প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে প্রশাসন : নুরুল হক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে মধ্যরাতে ছাত্রী বের করে দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হলটির প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এসময় বিক্ষোভকারীরা ছাত্রীদের হলে ফিরিয়ে নিতে ঢাবি প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তারা। গতকাল বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এ কথা বলেন নেতারা।

এ সময় রাজু ভাস্কর্যের উত্তর দিকে ফুটপাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে মুঠোফোন তল্লাশি করে ছাত্রীদের বের করে দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সত্যতাও শিকারও করেন হলের প্রাধ্যক্ষ সাবিতা রেজওয়ানা। তিনি বলেন, আমরা বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে ডেকেছি। তাদের মোবাইল চেক করা হচ্ছে। তারা ফেসবুকে ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে গুজব ছড়াচ্ছে। মুচলেকা দিয়ে তাদের স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

যেসব ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন অন্তি (পদার্থ), রিমি (পদার্থ), শারমিন (গণিত)। এছাড়া বাকিদের নাম পাওয়া যায়নি। সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে দাবি করেছেন বেশ কয়েকজন ছাত্রী। তবে বিক্ষোভকারিদের দাবি হল থেকে ৮ ছাত্রীকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

এঘটনার পর রাতেই প্রথমে প্রতিবাদ জানান রাত দেড়টার দিকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম ইয়াসিন আরাফাত। তিনি একাই প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে হলের ফটকে অবস্থান নেন। পরে রাত দুইটার দিকে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা ইয়াসিনের সঙ্গে যোগ দেন।

এঘটনা প্রতিক্রিয়ায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের মঞ্চ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার রক্ষা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, রাতের অন্ধকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, রাত ১১টার পরেও অনেক ছাত্রী হল থেকে বের হয়ে গেছেন। ছাত্রীদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাধ্যক্ষের কক্ষে অনেককে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিভাবক ডেকে রাতের অন্ধকারে হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। অপরাধ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু ছাত্রীদের এভাবে বের করে কর্তৃপক্ষ ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।

সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, এটি হল প্রশাসনের ধৃষ্টতা। আমরা প্রশাসনকে সব সহযোগিতা করছি। এর মধ্যে কোনো আলোচনা ছাড়াই কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিল, আমরা তার জবাব চাই। অপর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে থাকতে চায়। হেনস্তা করবেন না। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলে কি হয় ইতোমধ্যে দেখেছেন।

এর আগে শিক্ষার্থীরা ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, হলে হলে নির্যাতন বন্ধ কর করতে হবে, আমার বোন বাইরে কেন প্রশাসন জবাব চাই, হলে হলে নির্যাতন কেন প্রশানের জবাব চাই, নির্যাতন করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’ বলে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান ও নুরুল হক নূর।

আবদুল আউয়াল নামে এক অভিভাবক বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, আমি আমার বোনকে ফোন দিয়েছিলাম। সে না ধরে তার এক শিক্ষক ধরেন। তিনি আমাকে আসতে বলেন। এরপর রাত ১২টার দিকে গণিত তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিনকে নিয়ে তার স্থানীয় অভিভাবক হল থেকে বেরিয়ে আসেন। শারমিনের অভিভাবক বলেন, তাদের কোনো কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। মো. ফারুক নামে একজন অভিভাবককে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হলের সামনে দেখা যায়। ঢাকার ধামরাই উপজেলা থেকে মেয়েকে নিতে আসেন তিনি।
এর আগে ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় গঠিত হলের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির বিরুদ্ধেও সাক্ষাতকার গ্রহণের নামে ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ ওঠে। সম্পাদনা : শাহানুজ্জামান টিটু

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত