প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নতুন শিল্পীদের মৌলিক কোনো গান নেই

মনির খান : ২০১৭ সালটি আল্লাহর রহমতে ভালোই কাটিয়েছি। মুরব্বীরা বলেন, যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ অর্থাৎ যে দিনটি চলে যায়, সেটা ভালোই যায়। আর যেই দিন আসে, সেটা অনেক মোকাবেলা করে পার করতে হয়। আমার প্রত্যেকটি এলবামে অঞ্জনা নামে নতুন করে ব্যাখ্যা দেওয়ার কিছ ুনাই। আমার ৪১টি একক এ্যালবামে ৪১টি ‘অঞ্জনা’ আছে। যতগুলো একক এলবাম আমার হয়েছে, ততগুলোতেই ‘অঞ্জনা’ আছে। এবং এটি থাকবে সব সময়ই। ‘অঞ্জনা’ নামে আমার কাছে প্রয়োজন যতটা না, তার থেকেও বেশি প্রয়োজন শ্রোতাদের। ‘অঞ্জনা’ গানটি না থাকলে শ্রোতারা মনে করে মনির খানের আসল এলবাম নয়। এই জন্য এখন ‘অঞ্জনা’ একটি গানের চরিত্র হয়ে গেছে।

সাধারন মানুষের কাছে এটি ইমপরট্যান্ট বিষয় হয়ে গেছে। যার কারণে অন্য গানের সাথে এই গানটিও থাকছে। এখনকার শিল্পীরা অনেকেই প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের গান গেয়ে থাকে। তারা নিজেদের মৌলিক গান করেন না। হয়তো সবার কপালে ভালো মৌলিক গান জোটে না। বর্তমান সময়ে যে সমস্ত ছেলে মেয়েরা গান করছে, এটা তাদের জন্য খুবই দূর্ভাগ্য যে, তাদের মধ্যে নিজেদের কোনো মৌলিক গান নাই। তারা ভালো গীতিকার, সুরকার পাচ্ছে না। গানের গলা হয়তো ভালো তাই গান করেন। স্টেজে উঠলে তারা জনপ্রিয় গায়কের গান করে থাকেন। তাদের উদ্দেশ্যে আমার কথা, আমরা যেমন যুদ্ধ করেছি, নিজের মত করে জীবন গড়ার জন্য। নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার জন্য বা নিজেদের পরিচিতি লাভ করার জন্য। এখন আর সে রকম অধ্যবসায় কাউকে করতে দেখা যায় না।

চ্যানেলগুলো বানিজ্যিকভাবে তাদেরকে ব্যবহার করাতেই তারা বানিজ্যিক ভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। কিন্তু নিজের অবস্থান দৃঢ় করাতে উদাসীন রয়ে গেছে । একটি ছেলে মেয়ে যখনই গান করে টপ পজিশনে আসতে, তখনই হয়তো গাড়ী হচ্ছে, বাড়ি হচ্ছে, টাকা পয়সা হচ্ছে। দেশ বিদেশে প্রোগ্রাম করার অবাধ সুযোগ পাচ্ছে। শেখার মত সময় তাদের নেই। আমি দশ বছর গান শিখে তারপর এলবাম বের করেছি। এরা গান পাচ্ছে, স্টেজ পাচ্ছে, টেলিভিশন পাচ্ছে, দেশ বিদেশ পাচ্ছে। কষ্টের জায়গায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে না। না হচ্ছে স্থায়ীত্ব, না হচ্ছে নিজের কোনো সম্পদ তৈরি করা। আমার যদি নিজের কোনো মৌলিক গান না থাকে তাহলে আমি কোথায় ? নিজের জায়গা তো তৈরি হচ্ছে না। একটি গাছের সাথে আরেক টি গাছ জন্ম নেয়। দেখবেন একটি গাছের ছায়ায় আরেক টি গাছ বেড়ে ওঠে। সেই গাছ টি হল পরগাছা। এদের জীবনটা হয়ে গেছে একটু দুঃখময় জীবন। নিজের কোনো গান না থাকলে নিজের পরিচয় তো তৈরি করা যায় না। মঞ্চে গিয়ে বলতে হয় যে, এই গানটি বিখ্যাত কোনো শিল্পীর গাওয়া। এখনকার মিউজিক ভিডিও গুলো সম্বন্ধে বলবো, গান সব সময় শোনার জন্য। হৃদয়কে আকৃষ্ট করার জন্য।

গানের বানীটাকে বুঝে নিয়ে নিজের আত্মশুদ্ধি তৈরি হয়। সিনেমার নায়ক নায়িকার অভিনয় দেখতে হয়। নৃত্য শিল্পির নাচ দেখতে হয়। কিন্তু গান দেখার জন্য নয়, গান হচ্ছে শোনার জিনিস। পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রের বিখ্যাত শিল্পিদের কথা আমরা বলি, কিশোর কুমার, হেমন্ত মুখার্জি, মান্না দে, লতাজি, অসংখ্য শিল্পির নাম বলা যাবে। তারা কখনো নাচকে প্রাধান্য দেন নাই। তারা গানকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন, তার সাথে যা প্রয়োজন সেটুকু করেছেন। এখন হয়েছে কি গানকে যেন মানুষের চোখে ভালো না লাগালে সে গান প্রাধান্য পাচ্ছে না। আগের দিনে ছিল প্রাণের গান, এখন হয়েছে মেশিন গান। অডিও বাজার একেবারে বিলুপ্ত হয়ে গেছে গত পাঁচ বছরে। যুগের দাবীতে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে।

সেই কারণে সব কিছুরই পরিবর্তন আমরা আশা করছি এবং পরিবর্তন হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় পরিবর্তনের হাওয়া লাগার কারণে সেই জায়গাতে এমন ভাবে ধ্বস নেমেছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘরে ফিরে আসতে হয়েছে, কোটি কোটি ভক্ত আহত হয়েছে। পাইরেসি অডিও সিডির যুগটাকে আঘাত করেছে। এখন আমরা গান করছি এলবাম আকারে নয়, মাসে একটি বা দুইটি। এবং গান করে অনলাইনে দিয়ে দিচ্ছি। ইউটিউবে দিচ্ছি। সেখান থেকে সারা বাংলাদেশের মানুষ, সারাবিশ্ব পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বারো টি গান যে এলবাম আকারে মানুষের বাসায় রাখা, গাড়িতে রাখা, চলতি পথে গাড়ির ভেতরে শোনা, সেটা সম্ভব হচ্ছে না। এখন নেটে সার্চ করে শুনতে হয়। গান এখন মানুষের সাথে চলছে। আগে মানুষ গানের সাথে চলতো। এই পার্থক্য গুলো হয়ে গেছে।

যদি আমরা মনে করি ডেভেলপ হচ্ছে, আমরা খুশি। সঙ্গীতের জায়গাটি একটু চঞ্চল হয়ে গেছে। সুস্থ অসুস্থের প্রশ্ন এখানে দাড়িয়ে গেছে। আমরা চাইবো যেখানে যেভাবেই থাকি না কেন গান যেন প্রাণ পায়। গানের যে মূল লক্ষ্য সেটি পূরণ করতে যেন আমরা সফল হই। সেই আশাবাদই ব্যক্ত করি সব সময়।

পরিচিতি : কন্ঠশিল্পী
মতামত গ্রহণ : রাশিদুল ইসলাম মাহিন
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত