শিরোনাম
◈ ক্ষুধা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অগ্রগতি, অবনতি ভারত-পাকিস্তানের: ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ◈ রুমিন ফারহানার নামে ছড়ানো ছবি নিয়ে বিভ্রান্তি, ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে দিলেন ব্যাখ্যা ◈ হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে ৭ দলের নতুন জোট ‘সমমনা ইসলামী দল’, ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠক ◈ ‘বাদাম বেচি, জীবন সার্থক, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে আবেগাপ্লুত দাকোপের রাজু ◈ ‘বিন লাদেনের মতো দাউদ ইব্রাহিমও পাকিস্তানে লুকিয়ে আছেন’, জাতিসংঘের প্রতিনিধিকে ভারতের জবাব ◈ হঠাৎ ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের বিশাল সামরিক অভিযান, শক্তি প্রদর্শনে নতুন তৎপরতা ◈ হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন শেষে দাকোপ থেকে নৌপথে মোংলা বন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ সৌদিতে হামলার উত্তেজনার মধ্যেই দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালু রাখল বিমান, গেলেন ৩৭৯ যাত্রী ◈ সাজেকে সড়ক অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলি; নিরাপদে সরানো হলো ২,৯৩৩ পর্যটক ◈ ঢাকার যানজট কমাতে ২০ বছরের পুরোনো বাস অপসারণসহ সরকারের যে চার উদ্যোগ

প্রকাশিত : ২৬ মে, ২০১৮, ০৮:২২ সকাল
আপডেট : ২৬ মে, ২০১৮, ০৮:২২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাহে রমজান: দিল বদলের মোক্ষম সময়

আমিন মুনশি: মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়কে (তাদের অবস্থার) পরিবর্তন করে দেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেরা পরিবর্তনে সচেষ্ট হয়।’(সুরা : রা’দ, আয়াত : ১১) মাহে রমজান হলো মুসলমানদের জীবনে পরিবর্তন আনার মোক্ষম সুযোগ। পৃথিবীতে কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। সব কিছুই পরিবর্তনশীল। বরং পরিবর্তনশীলতাই কেবল স্থায়ী। পরিবর্তনের আকাক্সক্ষাও মানুষকে সব সময় তাড়িয়ে বেড়ায়। মানবজীবনে পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুগে যুগে আবির্ভাব ঘটে মুজাদ্দিদ বা সংস্কারকের। যদিও যেকোনো অবস্থার বদল বা রূপান্তরকেই পরিবর্তন বলে। তথাপি যে পরিবর্তন কাম্য তা হলো অনুন্নত জীবন থেকে উন্নত জীবনে, নিরানন্দ জীবন থেকে আনন্দময় জীবনে, অভিশপ্ত জীবন থেকে সৌভাগ্যময় জীবনে, আশাহত জীবন থেকে আশান্বিত জীবনে, অসৎ জীবনযাপন থেকে সৎ জীবনে, গোমরাহির পথ থেকে হেদায়েতের পথে রূপান্তর ও অবস্থান্তরকেই বোঝায়। কিন্তু কথা হলো, এ পরিবর্তনটা কোত্থেকে শুরু হবে। মূলত পরিবর্তনটা শুরু করতে হবে নিজ থেকে, স্বীয় অন্তর থেকে। বন্ধ ঘরে প্রবেশের জন্য প্রথমে যেমন ইচ্ছা থাকা বাঞ্ছনীয়, ঠিক তেমনি পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রথমে দৃঢ় সংকল্প থাকা অপরিহার্য।

রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের এই মাস শাসক-শাসিতে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচুদের মাঝে সেতুবন্ধনের একটি বড় মাধ্যম। অসৎ কাজ থেকে মানুষকে বারণ করার এক বিরাট সুযোগ। মাহে রমজান সামাজিক, চিন্তাগত অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকার একটি উপলক্ষ। মুসলমানদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের সুবর্ণ সময় রমজান। তাই আমাদের উচিত এই মাসে বেশি বেশি আত্মসমালোচনায় মনযোগী হওয়া। তাকওয়া অর্জিত হলেই কেবল রোজা আমাদের পাপসমূহকে জ্বালিয়ে দেবে। কুরআনুল কারিম শুধু তেলাওয়াত নয়, বরং কুরআনকে অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ পড়ে আমল করা জরুরি। এর মাধ্যমেই আমরা বুঝতে পারবো আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কী, আমরা কতটা মুত্তাকি হতে পেরেছি।

এই মাসের প্রতিটি মুহূর্ত এতোটাই বরকতময় যে, এই মাসে পালন করা নফল কাজগুলো ফরজ কাজের মর্যাদা পায়, আর ফরজ কাজগুলো সত্তর গুণ মর্যাদা পায় (বায়হাকি)। রমজান মাস এলে রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, সৎ পথে চলার পথ সহজ হয়ে যায়, শয়তানকে শেকলে আবদ্ধ করা হয় (বুখারি ও মুসলিম)

তাই আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্যের কারণ হবে, যদি আমরা এই মাসে নিজেরা নিজেদের গুনাহমুখী অন্তরকে বদলে নিতে পারি। তওবার মাধ্যমে লোভ, হিংসা, পরনিন্দা, মিথ্যা অহমিকা থেকে সরিয়ে আনতে পারি নিজেদের প্রবৃত্তি। মানুষের প্রতিটি কাজ-কর্ম যেহেতু তার চিন্তা-চেতনাকে ঘিরেই আবর্তিত হয় সেজন্য এই মাসেই আমাদের জন্য মহাসুযোগ- নিজেদের দিলকে বদলে ফেলার। নিজেদের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সর্বশেষ