মতিনুজ্জামান মিটু: হর্টিকালচার সেন্টার না থাকায় দেশের ১৮ জেলার কৃষক ও উদ্যোক্তারা সরকারের উদ্যান বিষয়ক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি সেবা পাওয়ার অভাবে প্রাইভেট নার্সারির ওপর ভরসা করতে যেয়ে অনেক সময় বাড়তি টাকা দিয়েও প্রতারিত হচ্ছেন অনেকে।
সুবিধা বঞ্চিত এ জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, লক্ষীপুর, নীলফামারি, কুড়িগ্রাম, লালমনির হাট, পঞ্চগড়, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষিরা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা ও শরিয়তপুর।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং সুত্র জানায়, বর্তমানে ৭৩টি জেলায় হর্টিকালচার সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি হর্টিকালচার সেন্টারকে ক্যাটাগরি-১ এ অন্তর্ভুক্ত করে ২৮ জন উপপরিচালক, ২৫ টিকে ক্যাটাগরি-২ এ অন্তর্ভুক্ত করে ২৫ জন উদ্যানতত্ত্ববিদ ও ২০টিকে ক্যাটাগরি-৩ এ অন্তর্ভুক্ত করে ২০ জন নার্সারী তত্তাবধায়ক দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।
বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের সিনিয়র হর্টিকালচারিষ্ট কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম জানান, এসব সেন্টারে উদ্যান ফসল সম্প্রসারণ, মাতৃবাগান সৃজন, জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ, মান সম্মত বীজ, চারা ও কলম উৎপাদন এবং বিক্রয় করা হয়। ছাড়া দেশ বিদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত ফল, ফুল, কন্দাল ও সবজীর জাতগুলো সংগ্রহ এবং এ জাতগুলোর এদেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগিতা যাচাইসহ নানাবিধ কাজ করে থাকে হর্টিকালচার সেন্টারগুলো। ফলসহ উদ্যান ফসলের ওপর প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে হর্টিকালচারগুলোর মাধ্যমে।
গুণগতমান ও জবাবদিহিতা থাকায় হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতে এসে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। সেন্টার থেকে নতুন মানসম্মত চারা ও কলম কম দামে কিনে চাষি এবং উদ্যোক্তারা বাগান সৃষ্টিতে উৎসাহি হয়ে থাকে। কাছাকাছি হর্টিকালচার থাকলে এ কাজ আরও সহজ হয়ে ওঠে। দেশের চাহিদামাফিক ফল উৎপাদনের জন্য হাতের কাছে হটিকালচার সেন্টার থাকা দরকার।