প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর
পুরুষের তুলনায় নারীদের আয়ু বেড়েছে

সাইদ রিপন: দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছর। এর আগে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ গড় আয়ু হিসেব করা হয়েছিলো ৭১ বছর ৭ মাস ৬ দিন। বুধবার আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মিলনায়তনে ‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ’ (এমএসভিএসবি) শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিবিএস মহাপরিচালক মো. আমীর হোসেনর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এমএসভিএসবি প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক। তবে লক্ষ্যে করা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের গড় আয়ু বাড়ার হার বেশি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী পুরুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭০ বছর ৭ মাস ২০ দিন। যেখানে ২০১৬ সালে পুরুষের গড় আয়ু ছিল ৭০ বছর ৩ মাস ১৮ দিন। অন্যদিকে ২০১৬ সালে নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭২ বছর ১০ মাস ২৪ দিন। যেটি ২০১৭ সালে বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর ৬ মাস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের প্রাক্কলিত জনসংখ্যা ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার। ২০১৭ সালের ১ জুলাই জনসংখ্যার প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১৬ কোটি ২৭ লাখ। এটি অনুমিত হিসাব। হিসাব অনুযায়ী পুুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার, নারীর সংখ্য ৮ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার। ২০১৩ সাল থেকে একই হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অর্থাৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশেই স্থির রয়েছে। এছাড়া দেশে বিবাহিত ও তালাকপ্রাপ্ত পুরুষের সংখ্যা বেড়েছে। দেশের মোট বিবাহযোগ্য পুরুষ জনসংখ্যার ৫৯ দশমিক ৯ শতাংশ ২০১৭ সাল পর্যন্ত বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। ২০১৬ সালে এ হার ছিল ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ। ১০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষের বিয়ের হিসাব করে এ হিসাব করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, বিপত্বীক, তালাকপ্রাপ্ত ও বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন পুরুষের হার ১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। অবিবাহিত পুরুষ জনসংখ্যার হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ। এর আগের বছর এ হার ছিল ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ। তাছাড়া নারীদের ক্ষেত্রে তালাক ও বিবাহ বিচ্ছিন্ন অবস্থার থাকার প্রবণতা ২০১৬ সালের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। ২০১৭ সালে এ হার হয়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ১০ শতাংশ। ১০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে বিবাহিত ও অবিবাহিতের হার খুব একটা বাড়েনি। বিবাহিত নারীর হার গত দুই বছরে ছিল যথাক্রমে ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ ও ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ। অবিবাহিত নারীদের এই হার ২০১৭ সালে ২৬ দশমিক ২ শতাংশ ও ২০১৬ সালে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ।

এছাড়াও প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে, জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ব্যবহারের হার ২০১৬ সালের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। ২০১৭ সালে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, যা আগের বছরে ছিল ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ। ৭ বছরের বেশি বয়সী জনসংখ্যার স্বাক্ষরতার হার ৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে।এছাড়া ১৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী জনসংখ্যার শিক্ষার হার ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। জনসংখ্যার ধর্মভিত্তিক বিভাজনে কোনো রকম পরির্বতন হয়নি। গত দুবছর ধরে তা একই রয়েছে। মুসলিম ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ ও অন্যান্য ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছর শেষে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ অর্জিত হতে পারে। এর আগে অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের প্রাক্কলিত হিসাবে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ হিসাব করা হয়েছিল। আমাদের কাছে এই মুহুর্তে যে তথ্য আছে তা হিসাব করলে আমরা প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলিত হিসাবকে ছাড়িয়ে যাব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত