আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নোঙর করে রাখা রাশিয়ার একটি মহাকাশ যানে ছোট্ট একটি ছিদ্র দেখা যাওয়ার পর এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ছিদ্রটি সেখানে কীভাবে তৈরি হলো, সেটা এখনো একটা রহস্য।
৫ সেপ্টেম্বর, বুধবার সয়ুজ মহাকাশযানের ক্রু সদস্যরা যানটির গায়ে এই ছিদ্রটি দেখতে পায়। টেপ লাগিয়ে তারা এই ছিদ্রটি বন্ধ করে রাখার চেষ্টা করছে।
ইতোমধ্যে রাশিয়ায় বেসামরিক মহাকাশ সংস্থার প্রধান বলেন, ‘ড্রিল মেশিন দিয়ে এই ছিদ্রটি তৈরি করা হয়েছে।’ তিনি ধারণা করছেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করা হয়ে থাকতে পারে। ছিদ্রটির কারণে মহাকাশ যানের ভেতরে চাপ সামান্য কমে গেছে।
রুশ সংস্থাটির প্রধান দিমিত্রি রগোজিন বলেন, ‘এভাবে আরও কয়েকটি ছিদ্র করার চেষ্টা করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘ছিদ্র দেখে বোঝা যাচ্ছে কাঁপা কাঁপা হাতে ছিদ্রটি করা হয়েছে।’
মহাকাশযানের গায়ে ছিদ্রের ছবি দিয়ে নাসার টুইট।
আগে ধারণা করা হয়েছিল মহাকাশে ভাসমান ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোনো পাথর, যা এক মাইক্রোমিটারের মতো বড়, অথবা মহাকাশের কোনো অরবিটাল বর্জ্যের আঘাতে এই ছিদ্রটি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু রুশ মাহাকাশ সংস্থা সেই আশঙ্কা বাতিল করে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বর্তমান ছয়জন ক্রু সদস্য অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে তিনজন আমেরিকান, দুজন রুশ এবং একজন জার্মান।
রগোজিন আরও বলেন, ‘যে এই ছিদ্রটি করেছে, আমরা সেই দোষী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এজন্য একটি কমিশন গঠন করা হবে।’
রগোজিন বলেন, ‘রুশ যে কোম্পানি এই সয়ুজ মহাকাশযানটি তৈরি করেছে, এই ঘটনা তাদের জন্যে একটি “সম্মানহানির” ব্যাপার।’
ছিদ্রটি সয়ুজ মহাকাশযানের এমন একটি অংশে করা হয়েছে, যা নভোচারীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার সময় ব্যবহার করা হবে না।
মহাকাশযানের গায়ে ছিদ্র তৈরি হওয়ার এই ছবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।
রাশিয়ায় মহাকাশ শিল্পের একটি সূত্র রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে জানান, কাজাখস্তানের বাইকোনর কসমোড্রোমে পরীক্ষার সময় এই মহাকাশযানটির ক্ষতিসাধন হয়ে থাকতে পারে। তারপর প্রাথমিক পরীক্ষার পর এই ত্রুটি হয়তো ঢেকে রাখা হয়েছিল।
সূত্রটির দবি, ‘কেউ হয়তো এ রকম একটা কিছু করে ফেলেছে। তারপর ভয়ে ওই ছিদ্রটা ঢেকে রাখার চেষ্টা করেছে, যেটি দিয়ে ছিদ্রটি বন্ধ করা হয়েছিল, সয়ুজ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের পৌঁছানোর পর সেটি শুকিয়ে হয়তো খুলে পড়ে গেছে।’
রগোজিন একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তৈরি করার সময় এই ত্রুটি ছিল নাকি পূর্বপরিকল্পিত, সেটা আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। কিন্তু এখানে আরও একটা বিষয় আছে, যেটা আমরা এখনই উড়িয়ে দিচ্ছি না। সেটা হচ্ছে, মহাকাশে কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই হামলা করেছে কি না!’
সূত্র: বিবিসি বাংলা,প্রিয়.কম