প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩ বছর পর মামুন হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার

সুজন কৈরী : রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হওয়া চাঞ্চল্যকর মামুন হত্যা মামলার প্রধান আসামী লিপটনকে (৩১) ৩ বছর পর গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত সোমবার রাতে নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুঁড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৮ জুন রাতে কদমতলীর মুরাদপুরের বাগিচা আদর্শ সড়ক গলির মুখে অজ্ঞাতনামা মুখোশধারী কতিপয় ছিনতাইকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মামুনকে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন মামুনের বাবা মো. আ. রাজ্জাক ফকির বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কদমতলী থানার মামলা (নং-১২) দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে কদমতলী থানা পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত ৫ জনের (সেকান্দার ওরফে সেকেন (২৬), ইস্কান্দার রানা ওরফে স্কেন (২৮), সোহেল রানা ওরফে কেনী (২৫), মো. শিফাত (১৮) ও মো. নিশাত (২২)) বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামী সোহেল রানা, শিফাত ও নিশাত ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে তারা জানায়, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা মামুনকে পথরোধ করে। কিন্তু তিনি চিৎকার এবং বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তারা আরও জানায়, পলাতক লিপটন ওই হত্যাকান্ডের মুলহোতা। এরপরও ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত আসামী লিপটন গ্রেফতার না হওয়ায় এবং পুর্নাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় অভিযোগপত্র থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ওই খুনের ঘটনায় জড়িত আসামী লিপটনকে বাদ দেওয়ায় আদালতের স্বপ্রণোদিত আদেশে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। এরই প্রেক্ষিতে তদন্ত করে লিপটনকে গ্রেফতার করা হয়।

লিপটনকে জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, সে ও তার সহযোগীরা এলাকার ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির। ঘটনার সময় তারা মামুনের পথরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাধা দিলে তারা মামুনকে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে লিপটন দীর্ঘ ৩ বছর ধরে আত্মগোপনে ছিল।

পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, লিপটনের বিরুদ্ধে আরো মামলা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মামুন কদমতলীর মিনাবাগে জনৈক মাহমুদ আওলাদের ইলেকট্রনিক্স দোকানের (নং ১৪৮৮) কর্মচারী ছিলেন। ঘটনার দিন রাতে দোকান থেকে বাসায় ফিরছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত