প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতিতে হঠাৎ উত্তাপ, জনমনে শঙ্কা

আহমেদ রাজু : ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য হয়েছে। কিন্তু রায় ঘোষণার আগেই রাজনীতির উত্তাপে জনমনে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়ার সাজা হলে জনগণকে সাথে নিয়ে সরকারের পতন ঘটানো হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথ তাদের দখলে থাকবে। এতে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে শঙ্কা ও গভীর উৎকণ্ঠা।

কয়েক দিন আগেও আলোচনায় ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে হবে। বিএনপি সহায়ক সরকারের রুপরেখা কবে ঘোষণা দেবে। কিন্তু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর থেকেই রাজনীতির আকাশে কালো ঘণীভূত হচ্ছে। দুই প্রধান দলের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দুই দলের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও আস্থা নেই। এ কারণেই কেউ রায় ঘোষণার আগেই কর্মসূচী ঘোষণা করছে। আবার কেউ আগাম রায় দিয়ে দিচ্ছেন। তারা বলছেন, এটি আদালত অবমানতার শামিল। তাই এটি বন্ধ করা উচিত। এই অবস্থায় আদালতের স্যুয়োমুটো রুল জারি করা উচিত।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপির এই আচরণের দুটি কারণ থাকতে পারে। এক, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। দুই, খালেদা জিয়ার শাস্তি হওয়ার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত। তাই তারা এমন আচরণ করছে। শাস্তি হলে তাদের উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ আছে। কিন্তু রায়ের আগেই তারা যা করছেন, তা আদালত অবমাননার শামিল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারের নামে প্রহসন করছে। রায় ঘোষণার আগেই তারা খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়ে দিয়েছে। তারা বিএনপিকে প্রতিহত করার জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বৈঠক করছে। সারা দেশে তারাই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দুইনেত্রীর বিরুদ্ধে একই মামলা ছিলো। একজনের মামলা তুলে নেয়া হয়েছে, আরেকজনের চলছে। দুই দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এত খারাপ, এ কারণেই এটা চলছে। এটি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও অনভিপ্রেত। এই অবস্থায় উভয় দলকে আলোচনায় বসে সমাধান করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব বেশি। তবে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি শঙ্কিত।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নূরুল হুদা বলেন, এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া। আদালতের কাজ আদালত করবে। আইনশৃঙ্খলার বিঘিœত হলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। যারা বিক্ষোভ করছে, তাদেরও দায়িত্ব আছে। তাদেরও সহনশীল হতে হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ক্যাবের সভাপতি ড. গোলাম রহমান বলেন, আইনি প্রক্রিয়াকে রাজপথে নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান হলে খালেদা জিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা আরও বাড়বে। ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইসরাইলেও রাজনীতিকদের শাস্তি হয়েছে। কিন্তা তারা রায়কে রাজপথে নিয়ে যায়নি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, রায়ের আগেই আদালতের প্রতি আস্থাহীনতা ও আগাম রায় দিয়ে দেয়া আদালত অবমাননার শামিল। তাই আদালত স্যুয়োমুটো রুল জারি করতে পারে। এখন দুই দলের কারও এ নিয়ে কথা বলা উচিত নয়।

সম্পাদনা: ইকবাল খান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত