ডেস্ক রিপোর্ট : স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশ যে কয়টি ক্ষেত্রে খুব দ্রুত উন্নত ও আধুনিক হয়েছিল, তার মধ্যে টিভি নাটক অন্যতম। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন সে সময়ের বেশ কয়েক শক্তিমান অভিনেতা। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন সৃষ্টিশীল অভিনেতা হলেন আবুল হায়াত। সত্তর দশক থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তার অভিনয়ের জাদু মুগ্ধ করে রেখেছে দর্শককে। আজ এ গুণী অভিনেতার ৭৫তম জন্মদিন। কিন্তু এখনো একজন তরুণের সঙ্গে সমানতালে কাজ করছেন। কারণ তিনি নিজেকে তরুণই মনে করেন। ১৩৫১ বাংলার ২৩ ভাদ্র মুর্শিদাবাদে মো. আবদুস সালাম ও শামসুন্নাহার বেগমের ঘর আলোকিত করে পৃথিবীর বুকে জন্ম নেন আবুল হায়াত। মুর্শিদাবাদের সেই আবুল হায়াতই অভিনয় দিয়ে এ দেশের নাট্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন। দেশ-বিদেশে বাংলা ভাষার নাটককে করেছেন সমাদৃত।
জন্মদিনে আরটিভিতে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ‘তারকালাপ’-এ অংশ নেবেন আবুল হায়াত। এর পর পুরো সময় বাসাতেই কাটাবেন। জন্মদিন প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, ‘দেখতে দেখতে জীবনের দীর্ঘ একটা সময় পেরিয়ে এসেছি। আমার জীবনে যা কিছু অর্জন তা নিয়েই আমি সন্তুষ্ট। আমার স্ত্রী শিরীন, আমার দুই সন্তান বিপাশা, নাতাশা; দুই মেয়ের জামাই তৌকীর, শাহেদ এবং তাদের সন্তানÑ এই নিয়েই তো আমার সুখের পৃথিবী। একজন বাবা হিসেবে আমি খুব সুখী। সবার দোয়া, ভালোবাসার মধ্য দিয়েই বাকিটা জীবন পার করে দিতে চাই।’
আবুল হায়াত জানালেন, তার বড় মেয়ে বিপাশার জন্মের আগেই তারাশংকরের উপন্যাস ‘বিপাশা’ অবলম্বনে বড় মেয়ের নাম রেখেছিলেন। কারণ তারা মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন প্রথম সন্তান যেন মেয়েই হয়। আল্লাহ তাদের সেই স্বপ্ন, আশা কবুল করেছিলেন। আবার পরবর্তী সময়ে যখন নাতাশা হলেন তখন আবুল হায়াতেরই বন্ধু প্রয়াত ইকবাল আহমেদ ও তার স্ত্রী নাতাশার নাম রেখেছিলেন। বিপাশা এবং নাতাশা দুজনই যার যার কর্মক্ষেত্রে স্বনামে উজ্জ্বল।
আজ আবুল হায়াতের ছোট মেয়ে নাতাশার বড় সন্তান শ্রীষারও জন্মদিন। তাই শ্রীষাও আজ তার নানার সঙ্গে সময় কাটাবে বলে জানান আবুল হায়াত। জন্মদিনে আরও একটি বিষয় জানালেন আবুল হায়াত, আর তা হলো সাধারণত স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় স্কুলের হেডমাস্টার বয়স একটু কমিয়ে দেন। তার বেলায়ও বয়স কয়েক মাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যে কারণে সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্মদিন ২৫ জুন। অনেকেই তাকে ভুল করে এই দিনেও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান।
আবুল হায়াত ২০০৮ সালে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৫ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। গত ঈদে রাবেয়া খাতুনের গল্পে ‘আপোষ’ নাটকটি নির্মাণ করেন তিনি। এ ছাড়া গেল ঈদে তার অভিনীত সাগর জাহান পরিচালিত ‘কথা রেখেছিলাম’, আবু হায়াত মাহমুদের ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ এবং চয়নিকা চৌধুরীর ‘গল্পটি হতে পারতো ভালোবাসার’।
বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়ত জানে না যে, আবুল হায়াতের একসময় মাথাভর্তি চুল ছিল। তরুণীদের হার্টথ্রব তারকা ছিলেন আবুল হায়াত। তার গোঁফ ছিল সেই সময়কার যুবকদের আইকনিক স্টাইল।
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রতি খুব বেশি মনোযোগ দেননি আবুল হায়াত। ১৯৭২ সালে সুভাস দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে আগমন করেন। অভিনেতা প্রয়াত সালমান শাহর প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এ বড় মির্জা চরিত্রে অভিনয় করেন আবুল হায়াত। এর পর অল্প কিছু ভিন্নধারার চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। এর মধ্যে ডিপজলসহ আরেক অভিনেতা প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার সঙ্গেও একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখির কাজেও দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন আবুল হায়াত। পত্রিকায় নিয়মিত কলামও লিখতেন। ১৯৯১ সালের বইমেলায় তার প্রথম বই ‘আপ্লুত মরু’ প্রকাশিত হয়।
সূত্র : আমাদের সময়