প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. আতিউর রহমান
মনিটরিংয়ের অভাবে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে

গাজী খায়রুল আলম : আমাদের যে চ্যালেঞ্জটি মোকাবিলা করতে হয়েছে, তার মধ্যে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, চাউলের দাম। এটির অবশ্য কারণও ছিল। এপ্রিল-মে মাসের দিকে আমাদের হাওরে আচমকা একটি বন্যা হলো। যার জন্য হাওরে পুরো অঞ্চলে ফসল কাটা সম্ভব হলো না। এর পরপরই উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বন্যা হলো। যার জন্য প্রায় ৬ লাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সুতরাং চাউলের উৎপাদনে এপেক্টেড হলো। নরমালি যেটি হয়, এই ধরনের ক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয় সব সময় মনে করে, আমাদের খাদ্য উৎপাদন কতটুকু হলো আর স্টক কতটুকু আছে, কী পরিমাণ খাদ্য আমদানি করা লাগবে, সেটি মনিটরিং করার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, গত বছর এই খাদ্য মনিটরিংয়ের বিষয়টি এতটা জোরদার দেখিনি। আমাদের অর্থনীতিকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান এই সব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তার প্রমাণ হলো, সরকারি গুদামে খাদ্যের স্টক কম ছিল। বেশ নিচের দিকে নেমে এসেছিল। অন্য দিকে তখনও আমাদের খাদ্য আমদানির উপরে, বিশেষ করে চাউল আমদানির উপর ২৮ শতাংশ শুল্ক আরোপিত ছিল। এটি আমাদের আন্দাজ করা উচিত ছিল।তিনি বলেন, হাওরের বন্যার পরপরই এই ২৮ শতাংশ শুল্ক তুলে দেওয়া উচিত ছিল। যারা প্রাইভেট সেক্টরে চাউল আমদানি করে, তাদের আমদানির জন্য সুযোগ করে দেওয়া উচিত ছিল। সরকার নিজেও আমদানি করতে পারত। কিন্তু সরকার আমদানি করল ঠিকই, কয়েক মাস দেরি করে করল। যার জন্য যারা চাউল আমদানি করে গুদামজাত করেছে, তারা মনে করেছে, যেহেতু সরকারের গুদামে চাউল নেই। খোলা বাজারে চাউল পরিমাণ মতো দিতে পারবে না। তাদের অনুমান সত্যি ছিল। সে কারণে চাউলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালের জুন মাসে যে চাউল মাত্র ২৮ টাকা কেজি ছিল সেটি ২০১৭ সালে ৫০ টাকারও বেশি হয়ে গেল। এতে জনগণের খুব কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে গরিব মানুষের আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ খরচ হয় চাউলের পেছনে। তাই চাউলের দাম বৃদ্ধি পেলে দারিদ্রও বাড়ে।

তিনি বলেন, আমরা যে প্রবৃদ্ধি করতে চেয়েছিলাম। আমার তার চেয়েও ভালো করেছি। এ বছর ৭.২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। এই প্রবৃদ্ধি অর্জন আরও ভালো হতো, যদি রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আরও একটু ভালো করা যেত। এই বছর এই দুটি খাতে আমরা তেমন ভালো করতে পারিনি। তবুও আমরা যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি, সেটি সপ্তম পঞ্চবার্ষিকীর পরিকল্পনার যে প্রক্ষেপন তার সমান করতে পেরেছি। এটি একটি ভালো দিক।তিনি বলেন, আমাদের সমাজের সুরক্ষা ব্যবস্থা ভালো থাকার কারণে, এটি সামাল দেওয়া যাচ্ছে। তবে এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। আমার ধারণা ব্যুরো ফসল উঠার আগ পর্যন্ত চাউলের দাম কমবে না। অন্য একটি দিক হলো রোহিঙ্গা। তারা আমাদের দেশে আসার পর আমাদের অর্থনীতিতে একটি প্রভাব পড়েছে। কারণ তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়েছে। তাদের পেছনে মাসে ১ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে।

এটি আমাদের জন্য অতিরিক্ত খরচ। যেটি অর্থনীতিতে একটি প্রভাব ফেলেছে। আমাদের একটি বড় অন্তরায় ছিল বিদ্যুৎ। সেটিও আমরা উন্নতি করেছি। বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতা এসেছে, তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়ার্ট। আর এখন উৎপাদন ১৫ হাজার মেগাওয়ার্ট। গ্যাস আমাদের একটু কম আছে, যেটির জন্য বছরটি ভালো কাটেনি। গ্যাস নিয়ে নানা সমস্যা পেতে হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স কম ছিল। এই বছর রেমিট্যন্স হার অনেকে কমে গেছে। যেটি অর্থনীতিতে একটি প্রভাব পড়েছিল। কারণ আমাদের অর্থনীতিতে একটি বড় ভূমিকা রাখে রেমিট্যান্স। তাছাড়া আরও অনেক দিক আছে। ব্যক্তিগত বিনিয়োগ কম, নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ছাড়া আর রপ্তানি হয়নি।

সম্পাদনা : খন্দকার আলমগীর হোসাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত