ত চলছে। এসব তো আমি একসময় হিসাবে ধরব না। কারণ এই স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না। ঢাকা শহরে লোডশেডিং দেওয়া হয় না। কুমিল্লা শহরেও লোডশেডিং দেখিনি।
দেশে এরকম কিছু শহরে লোডশেডিং দেওয়া হয় না। এই যে কিছু শহরে লোডশেডিং হয় না, কেন? কোনো একজন ব্যক্তির প্রভাবে। কিছু জায়গায় লোডশেডিং না হলেও দেশের প্রায় সর্বত্রই তা হচ্ছে। এই লোডশেডিং মিনিমাম তিন-চার ঘণ্টা, কোনো কোনো জায়গা বারো-তেরো ঘণ্টা। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প স্থাপনের আগ্রহের কথা জানানোর সময় দুটি সমস্যার কথা তুলে ধরেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাব। অন্য আরও অনেক সমস্যা তো রয়েছেই। তারা মূলত এ দুটি বিষয়কে বিনিয়োগের অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিশ্চিতভাবে না পাওয়ার আশঙ্কায় গত বছর অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী চলে গেছেন, দেশি বিনিয়োগকারীরাও কোনো কল-কারখানা স্থাপন করছেন না। এ পরিস্থিতি কারও কাম্য নয়। আমাদেরকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। সরকারকে সেদিকে মনোযোগী হওয়া দরকার।
পরিচিতি : সাবেক মহাপরিচালক, পাওয়ার সেল ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ