আদম মালেক : কমছে রেমিটেন্স প্রবৃদ্ধি। আমদানির কারণে বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা। ভাটা পড়েছে ব্যাংকের রিজার্ভে। এ অবস্থায় রেমিটেন্সের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিদেশগামীদের জন্য স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ দিতে চায় সরকার। এজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পুন:অর্থায়ন করবে কেন্দ্রিয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-৭ অর্থবছরে প্রবাসী আয় হঠাৎ করে কমে যায়। পরের বছর প্রবাসী আয় কিছুটা বাড়লেও চলতি অর্থবছরের আগস্ট মাসে আবার কমে যায়। এদিকে সাম্প্রতিক সময় রপ্তানি বাড়লেও তার চেয়ে বেশি হারে দেশে আমদানি বেড়েছে। সরকারের নানা উন্নয়ন প্রকল্প ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ফলে আমদানি বেড়ে যায়। বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে টান পড়ে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৩ দশমিক ৩৬৯ বিলিয়ন ডলার সেখানে জুন মাস পর্যন্ত আমদানি ব্যয় পরিশোধ করার পর জুলাই মাসে রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক শুন্য ৭৮ ডলারে। প্রবাসী আয়ের এই ধারাকে বিপদজনক মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রেমিটেন্স বৃদ্ধি না করা গেলে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সুত্র জানায়, এ সব চিন্তা থেকে বিদেশি গমনেচ্ছুক শ্রমিকদের সহজ শর্তে ঋণ দিতে চায়। বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে গমনেচ্ছুক শ্রমিকদের জন্য একটি তহবিল গঠন করতে চায়, তা থেকে পুন:অর্থায়ন হিসাবে অর্থ নিয়ে অভিজ্ঞ ও ইচ্ছুক বাণিজ্যিকগুলো বিদেশমুখি শ্রমিকদের দেবে। এ সব প্রবাসী শ্রমিকরা বিদেশে আয় করে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সেই টাকা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দেবে। এ জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বিশেষায়িত প্রবাসি কল্যাণ ব্যাংক, বেসরকারি খাতের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকসহ ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে ডাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সব ব্যাংকের পরামর্শের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যস্থাপনা পরিচালক মো.শাম্স উল আলম বলেন, বিদেশগামীদের জন্য সরকারের পুন:অর্থায়নের উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। গ্রামের যে সকল নিরীহ মানুষ জায়গা জমি বিক্রি করে বিদেশ যায় তারা উপকৃত হবে। আমরাও ঋণ দিই। আমাদের পর্যাপ্ত তহবিল আছে। বাড়তি তহবিলের প্রয়োজন নেই।