প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঝকঝকে তকতকে বই নিয়ে ঘরে ফিরবে শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট : বছরের প্রথম দিন শিশু-কিশোররা খালি হাতে স্কুলে যাবে। আর নতুন ঝকঝকে তকতকে বই নিয়ে ঘরে ফিরবে। কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাসে ঘ্রাণ নেবে আনকোরা বইয়ে। নতুন বছরে নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণের উচ্ছ্বাস আর নতুন বই প্রাপ্তির আনন্দ দুয়ে মিলে খুশির বন্যা বয়ে যাবে দেশের প্রতিটি স্কুলে। টানা নবমবারের মতো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেবে সরকার। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানে শতভাগ বই পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা। আজ শনিবার সকাল ১০টায় গণভবনে কয়েক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর বছরের প্রথম দিন উৎসবের মধ্য দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে।

বিনামূল্যের বই বিতরণ কার্যক্রম ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ কোমলমতি শিশু-কিশোরদের কাছে হয়ে ওঠে ‘আনন্দ উৎসব’। প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের স্বল্প পরিসরে অনেক আগে থেকে বই দেয়া হলেও ২০১০ সাল থেকে সরকার প্রথম থেকে নবম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বই দিয়ে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের চেয়ে এবার ১০ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৬ জন শিক্ষার্থী বেড়েছে। ফলে এবার ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৯টি বই বেশি ছাপা হয়েছে। গত আট বছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২২৫ কোটি ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০টি বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে সরকার। নতুন বছরের প্রথম দিন ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই মিলিয়ে মোট ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ এক হাজার ৯১২টি বই বিতরণ করতে যাচ্ছে।

ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে উৎসবের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে। উৎসবে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে যোগ দেবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। ১ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন। এনসিটিবির আয়োজনে এই উৎসবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে ওইদিন সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ-উজ-জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল উপস্থিত থাকবেন। ঢাকায় কেন্দ্রীয় উৎসব হলেও বছরের প্রথম দিন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসবের মধ্য দিয়ে বই বিতরণ করা হবে। ওই উৎসবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন। ২০১৫ সালে দুই মন্ত্রণালয় মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে একইসঙ্গে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের আয়োজন করে। কিন্তু অব্যবস্থাপনার জন্য ওই উৎসবে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হওয়ায় এর পর থেকে দুই মন্ত্রণালয় আলাদা আলাদা স্থানে পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালন করে।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফ উল্যা মানবকণ্ঠকে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ বই পৌঁছে গেছে। ১ জানুয়ারি বই উৎসবের মাধ্যমে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে। তিনি বলেন, মাদরাসার পাঠ্যবইয়ের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নজর দেয়া হয়েছে। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম বিষয়গুলোকে ইসলামের আলোকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ মুক্ত দেশ গঠনে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। মানবকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত