প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুপ্রিম কোর্টে ১৫ বিচারপতি নিয়োগ দেবে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট : উচ্চ আদালতে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন ১৫ বিচারপতি। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে দশজন বিচারপতি খুব দ্রুত নিয়োগ পাচ্ছেন। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিচারপতিদের যোগ্যতার পাশাপাশি অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে ক্ষমতাসীন সরকার। তবে জুনিয়র হিসেবে কাজ করায় তিন বিচারপতিকে আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগে রাজি হননি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্?হাব মিঞা।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা যায়, উচ্চ আদালতে বর্তমানে ৮৭ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে আপিল বিভাগে ৫ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৮২ জন কর্মরত রয়েছেন। আপিল বিভাগে বর্তমানে পাঁচ বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর অবসরে যাবেন। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বিচারপতি ঈমান আলী ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এবং বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে যাবেন। এই পাঁচজনের সঙ্গে বর্তমানে আপিল বিভাগে আরো পাঁচজন নতুন বিচারপতি নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। অপরদিকে হাইকোর্ট বিভাগে ৮২ জন বিচারপতি থাকার পরও নতুন করে আরো দশজন বিচারক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পাঁচ বিচারপতি নিয়োগের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের সাত বিচারপতির নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। এই তালিকায় আছেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি একেএম জহিরুল হক। তবে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বর্তমান ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার জুনিয়র হিসেবে কাজ করেছেন। সে কারণে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের সিনিয়র বিচারপতিদের অতিক্রম করে নিজ তিন জুনিয়রকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজি হননি সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। এ ছাড়াও হাইকোর্টে ১০ জন বিচারপতি নিয়োগ পাচ্ছেন বলে জানায় দায়িত্বশীল সূত্র।

সূত্র আরো জানায়, ইতিপূর্বে ষোড়শ সংশোধনী মামলায় যে ৭ বিচারপতি সরকারের বিপক্ষে রায় দিয়েছিলেন তারা সবাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত। তাদের মধ্য থেকে কেউই সরকারের পক্ষে রায় না দেয়ায় সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস নিয়ে হতাশ। এ কারণে সরকারের বর্তমান মেয়াদে আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিশ্বাসের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিচারপতিদের অতীতের রাজনৈতিক ভূমিকা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের জন্য ইতিপূর্বে একটি প্যানেল তৈরি করা হয়েছিল। চূড়ান্ত হওয়ার পূর্বে প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ওয়ান-ইলেভেন (১/১১) সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার কাজ পরিচালনায় তৎকালীন সরকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিযোগ আছে বলে আওয়ামী লীগের কয়েক আইনজীবী নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরেন।

সুপ্রিম কোর্ট থেকে জানা যায়, মো. আশফাকুল ইসলাম হাইকোর্টে ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তাকে স্থায়ী করা হয়। বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে ২০০৯ সালের ৩০ জুন অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টে নিয়োগ দেয় সরকার। তাদের ২০১১ সালের ৩০ জুন স্থায়ী করা হয়। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি একেএম জহিরুল হক ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল অস্থায়ী হিসেবে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তারা স্থায়ী হন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল জাকির হোসেন বলেন, সুপ্রিমকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি জানেন। কারণ বিষয়টি গোপন রাখেন তারা। নিয়োগের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। আর এটাই নিয়ম। তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত মঙ্গলবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ করা হবে। সেই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগেও কিছু বিচারপতি নিয়োগ করা হবে।

প্রসঙ্গত, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন (সুপারসিড) করে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ আগেও একাধিকবার হয়েছে। সর্বশেষ, ২০১১ সালে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হলে আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি ছুটিতে যান। তারা হলেন বিচারপতি আবদুল মতিন ও বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান। রাষ্ট্রপতি বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার পরেও প্রধান বিচারপতি তাদের শপথ পড়াননি এমন ঘটনাও ঘটেছে। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস বাবু ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানকে নিয়োগ দেয়ার পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম তাদের শপথ পড়াননি। বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম অবসরে যাওয়ার পর পরবর্তী প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ওই দুই বিচারপতিকে শপথ পাঠ করান।

উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিরা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাধ্যতামূলক পরামর্শ সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন। হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে প্রথমে দুই বছর প্রাথমিকভাবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতা হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নিবন্ধিত হয়ে ওকালতি করা এবং সংবিধানের ৯৮ বিধানের অধীনে জুডিসিয়াল সার্ভিসে নিযুক্ত অতিরিক্ত বিচারক। এ সময়ের সফল সমাপ্তির পরে এবং প্রধান বিচারপতি কর্তৃক সুপারিশের ওপর একজন অতিরিক্ত জজকে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্থায়ী নিয়োগ দেন। আপিল বিভাগের বিচারক একই বিধানের অধীন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত করা হয়। সব ধরনের নিয়োগ সংবিধানের ১৪৮-এর বিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হয়। মানবকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত