শিরোনাম
◈ ফিফার শা‌স্তির পর আর্জেন্টিনাকে নি‌য়ে স্পেনের গণমাধ্যমে উসকানিমূলক সংবাদ প্রচার ◈ জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় না আনলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ◈ কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ পেট্রাপোলে ◈ মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন, হলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ◈ সিলেটে তেলবাহী ট্যাংক লরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪ ◈ ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ◈ সমুদ্রের পাশে ২০০ হেক্টরের মেগা পার্ক, বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো বিমানবন্দর ◈ দিল্লিকে ঢাকার কঠিন শর্ত: নেপথ্যে ‘অবিশ্বাস’, নাকি সম্পর্কের ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? ◈ জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনিযুক্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শ্রদ্ধা

প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৫:৩৪ সকাল
আপডেট : ১৬ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৫:৩৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কাঁদলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি!

রবিন আকরাম: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ঘোষণা অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন মামলার শুনানি হবে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে। কিন্তু ভারতের প্রধান বিচারপ্রতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বাধীন সেই বেঞ্চে রাখা হয়নি প্রবীণ চার বিচারপতিকে। তারা হলেন- জে চেলামেশ্বর, রঞ্জন গগৈ, মদন বি লকুর ও কুরিয়েন জোসেফ।

এ ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ একাধিক সমস্যা নিয়ে ১২ জানুয়ারি (শুক্রবার) মুখ খুলেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এই চার প্রবীণ বিচারপতি। তাদের অভিযোগ ছিল, অধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা জুনিয়র বিচারপতিদের এজলাসে পাঠানো হচ্ছে। ইঙ্গিত ছিল (সিবিআই) বিচারক ব্রিজমোহন লোয়ার মৃত্যু মামলার দিকেই। বিচারপতিদের এভাবে সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিচারব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ সমস্যা কেন বাইরে বের করে নিয়ে আসা হল তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে। তবে, গতকালই সমস্যার সমাধান হয়। হাসিমুখেই কথা বলেন প্রধান বিচারপতি ও চার প্রবীণ বিচারপতি। অ্যাটর্নি জেনেরাল কে কে বেণুগোপাল ও বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মানান মিশ্র জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সুপ্রিম কোর্টে ঠিকঠাক কাজ শুরু হয়েছে।

পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের তরফে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ তৈরি করা হয়। যার নেতৃত্ব দেবেন প্রধান বিচারপতি। সেখানে প্রবীণ চার বিচারপতিকে রাখা হয়নি। বার কাউন্সিলের একাংশ মনে করছেন, দু’পক্ষ আপাত শান্ত থাকলেও অনড় মনোভাব নিয়ে বসে আছেন। কেউই নিজের অবস্থান থেকে এক চুল সরতে রাজি নন।

এদিকে, অন্য একটি খবরও শোনা গেছে। বিচারক লোয়ার মামলা বিচারপতি অরুণ মিশ্রর এজলাসে উঠেছে। তা নিয়েই নাম না করে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রবীণ বিচারপতিরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইনাডু ইন্ডিয়া বলছে, এসব দেখে চোখের জল সামলাতে পারেননি বিচারপতি মিশ্র। গতকাল যখন বিচারপতিরা কথা বলেছিলেন, তখন কেঁদে ফেলেন বিচারপতি মিশ্র। যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। পরে প্রধান বিচারপতি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে সঙ্গে নিয়ে যান।

উল্লেখ্য, ১ ডিসেম্বর ২০১৪ সালে নাগপুরে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় ভারতের (সিবিআই) বিচারক ব্রিজমোহন লোয়ার। মৃত্যু-সময়কালে বিচারক লোয়ার এজলাসে সোহারাবুদ্দিন শেখের ফেক এনকাউন্টার কেসের শুনানি চলছিল। ওই কেসের অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন ভারতের গুজরাতের তৎকালীন মন্ত্রী অমিত শাহ (বর্তমানে বিজিপি সর্বভারতীয় সভাপতি)। সিবিআই আদালতে তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা চলছিল। বিচারপতি বি এইচ লোয়া সেই মামলার দায়িত্বে ছিলেন। মামলার শুনানি চলাকালীন ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বি এইচ লোয়ার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাকে খুন করা হয়েছে। পরিবারের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছিল, মামলার রায় যাতে বিজিপি প্রেসিডেন্টের অনুকূলে যায়, সেজন্য বি এইচ লোয়াকে নাকি ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। তার মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অমিত শাহ বেকসুর খালাস পেয়ে যান। পরবর্তীতে বি এইচ লোয়ার মৃত্যুর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেয় ভারতের শীর্ষ আদালত। মামলাটি যায় বিচারপতি অরুণ মিশ্রর এজলাসে। এদিকে, লোয়ার ছেলে অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাবার মৃত্যু স্বাভাবিক।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়