প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জটিল সমীকরণে গ্রুপ-এফে থাকছে ৪ দলেরই সুযোগ

স্পোর্টস ডেস্ক : ‘এফ’ গ্রুপ থেকে নক আউটে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে চারটি দেশেরই। দুই ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে থাকা মেক্সিকোও বাদ পড়তে পারে। আবার দুই ম্যাচই হেরে শূন্য পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা দক্ষিণ কোরিয়াও নক আউট পর্বে যেতে পারে। একটি করে জয় পাওয়া সুইডেন আর জার্মানিও আছে জটিল সমীকরণ মেলানোর আশায়।

ম্যাচ: জার্মানি-দক্ষিণ কোরিয়া এবং মেক্সিকো-সুইডেন

জার্মানি:

# দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতলে অন্য ম্যাচে কি হলো তা ভাবতেই হবে না জার্মানিকে। কোনো হিসাব ছাড়াই চারবারের বিশ্ব্ চ্যাম্পিয়নরা উঠে যাবে নকআউট পর্বে। কারণ তখন মেক্সিকো-সুইডেন ম্যাচে যে ফলই হোক না কেন গোল পার্থক্যে এক সঙ্গে দুটি দলই জার্মানির ওপরে থাকতে পারবে না।

উদাহরণ ১. জার্মানি ২ গোলের ব্যবধানে জিতলে তাদের গোল পার্থক্য হবে +২। তখন সুইডেন ১-০ গোলে জিতলে তিন দলেরই হবে পয়েন্ট সমান হবে কিন্তু মেক্সিকো আর সুইডেন দুই দলের গোল পার্থক্য থাকবে +১। সুইডেন ২-০ গোলে জিতলে তিন দলেরই হবে পয়েন্ট সমান আর জার্মানি আর সুইডেনের গোল পার্থক্য থাকবে +২ আর মেক্সিকোর ০।

# জার্মানি এক গোলের ব্যবধানে যদি জেতে তখন সুইডেন এক গোলের ব্যবধানে জিতলে তিন দলেরই পয়েন্ট হবে সমান, গোল পার্থক্যও হবে সমান। তখন দেখা হবে মোট গোলে কে এগিয়ে। আর সেটা সমান হলে দেখা হবে তিন দলের মধ্যে ম্যাচের পয়েন্ট, সেটা সমান হলে তিন দলের মধ্যে ম্যাচের গোল পার্থক্য আর সেটাও সমান হলে তিন দলের মধ্যে ম্যাচের মোট গোল দেখা হবে।

উদাহরণ ১. জার্মানি আর সুইডেন উভয়ই ১-০ গোলে জিতলে এই অবস্থা দেখা যাবে। তখন তিন দলের পয়েন্টই হবে সমান ৬। তিন দলের গোল পার্থক্য হবে সমান +১। তিন দলের মোট গোল হবে ৩। তাই তখন দেখা হবে এই তিন দলের মধ্যে ম্যাচগুলোর পয়েন্ট। এখানে নিজেদের মধ্যে খেলায় তিন দলেরই পয়েন্ট সমান ৩। নিজেদের মধ্যে ম্যাচের গোল পার্থক্য সমান শূন্য। কিন্তু তিন দলের মধ্যে ম্যাচের মোট গোল জার্মানি আর সুইডেনের ২ কিন্তু মেক্সিকোর ১। তখন বাদ পড়বে মেক্সিকো। আর জার্মানি আর সুইডেনের মধ্যে কে শীর্ষস্থান পাবে সেটা নির্ধারিত হবে ডিসিপ্লিনারি রেকর্ডের উপর।

উদাহরণ ২. জার্মানি ১-০ গোলে জিতলে আর সুইডেন ২-১ গোলে জিতলে তখন তিন দলের পয়েন্টই হবে সমান ৬। তিন দলের গোল পার্থক্য হবে সমান +১। কিন্তু মোট গোল মেক্সিকো আর সুইডেনের হবে ৪ কিন্তু জার্মানির হবে ৩। তখন বর্তমান চ্যাম্পিয়রা গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়বে। সুইডেন তখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে মেক্সিকোকে হারানোয়।

তাই জার্মানি আর সুইডেন উভয়ই যদি ১ গোলের ব্যবধানে জেতে তবে জার্মানির যাওয়া নির্ভর করবে দুই ম্যাচের স্কোরলাইনের ওপর।

# জার্মানি ড্র করলে কোনো হিসাব নিকাশ ছাড়াই শেষ ষোলোতে যাবে যদি সুইডেন হারে। কিন্তু সুইডেনও যদি ড্র করে তখন কোন দল শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর সঙ্গী হবে তা নির্ভর করবে দুই দলের মোট গোল বা সেটা সমান হলে দুই দলের মধ্যে ম্যাচের ফলের উপর।

উদাহরণ ১. দুই ম্যাচই একই স্কোরে (যেমন ১-১, ২-২, ৩-৩ ..) ড্র হলে পয়েন্ট ও গোল পার্থক্য ও গোল করার হিসেবে সমতায় থাকবে জার্মানি ও সুইডেন। সেক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে ম্যাচে জিতে থাকায় শেষ ষোলোয় উঠবে ইওয়াখিম লুভের দল।

২. জার্মানি ১-১ গোলে আর সুইডেন ২-২ গোলে ড্র করলে পয়েন্ট ও গোল পার্থক্যে সমতায় থাকবে দুই দল। কিন্তু বেশি গোল করায় মেক্সিকোর সঙ্গী হবে সুইডিশরা।

তাই যদি দুই ম্যাচই ড্র হয় তবে তবে জার্মানির ম্যাচের চেয়ে সুইডেনের ম্যাচে বেশি গোল না হলেই জার্মানরা শেষ ষোলোতে যাবে।

# জার্মানি যদি হারে তাহলেও সুযোগ থাকবে তাদের শেষ ষোলোতে যাওয়ার। তবে তখন কোনোভাবেই ১ গোলের বেশি ব্যবধানে হারা যাবে না এবং সুইডেনেরও হারতে হবে ১ গোলের ব্যবধানেই এবং পক্ষে আসতে হবে ম্যাচ দুটির স্কোর লাইন। কারণ জার্মানি ১ গোলের বেশি ব্যবধানে হারলেই গোল ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়ার নিচে চলে যাবে এবং আর কোনো সমীকরণ কাজে আসবে না। আর জার্মানি ১ গোলের ব্যবধানে হারার পর যদি সুইডেন ১ গোলের বেশি ব্যবধানে হেরে যায় তাহলে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে পরে সুইডেন বাদ পড়ে যাবে। তখন কেবল দেখা হবে জার্মানি আর কোরিয়ার মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল যাতে জেতায় দক্ষিণ কোরিয়াই এগিয়ে থাকবে। তাই জার্মানি যদি কোনোভাবে ১ গোলের ব্যবধানে হেরেই যায় তাহলে সুইডেনের হারও চাইতে হবে আবার ১ গোলের বেশি ব্যবধানে যেন না হারে তাও চাইতে হবে। এবং এরপর তিন দলের মোট পয়েন্ট সমান হয়ে যাওয়ার পর আসবে মোট গোল, নিজেদের মধ্যে ম্যাচের পয়েন্ট, নিজেদের মধ্যে ম্যাচের গোল, ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড এসব বিষয়।

উদাহরণ ১. সুইডেন আর জার্মানি দুই দলই ১-০ গোলে হারলে জার্মানি, সুইডেন আর দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্ট হবে সমান। গোল পার্থক্য হবে সমান, মোট গোল হবে সমান, নিজেদের মধ্যে ম্যাচের পয়েন্ট হবে সমান, নিজেদের মধ্যে ম্যাচের গোল পার্থক্য হবে সমান। কেবল নিজেদের মধ্যে ম্যাচে গোল করার ক্ষেত্রে জার্মানি আর সুইডেনের হবে ২ গোল আর দক্ষিণ কোরিয়ার ১ গোল। তাই দক্ষিণ কোরিয়া বাদ পড়বে আর জার্মানি আর সুইডেনের মধ্যে ডিসিপ্লিনারি রেকর্ডে এগিয়ে থাকা দলটি মেক্সিকোর সঙ্গী হবে।

উদাহরণ ২. যদি সুইডেন আর জার্মানি দুই দলই ২-১ গোলে হারে তবে জার্মানি, সুইডেন আর দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্ট হবে সমান। গোল পার্থক্য হবে সমান মোট গোল হবে সমান, নিজেদের মধ্যে ম্যাচের পয়েন্ট হবে সমান, নিজেদের মধ্যে ম্যাচের গোল পার্থক্য হবে সমান। তবে তখন নিজেদের মধ্যে ম্যাচে জার্মানির গোল হবে ৩ আর সুইডেন ও কোরিয়ার হবে ২। তাই দ্বিতীয় স্থান পাবে জার্মানি।

উদাহরণ ৩. জার্মানি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হারলে এবং সুইডেন ১-০ গোলে হারলে জার্মানি, সুইডেন আর দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্ট হবে সমান। গোল পার্থক্য হবে সমান কিন্তু মোট গোল জার্মানি আর কোরিয়ার হবে ৩ আর সুইডেনের হবে ২। তখন সুইডেন হিসাবের বাইরে চলে যাবে আর জার্মানিকে হারানোয় এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থান পাবে কোরিয়া।

উদাহরণ ৪. জার্মানি কোরিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারলে আর সুইডেন ২-১ গোলে হারলে জার্মানি, সুইডেন আর দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্ট হবে সমান। গোল পার্থক্য হবে সমান কিন্তু মোট গোল সুইডেনের হবে ৩ আর জার্মানি আর কোরিয়ার হবে ২। তখন সুইডেন দ্বিতীয় স্থান পাবে।

মেক্সিকো:

# সুইডেনের সঙ্গে ড্র করলেই গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত হবে মেক্সিকোর।

# জার্মানি জিততে না পারলে হারলেও নকআউট পর্বে যাবে মেক্সিকো।

# জার্মানি জিতলে সুইডেনের কাছে হেরেও মেক্সিকো পরের রাউন্ডে যাবে তবে শর্ত হলো কোনোভাবেই ১ গোলের বেশি ব্যবধানে হারা যাবে না এবং কোনোভাবেই জার্মানির ১ গোলের বেশি ব্যবধানে জেতা যাবে না এবং ম্যাচ দুটির স্কোর লাইন পক্ষে আসতে হবে। কারণ মেক্সিকো ২ গোলের ব্যবধানে হারলেই গোল পার্থক্যে সুইডেন আর জার্মানির পেছনে পড়ে যাবে। আবার মেক্সিকো ১ গোলের ব্যবধানে হারলেও জার্মানি যদি দুই গোলের ব্যবধানে জিতে তবে গোল পার্থক্যে মেক্সিকো জার্মানির পেছনে পড়বে আর মুখোমুখি লড়াইয়ে সুইডেনের পেছনে পড়বে। এই শর্তগুলো মেনে মেক্সিকো হারলে আর জার্মানি জিতলে স্কোরলাইনের উপর নির্ভর করবে মেক্সিকোর ভাগ্য।

উদাহরণ ১. জার্মানি আর সুইডেন উভয়ই ১-০ গোলে জিতলে তিন দলের পয়েন্টই হবে সমান ৬। তিন দলের গোল পার্থক্য হবে সমান +১। তিন দলের মোট গোল হবে ৩। তাই তখন দেখা হবে এই তিন দলের মধ্যে ম্যাচগুলোর পয়েন্ট। এখানে নিজেদের মধ্যে খেলায় তিন দলেরই পয়েন্ট সমান ৩। নিজেদের মধ্যে ম্যাচের গোল পার্থক্য সমান শূন্য। কিন্তু তিন দলের মধ্যে ম্যাচের মোট গোল জার্মানি আর সুইডেনের ২ কিন্তু মেক্সিকোর ১। তখন বাদ পড়বে মেক্সিকো। আর জার্মানি আর সুইডেনের মধ্যে কে শীর্ষ স্থান পাবে সেটা নির্ধারিত হবে ডিসিপ্লিনারি রেকর্ডের উপর।

উদাহরণ ২. জার্মানি ১-০ গোলে জিতলে আর সুইডেন ২-১ গোলে জিতলে তখন তিন দলের পয়েন্টই হবে সমান ৬। তিন দলের গোল পার্থক্য হবে সমান +১। কিন্তু মোট গোল মেক্সিকো আর সুইডেনের হবে ৪ কিন্তু জার্মানির হবে ৩। তখন বর্তমান চ্যাম্পিয়রা গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে পড়বে। সুইডেন তখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে মেক্সিকোকে হারানোয়। মেক্সিকো হবে গ্রুপ রানার্সআপ।

উদাহরণ ৩. জার্মানি আর সুইডেন দুই দলই ২-১ গোলে জিতলে তিন দলের পয়েন্টই হবে সমান ৬। তিন দলের গোল পার্থক্য হবে সমান। মোট গোল হবে সমান। তখন দেখা হবে মেক্সিকো, জার্মানি আর সুইডেনের মধ্যে ম্যাচের পয়েন্ট যা সমান। এই তিন দলের মধ্যে ম্যাচের গোল পার্থক্যও সমান। তবে তিন দলের মধ্যে ম্যাচের মোট গোল সুইডেনের হবে ৩ আর জার্মানি আর মেক্সিকোর হবে ২। তখন সুইডেন হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর জার্মানি-মেক্সিকো ম্যাচে মেক্সিকো জিতে থাকায় তারা হবে গ্রুপ রানার্সআপ।

সুইডেন:

# সুইডেন যে কোনো ব্যবধানে জিতলেই নক আউট পর্বে যাবে অন্য ম্যাচে জার্মানি যে কোনো ব্যবধানে জিতলেও। কারণ সুইডেন নূন্যতম ব্যবধানে জিতলেও পয়েন্ট, গোল পার্থক্য, মোট গোলে মেক্সিকোর সমান হয়ে যাবে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে খেলায় জেতায় মেক্সিকোর চেয়ে এগিয়ে থাকবে। তাই জার্মানি হারলে জার্মানি ড্র করলে বা জার্মানি যে কোনো ব্যবধানে জিতলেও হিসাব নিকাশে সুইডেন মেক্সিকোর পেছনে পড়বে না। হয় বাদ যাবে জার্মানি নয়তো মেক্সিকো।

# জার্মানি হারলে সুইডেন ড্র করলেও উঠবে।

# জার্মানি ড্র করলে সুইডেন ড্র করলেও উঠবে যদি জার্মানির যে স্কোরে ড্র করবে তার চেয়ে বেশি স্কোরে যদি তারা ড্র করে।

# সু্ইডেন যদি হারে তাহলেও সুযোগ থাকবে তাদের শেষ ষোলোতে যাওয়ার। তবে তখন কোনোভাবেই ১ গোলের বেশি ব্যবধানে হারা যাবে না এবং অন্য ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ারও ১ গোলের বেশি ব্যবধানে জেতা যাবে না এবং এরপর ম্যাচ দুটির স্কোরলাইনের পক্ষে আসতে হবে। কারণ এক্ষেত্রে সুইডেন ১ গোলের বেশি ব্যবধানে হারলেই গোল ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়ার নিচে চলে যাবে এবং আর কোনো সমীকরণ কাজে আসবে না। আর দক্ষিণ কোরিয়া ১ গোলের বেশি ব্যবধানে জিতে যায় তাহলেও গোল পার্থক্যে পিছিয়ে পড়ে সুইডেন বাদ পড়ে যাবে।

# সুইডেন আর জার্মানি দুই দলই ১ গোলের ব্যবধানে হারলে তিন দলের মোট পয়েন্ট সমান হয়ে যাওয়ার পর আসবে মোট গোল, নিজেদের মধ্যে ম্যাচের পয়েন্ট, নিজেদের মধ্যে ম্যাচের গোল, ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড এসব বিষয়।

দক্ষিণ কোরিয়া:

# দক্ষিণ কোরিয়ার জয় ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের কেবল জিতলে হবে না, সুইডেনেরও হারতে হবে এবং সমীকরণ পক্ষে আসতে হবে।

# দক্ষিণ কোরিয়া যদি ২ গোলের ব্যবধানে জেতে তবে সুইডেন হারলেই দক্ষিণ কোরিয়া নক আউট পর্বে যাবে। আবার সুইডেন যদি দুই গোলের ব্যবধানে হারে তবে জার্মানিকে হারালেই দক্ষিণ কেরিয়া মেক্সিকোর সঙ্গী হবে। কারণ এই দুই ক্ষেত্রেই সুইডেন গোল পার্থক্যে দক্ষিণ কেরিয়ার পেছনে পড়বে আর জার্মানি মুখোমুখি লড়াইয়ে কোরিয়ার কাছে হারায় বাদ পড়বে।

# দক্ষিণ কোরিয়া যদি ১ গোলের ব্যবধানে জিতে আর সুইডেন যদি ১ গোলের ব্যবধানে হারে তবে কোরিয়ার উঠতে হলে তাদের ম্যাচটা সুইডেনের ম্যাচের চেয়ে বেশি গোল ড্র হতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ১-০ গোলে জার্মানিকে হারালে আর সুইডেন ১-০ গোলে মেক্সিকোর কাছে হারলে চলবে না। কারণ তখন মেক্সিকোর সঙ্গী হবে জার্মানি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত