রাশিদ রিয়াজ: ২০১৪ সালের পর মার্কিন বাজারে তেলের দর ব্যারেল প্রতি ৯৫ মার্কিন ডলার আর কখনো ওঠেনি। তবে এবার তাও উঠতে পারে। এমন আশঙ্কা করে প্রখ্যাত জালানি বিশেষজ্ঞ জন কিলডাফ মার্কিন মিডিয়া সিএনবিসি’কে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আর ওপেকের তেলের উৎপাদনের পরিমাণ স্থির করে দেওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরব তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে না পারলে আগামী শীতেই তেলের দর ব্যারেল প্রতি ৯৫ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফিনান্সিয়াল ট্রিবিউন
সিএনবিসি’র ‘ফিচারস নাও’ অনুষ্ঠানে হুঁশিয়ারী দিয়ে এই জালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, তেলের আন্তর্জাতিক বাজার তপ্ত হয়ে উঠছে এবং তা আরো উত্তপ্ত হবে বলেই আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন অবরোধের কারণে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি তেলের সরবরাহ হ্রাস পায় তাহলে তা বাজারকে স্বাভাবিকভাবেই সরবরাহে ঘাটতির দিকেই নিয়ে যাবে। চাহিদা ও সরবরাহের এ ঘাটতিতে তেলের দর খুব স্বাভাবিকভাবে চড়ে যাবে। ইতিমধ্যে অপরিশোধিত তেল ব্যারেল প্রতি দর বৃদ্ধি হয়ে ৭০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
জন কিলডাফ বলেন, বর্তমানে তেলের দর যে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাও কিছুদিনের মধ্যে সস্তা বলে মনে হবে কারণ তেলের দর আরো বাড়বে। মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের তেল রফতানিতে ব্যাঘাত ঘটলে বিকল্প বাজার খুঁজতে শুরু করবে দেশটি থেকে তেল আমদানিকারক দেশগুলো। স্বাভাবিকভাবে উঁচু দরেই তা কিনতে হবে। ইরানের তেল বাজার হারাতে শুরু করলে তার প্রতিক্রিয়া মার্কিন তেলের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং গ্যাসোলিনের গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের রিফাইনারি ছাড়াও গাড়ি চালকদের কাছে গ্যাসোলিনের যে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বাজারে এক ঝড়ো হাওয়া সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরো বলেন, অপরিশোধিত তেল কিংবা গ্যাসোলিনের দর কতটা বাড়ল তারচেয়েও বড় কথা সবাই কাজ চায় এবং তা অব্যাহত রাখতে চায়। কিন্তু তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে তা কতটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে সেটাই আশঙ্কার কারণ। গত মঙ্গলবার মার্কিন অপরিশোধিত তেল ব্যারেল প্রতি ৭১.১ ডলার ছাড়িয়ে যায় যা গত মধ্যজুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। আর বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ছিল ব্যারেল প্রতি ৭৯.১ ডলারে।