Skip to main content

অল্পতুষ্টির উপকার ও প্রশান্তি

মোস্তফা কামাল গাজী: অল্পতুষ্টি মানুষের একটি মহৎ গুণ। যে এটি অর্জন করতে পারবে, দুঃখ-কষ্ট তাকে কখনো ছুঁতে পারবে না। আল্লাহর প্রদত্ত নেয়ামত নিয়েই সে সন্তুষ্ট থাকে। বাড়তি কোনো চাহিদা না থাকায় কখনো সে অভাব অনুভব করে না। অল্পতুষ্টির আরবি প্রতিশব্দ হল কানাআত। যার অর্থ, ‘জীবিকা হিসেবে যতটুকু লাভ হয় তাতেই সন্তুষ্ট থাকা।’ ইমাম আসমায়ি (র.) বলেন, ‘কানাআত হলো আল্লাহ যা দান করেছেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকা।’ মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, পার্থিব ভোগ সামগ্রীতে একে অন্যের ওপর আধিক্য লাভের বাসনা তোমাদেরকে উদাসীন করে রাখে। যতক্ষণ না তোমরা কবরে পৌঁছ। কিছুতেই সমীচীন নয়। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।’ ( সূরা তাকাসুর: ১-৪ ) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সফল ওই ব্যক্তি যে ইসলামের মত মহান দৌলত লাভ করেছে। এবং আল্লাহ তায়ালা তাকে প্রয়োজন পরিমাণ জীবিকা দানের সঙ্গে সঙ্গে কানাআতের গুণও দান করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম: ১০৫৪) কানাআতের উপকার সমূহ ১. কানাআত ঈমানের মধ্যে পূর্ণতা আনে এবং ইসলামের সৌন্দর্যতা বৃদ্ধি করে। ২. কানাআত অবলম্বনকারী ব্যক্তির হৃদয় সবসময় ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং আল্লাহর নিকট যা আছে তার প্রতি আসক্তি বোধ করে। ৩. কানাআত অবলম্বনকারীকে মানুষ ভালোবাসে। এবং আল্লাহও তাকে মহব্বত করেন। ৪. অন্তরে প্রশান্তি লাভ হয়। যা তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকতে সাহায্য করে। ৫. যদি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ এগুণ অর্জন করতো, তাহলে গরিব আর বঞ্চিতদের দেখা মিলতো না। ৬. কানাআত পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসা বিস্তারের বৃহৎ মাধ্যম। কানাআত হলো আখিরাতকালীন জীবনে সুখ-শান্তি লাভের একটি সহজ উপায়। অন্যদিকে দুনিয়ার প্রতি লোভ-লালসা এবং বিলাসী জীবন অবলম্বন করা, সেই স্বর্গীয় সুখ-শান্তির পথে একমাত্র বাধা। তাই মহান আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল প্রেরণ করে প্রতিটি উম্মতকে এই লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই বুঝাতে চেয়েছেন। আমাদের প্রিয়নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবাগণকে একই আদর্শ শিখিয়ে গেছেন। আমাদের উচিত কানাআত অর্জনের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলির প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা। (ক) অন্তরকে অল্পতুষ্টি ও দুনিয়া বিমুখতায় উদ্বুদ্ধ করা। কেননা, ধনাঢ্যতা এবং দারিদ্রতা পুরোটাই মনের ওপর নির্ভর করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত ধনী আত্মার ধনী।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৪৬) (খ) মনের মাঝে এ বিশ্বাস বদ্ধমূল করা যে, একজন আদম সন্তানের রিজিক সে তার মায়ের গর্ভে অবস্থানকালেই আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করে দেন। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মায়ের গর্ভে একজন ফিরিশতা প্রেরণ করা হয়, সে নবজাতকের মাঝে আত্মা ফুঁকে দেয়। এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে চারটি অধ্যাদেশ জারি করে। ১. সে কী পরিমাণ রিজিক পাবে। ২. তার দুনিয়াতে অবস্থানকাল কতটুকু। ৩. তার আমল কেমন হবে। ৪. সে সৌভাগ্যবান না দূর্ভাগা। (সহিহ বুখারি: ৭৪৫৩) (গ) সবসময় নিজের চেয়ে নিম্নমানের লোকের দিকে লক্ষ্য করা। নিজের চেয়ে যার বেশি তার প্রতি নয়। কারণ এতে মানুষের লোভ-লালসা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এজন্যই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিজের চেয়ে নিম্নমানের লোকের দিকে লক্ষ্য কর। নিজের চেয়ে বেশি আছে যার তার প্রতি নয়। কারণ এতে বেশি সঞ্চয়ের লোভ মনের মাঝে জেঁকে বসে। (সহিহ বুখারি: ৬৪৯০) (ঘ) একথা সবসময় মনে রাখা চাই যে, আমার সম্পদ যদি অন্যায় পথে অর্জিত হয়, তাহলে এ সম্পদই আমার জন্য মহাবিপদ। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘চারটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে কোন বনী আদম নিজের জায়গা থেকে একচুল পরিমাণও অগ্রসর হতে পারবে না। তন্মধ্যে তৃতীয়টি হলো-সম্পদ কোত্থেকে উপার্জন করে কোথায় ব্যয় করা হলো।’ (জামে তিরমিজি: ২৪১১) (ঙ) আল্লাহ তায়ালার নিকট সর্বদা অল্পতুষ্টির গুণ অর্জনের জন্য দোয়া করা।