প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রণব মুখার্জির আগমনের খবরে বদলে গেছে সূর্যসেন পল্লী

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের নোয়াপাড়া পথেরহাট থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের পথের দূরত্ব সূর্যসেন পল্লীর। দেশের আর ১০টি গ্রামীণ জনপদ থেকে এ গ্রামের পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন ইতিহাসের একজন বীর পুরুষ। হালকা পাতলা গড়নের এ গ্রামেরই সন্তান মাষ্টারদা সূর্যসেন লড়াই করে ব্রিটিশ সামাজ্য দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছেন। সূর্যসেন নাম যেন একটি ইতিহাস হয়ে আছে। গ্রামের যে ছেলেটি সারা ভারত উপমহাদেশে নিজের তেজোদীপ্ত নেতৃত্ব দিয়ে রাউজানের নোয়াপাড়া গ্রামের পরিচিতিটাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন তার সে অবদানকে ধরে রাখতে এলাকার মানুষ এ গ্রামের নামকরণ করেছে ‘সূর্যসেন পল্লী’ নামে। সূর্যসেন পল্লীর মাষ্টারদা’র বাস্তুভিটায় গড়ে উঠেছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। চারপাশের সীমানা প্রাচীরের ভেতর রয়েছে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়োজিত স্বাস্থ্য সহকারী ও কর্মচারীদের আবাসনের জন্য নির্মিত দুইটি ভবন। মাঝখানেই মাষ্টারদা’র স্মৃতি সমাধি। জন্মদিন বা ফাঁসি দিবস ছাড়া সূর্যসেনকে স্মরণ করতে তেমন কাউকে আসতে দেখা যায় না এ পল্লীতে। যোগাযোগ ব্যবস্থার দূরত্বের কারণে আশপাশের কয়েকটি সমাজ ছাড়া পাশের গ্রাম থেকে রোগীদের আনাগোনাও চোখে পড়ে না তেমন একটা। ছায়াঘেরা, পাখি ডাকা সূর্যসেন পল্লীতে ২০০৩ সালে নির্মিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কিছুদিন আগেও গেলে চোখে পড়ত স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ।

সেমিনার কক্ষ, উপর তলায় আধুনিক অস্ত্রোপচার কক্ষ, ডেলিভারি কক্ষ, হাসপাতালে থাকা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য দুইটি আবাসিক ভবন, অ্যাম্বুল্যান্স ও ড্রাইভার থাকার ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সীমানা প্রাচীরের ওপর শ্যাওলার স্তূপ জমে থাকা, ভবনের বিবর্ণ চিত্র, ময়লা পরিবেশ এ যেন নিয়মিত চিত্র। কদাচিৎ বিভিন্ন কাজে যারা এ পল্লীতে গিয়ে একবার ঢুঁ মেরেছেন সূর্যসেনের বাস্তুভিটায় গড়ে ওঠা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে ভেতরের পরিবেশটাই দেখে অস্বস্তি ভর করত তাদের মাঝে। কিন্তু একটি সংবাদেই যেন আলাদীনের চেরাগের মতো বদলে যেতে শুরু করল এ গ্রামের চিত্র। ১৬ জানুয়ারি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি মাষ্টারদা’র বাস্তুভিটা পরিদর্শনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এ সংবাদে। গ্রামের সড়কের খানাখন্দ, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের জীর্ণশীর্ণ ভবনসহ পুরো এলাকায় দেখা যাচ্ছে সংস্কারের দৃশ্য।

শুক্রবার সরেজমিন সূর্যসেন পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, বিবর্ণ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে রঙের প্রলেপে নতুনত্ব ফিরে এসেছে, মূল সড়ক থেকে কেন্দ্রের সংযোগ সড়কটির খানাখন্দ ভরাট করা হচ্ছে, নামফলকে ফিরে এসেছে ঔজ্জ্বল্য। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির আগমন অবশ্যই এ এলাকার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। কিন্তু মাষ্টারদা’র বাস্তুভিটায় গড়ে ওঠা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি পুরোদমে চালু করা গেলেই এলাকার অসহায় মানুষ অন্তত চিকিৎসাসেবাটুকু গ্রহণ করতে পারত। হাসপাতালের অভ্যন্তরে ‘জরুরি সেবার জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা’ লেখা সংবলিত একটি লেখা দেওয়ালে শোভা পেলেও প্রসূতি মা ও শিশুদের চিকিৎসাসেবার পরিবর্তে কেন্দ্রে শুধু বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসা সহকারী দুইজন, পরিবার পরিদর্শিকা দুইজন, মিড ওয়াইফ একজন, গার্ড দুইজন, আয়া একজন।

এলাকার বাসিন্দা মাস্টার হুমায়ুন তালুকদার বলেন, মাষ্টারদা সূর্যসেন শুধু আমাদের রাউজানের নয় সারা দেশের গৌরব। তার মতো একজন বিপ্লবীর বাস্তুভিটা পরিদর্শন করতে আসছেন প্রণব মুখার্জির মতো একজন বড়মাপের মানুষ। এতে এলাকাবাসী খুবই উৎফুল্ল। কিন্তু মাষ্টারদা’র বাস্তুভিটায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র চালুর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এটি পুরোপুরি চালু না হওয়ায় খুবই হতাশ। তবে এবার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমনকে ঘিরে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে।

বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পান্না রাণী পাল জানান, সূর্যসেনের বাস্তুভিটা দেখার জন্য ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে মা ও শিশু হাসপাতালের সৌন্ধর্যবর্ধনের কাজ চলছে। এসব সংস্কার কাজ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে করা হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুশীল দাশ জানান, সূর্যসেন পল্লীতে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমন উপলক্ষে আমরা নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এলাকার সড়ক, সূর্যসেন পল্লীর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সংস্কার কাজ করছি। আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত