প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিলেটে মা-ছেলে হত্যায় তানিয়া রাফিসহ গ্রেফতার ৩

আশরাফ চৌধুরী রাজু, সিলেট:সিলেটে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় মামলার তানিয়াসহ এ যাবত ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার সকালে কুমিল্লার তিতাস থেকে তানিয়াকে (২২) গ্রেফতার করে সিলেট থেকে যাওয়া পুলিশ ব্যুরো অব নভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট পিবিআই-এর পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক।

তিনি বলেন, রোববার সন্ধ্যায় তানিয়ার কাথিত স্বামী মামুনকে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে কুমিল্লার তিতাসে মামুনের বাড়ি থেকে তানিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে। বেলা আড়াইটার দিকে তাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে।

পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, যদিও আমরা এ মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত না। এরপরও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বিশেষ নির্দেশে কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে পিবিআই তানিয়াকে গ্রেফতার করেছে। খুনের ঘটনায় জড়িত তানিয়ার নাম বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছিল। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় বলে সংবাদ প্রচারিত হলেও তার বাড়ি কুমিল্লায়।তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তানিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে একেক সময় একেক কথা বলছে।এদিকে, মা-ছেলে খুনের ঘটনায় রাফি নামের আরেক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় বাসিন্দা।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌসুল হোসেন তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতারের পরেএদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমাণ্ডে আনা হবে বলেন ওসি।

এরআগে গত ৩ এপ্রিল রাতে এ মামলায় নাজমুল নামে এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি পুলিশ। পরদিন ৪ এপ্রিল তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) রিমাণ্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

গত ১ এপ্রিল নগরের খারপাড়ার ‘মিতালী ১৫/জে’ নম্বর বাসা থেকে রোকেয়া বগেম (৪০) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৬) মরদেহ এবং নিহত নারীর শিশুকন্যা রাইসাকে (৫) রক্তাক্ত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বামী নগরের বারুতখানায় উত্তরণ ৫০ নং বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রী পান্না বেগমকে নিয়ে থাকেন। ২ এপ্রিল নিহতদের ময়না তদন্তে ওঠে আসে শরীরে ১০৮টি ধারালো অস্ত্রের কোপ। এরমধ্যে রোকেয়ার শরীরে ৭৬টি ও রোকনের দেহে ৩২টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন মিলে। পুলিশের ধারণা, পেশাদার খুনিরা ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছে মা ছেলেকে। একাধিক খুনি অনেক সময় নিয়ে তাদের খুন করেছে।ঘটনার দিন রাতেই দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোকেয়ার ভাই ব্যবসায়ী জাকির হোসেন অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত