প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদ্যুতে টান, ফের শুরু লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা

ডেস্ক রিপোর্ট : আবার শুরু হয়েছে লোডশোডিং। ঝড়বৃষ্টির কারণে সঞ্চালন লাইন বিচ্ছিন্ন এবং ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হওয়ায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তারা।

যদিও বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের সূত্রগুলো এর সঙ্গে সরাসরি দ্বিমত পোষণ করেছে। তাদের ভাষ্য, ঝড়ঝঞ্ঝা ও পুরনো দুর্বল সঞ্চালন লাইনের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলেও সেটি ততটা উল্লেখযোগ্য নয়। লোডশেডিংয়ের মূল কারণ বিদু্যতের চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান। যা সহসা কমিয়ে আনার কোনো সুযোগ নেইসাখাওয়াত হোসেন

বৈশাখের শুরম গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুৎতের  চাহিদা বাড়ায় ফের লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে দেশ। গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি শহরের কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদিন কয়েক দফায় গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সেখানকার মানুষ অসহনীয় ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

যদিও পিডিবির দৈনন্দিন হিসাবে লোডশেডিং সহনীয় দেখানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) দাবি, ঝড়বৃষ্টির কারণে সঞ্চালন লাইন বিচ্ছিন্ন এবং ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হওয়ায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে। তবে দুর্যোগ কেটে গেলে সারাদেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বৈশাখ মাসে লোডশেডিংয়ের এ ধারাবাহিকতা স্বাভাবিক বলেও দাবি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

যদিও বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের সূত্রগুলো বিপিডিবির এ দাবির সঙ্গে সরাসরি দ্বিমত পোষণ করেছে। তাদের ভাষ্য, ঝড়ঝঞ্ঝা ও পুরনো দুর্বল সঞ্চালন লাইনের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলেও সেটি ততটা উলেখ্যযোগ্য নয়। লোডশেডিংয়ের মূল কারণ বিদ্যুৎতের চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান। যা সহসা কমিয়ে আনার কোনো সুযোগ নেই। কেননা জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হলেও সে সংকট নিরসনে তেমন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।

এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার যে ব্যাপক সাফল্যের দাবি করছে তার সঙ্গে বাস্তবতায় বিশাল ফারাক রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।

সূত্রগুলো জানায়, জ্বালানির অভাবে সিরাজগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পথে। এর কয়েক দিন আগে তেলের অভাবে সেখানকার আরেকটি ২২৫ মেগাওয়াটের ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। অথচ যমুনা নদীর পাড়ে রাজশাহী অঞ্চলের এই বড় দুটি কেন্দ্রের বাকিটাও বন্ধ হলে চলতি গ্রীষ্মে উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিরাজগঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠান নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির (এনডাব্লিউপিজিসিএল) ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি কেন্দ্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ করতে না পারায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পিডিবি জানায়, সিরাজগঞ্জে এনডাব্লিউপিজিসিএলের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চলছিল ডিজেল দিয়ে। ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ২০ লাখ ৫০ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য খুলনার দৌলতপুর বিপিসির ডিপো থেকে রেলে করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে গত সপ্তাহ থেকে রেল কর্তৃপক্ষ রেলের ইঞ্জিন সমস্যার কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এ কারণে ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জে ২২৫ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী থেকে লরিতে করে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু বিপুল পরিমাণ তেল লরিতে করে এনে কেন্দ্র সচল রাখা দুরূহ হয়ে পড়েছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের আরও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে মাঝেমধ্যেই উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। যা নিরসনে বিপিসি বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণেও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস সরবরাহের হিসাব থেকে দেখা যায়, গত ২২ এপ্রিল দেশের সচল ৩৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাসের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৭৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৭৯৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট। ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫৮৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুসারে বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোতে গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ৭৭৮ দশমিক ০২ মিলিয়ন ঘনফুট। জ্বালানি ঘাটতির কারণে ১ হাজার ৪০৪ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।

পিডিবির হিসাব অনুসারে ওইদিন দেশে বিদ্যুৎ সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৭ হাজার মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ৬ হাজার ৪৫৫ মেগাওয়াট। ঘাটতির পরিমাণ ৫৪৫ মেগাওয়াট। আর লোডশেডিং ছিল ৪৮৫ মেগাওয়াট। এর আগের দিন সারাদেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৪৮৮ মেগাওয়াট। ঢাকা অঞ্চলে ১২২ মেগাওয়াট, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৬৩ মেগাওয়াট, খুলনা অঞ্চলে ৭২ মেগাওয়াট, রাজশাহী অঞ্চলে ৬৬ মেগাওয়াট,কুমিল্লা অঞ্চলে ৪৮ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৩৬ মেগাওয়াট, সিলেট অঞ্চলে ৩৫ মেগাওয়াট, বরিশাল অঞ্চলে ১১ মেগাওয়াট ও রংপুর অঞ্চলে ৩৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

এদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য বন্ধ রয়েছে ৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। ফলে সামনের দিনগুলোতে বিদ্যুৎতের সংকট আরও বাড়বে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও পুরনো হওয়ায় সেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ অত্যন্ত বেশি হওয়ায় জ্বালানি তেলে প্রচুর পরিমাণে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে গ্যাসনির্ভর হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে বিদ্যুৎতের সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। সার কারখানা ও পোশাক শিল্পে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহের কারণে এখুনি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সামনে বোরো মৌসুম হওয়ায় সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে পোশাক শিল্প মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখে সেখান থেকে পোশাক শিল্পঘন এলাকায় গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বিপিডিবি সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যুতে টান, ফের শুরু লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা বিদ্যুতে টান, ফের শুরু লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট। কিন্তু এখন পর্যন্ত্ম সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১০ হাজার ৮৪ মেগাওয়াট। আবার উৎপাদিত বিদু্যতের প্রায় ৫ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাতেই ব্যবহার হয়। তার বাইরে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ বিতরণ লস এবং ১২ দশমিক ১৯ শতাংশ সিস্টেম লস রয়েছে। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুৎতের পুরোটা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ অবস্থায় দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনরাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। বর্তমানে রাজশাহীতে বিদু্যতের চাহিদা ৭০ থেকে ৭৫ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ মিলছে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট। প্রচ- গরমে সেখানে সর্বোচ্চ চাহিদা ৯৫ মেগাওয়াটে এসে দাঁড়াবে বলে জানান বিদ্যুৎ সংশিস্নষ্টরা। অথচ এ পরিমাণ বিদু্যতের জোগান পাওয়া অনেকটাই অসম্ভব। তাই স্বাভাবিকভাবেই লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সেখানকার পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। যে আলামত সেখানে এরইমধ্যে দেখা দিয়েছে। এছাড়াও নড়াইল, নোয়াখালী, নাটোর, ফরিদপুর, বাগেরহাট, নওগাঁ, রাজবাড়ী, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, সিলেটসহ দেশের প্রায় সব জেলাতেই দিন দিন লোডশেডিং বাড়ছে। যা গরমের সঙ্গে পালস্না দিয়ে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ।

সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে জাতীয় গ্রিডভুক্ত সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্রের ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ১৩২ ও ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন পর্যায়ক্রমে ৪০০ কেভিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বিপিডিবির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে গ্রিডের ৪০০/২৩০ কেভি উপকেন্দ্রের ক্ষমতা ১ হাজার ৫৬০ এমভিএ, ৪০০/১৩২ কেভি উপকেন্দ্রের ক্ষমতা ৬৫০ এমভিএ, ২৩০/১৩২ কেভি উপকেন্দ্রের ক্ষমতা ১০ হাজার ৮২৫ এমভিএ ও ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্রের ক্ষমতা ১৬ হাজার ৯৮০ এমভিএ।
দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ জানান, চাহিদা অনুযায়ীই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। মূলত ঝড়বৃষ্টির কারণে সঞ্চালন লাইন বিচ্ছিন্ন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। তবে তিনি আগামীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ওয়াসা সূত্র জানায়, ঠিকমতো পাম্পগুলো চালু রাখতে না পারায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ সময় পানির চাহিদা ২৩০ থেকে ২৪০ কোটি লিটার হলেও তীব্র গরমে পানির চাহিদা ২৫০ কোটি লিটারে ছাড়িয়ে গেছে। অথচ ওয়াসার উৎপাদন ক্ষমতা বাস্তবে ১৯৫ কোটি থেকে ২০০ কোটি লিটার। এ হিসাবে প্রায় ৫০ কোটি লিটার পানির ঘাটতি রয়েছে। ফলে মুগদাপাড়া, বাসাবো, গুলবাগ, রামপুরা, মহানগর প্রজেক্ট, বনশ্রী, গুলশান, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, পুরান ঢাকা, মহাখালী, মিরপুর, পল্লবী  শাহআলীসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় তীব্র পানি সংকট চলছে। সূত্র : যায়যায়দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত