প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কত তারিখে প্রতিষ্ঠা হয়েছে ঢাকা কলেজ, তা জানেন না কর্তৃপক্ষ!

এ জেড ভূঁইয়া আনাস : উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ঢাকা কলেজ। উইকিপিডিয়া বলছে কলেজটি ১৮৪১ সালের ১৮ জুলাই উপমহাদেশে বিশেষ করে এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে ইংরেজি শিক্ষা দানের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই তারিখে দীর্ঘদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনও করে। কিন্তু বর্তমান অধ্যক্ষ ১৮ জুলাইকে ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হিসেবে মানতে নারাজ। তার মতে, এ দিনটি যারা উদযাপন করে তারা ভ্রান্ত ধারণা থেকে উদযাপন করে। তবে ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সঠিক তারিখও জানেন না বলে জানান তিনি।

দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নিয়ে বিতর্ক থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ কত তারিখে প্রতিষ্ঠা হলো তা না জানা খুবই দুঃখজনক। সত্যিকারার্থে কত তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তা জানাতে অনুসন্ধানে নেই কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিরোধ আর ভুল তারিখ নয়, সঠিক দিনেই কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে চায় তারা। তাই শীঘ্রই সঠিক তারিখ অনুসন্ধানের দায়িত্ব নিতে হবে কর্তৃপক্ষকেই। আর ইতিহাসবিদরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলেই উঠে আসতে পারে দেশের প্রাচীন কলেজটির সঠিক ইতিহাস।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জানে না কলেজের শিক্ষকরা এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। তিনি বলেন, শিক্ষকদের উচিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন নির্ধারণ করে দিনটিকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কলেজের ঐতিহ্য সম্পর্কে তুলে ধরা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ। উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা কলেজ যাত্রা শুরু করে। এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে বিশ্বজোড়া খ্যাতি। তাই শিক্ষকদের উচিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা। কিন্তু এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কোন ধরনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বা কোন ধরনের অনুষ্ঠান না থাকাটা খুবই দুঃখজনক।
আবদুল্লাহ আল কাফি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী বলেন, প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজের একজন ছাত্র হিসেবে আমি গর্বিত। বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অনেক ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্পর্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানেন না এটা আমাদের জন্য হতাশার বিষয়। ঢাকা কলেজ অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের মতো নয়। এই কলেজের একটা ঐতিহ্য রয়েছে। প্রতি বছরই ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা দরকার। আর এর ঐতিহ্য সম্পর্কে অনেকেই জানে না। তাই শিক্ষকদের উচিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা।

সাদ্দাম হোসেন বলেন, ইতিহাস সৃষ্টির যুগান্তকারী এ কলেজের রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। আগে অনেক বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হতো। কিন্তু এখন শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষকদের সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স ফলপ্রার্থী শেখ ফরিদ বলেন, ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠার তারিখ জানা শুধু ঢাকা কলেজের জন্য নয়, দেশের জন্যও দরকার। কারণ ঢাকা কলেজ দিয়েই আমাদের এ অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষার আগমন ঘটেছে। তাই এই কলেজের তারিখ জানা এবং উদযাপন করা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও দেশের শিক্ষা পরিবারের একান্ত দায়িত্ব। তাই আমরা চাই দ্রুত এ দ্বন্দ্বের অবসান হোক। সঠিক দিনে পালিত হোক ঢাকা কলেজ ও দেশের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্মদিন।
অধ্যক্ষ প্রফেসর মোয়াজ্জম হোসেন মোল্লা বলেন, আসলে ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট কোন তারিখ কোথাও উল্লেখ আছে বলে আমার জানা নেই। সাবেক একজন অধ্যক্ষ জুলাই মাসের ১৮ তারিখ ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতেন। তবে এর কোন ভিত্তি নেই। আমি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি সুনির্দিষ্টভাবে খুঁজে বের করার জন্য একটি কমিটি করেছিলাম। তবে তারাও ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠার দিনটি খুঁজে বের করতে পারেনি। তবে আমরা এ বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে খুব শীঘ্রই একটি দিন নির্ধারণ করব।

শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল বলেন, আমি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলাম। তবে যেহেতু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে বিরোধ রয়েছে তাই আমি কোন মন্তব্য করে তাদের রাজনীতিতে পড়তে চাই না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আমিও ঢাকা কলেজের ছাত্র ছিলাম। বিষয়টা দুঃখজনক ঢাকা কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি সুনির্দিষ্ট নয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত