প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সারাদেশে, সাফল্য চিকুনগুনিয়ায়

ডেস্ক রিপোর্ট : কর্মসূচী গ্রহণ, জনবল নিয়োগ ও অবকাঠামো নির্মাণের দিক দিয়ে বছরজুড়ে সফলতায় ভরপুর ছিল স্বাস্থ্য সেক্টর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৭ সালেও ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছে স্বাস্থ্য সেক্টর। জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস, ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম ইত্যাদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সফলতা পেয়েছে সরকার। কিন্তু স্বার্থান্বেষী চক্রের সিন্ডিকেট সচল থাকায় সরকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসমূহের সেবার মান সন্তোষজনক মাত্রায় বাড়েনি। চলতি বছর আশ্রিত রোহিঙ্গাদের যথাসময়ে সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা করে সুনাম কুড়িয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই সেক্টরে ২০১৭ সালে কয়েক মাস ধরে আলোচনার শীর্ষে ছিল চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব। তবে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করে চিকুনগুনিয়া মোকাবেলায় সফলতা পায় সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের সময় স্বাস্থ্যখাতে যে সাফল্য এসেছে তা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য আগামী দিনের কর্মসূচীর সুষ্ঠু ও সফল বাস্তবায়ন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নিশ্চিত করতে হবে। একটি জনবান্ধব চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে এই খাতের কোনও অংশে অনিয়ম ও গাফিলতি মেনে নেয়া যাবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে হলে সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও যতœবান হতে হবে। তৃণমূল মানুষের বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপগুলোর সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদেরকে তৎপর থাকতে হবে। স্বাস্থ্য সেক্টরের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও তার অধীনের সকল প্রতিষ্ঠান আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালেও স্বাস্থ্যখাতে যুগান্তকারী সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্যবিষয়ক সহস্রাব্দ লক্ষ্য অর্জনেও এদেশের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। প্রশংসিত হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে। দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার নেটওয়ার্ক। এমন মজবুত অবকাঠামোর ওপর দাাঁড়িয়ে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস, ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু, স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম ইত্যাদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। দেশের ৯৯ ভাগ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিসেবার ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ লাখ মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা নেন। দেশে অনুর্ধ ১২ মাস বয়সের শিশুদের সকল টিকা প্রাপ্তির হার ৮১ ভাগ। বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান সারাবিশ্বের অনুকরণীয় হতে পারে। সরকারের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, রূপকল্প-২০২১ এবং স্বাস্থ্যনীতির আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তৃতীয় সেক্টর কর্মসূচী এইচপিএনএসডিপি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। এই কর্মসূচীর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি উপ-খাতসমূহের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। এই কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য হল জনগণের বিশেষ করে মহিলা, শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিসেবা প্রাপ্তির চাহিদা বৃদ্ধি, কার্যকর সেবা প্রাপ্তি সহজলভ্য এবং স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেবাসমূহের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস, রোগের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর হার হ্রাস এবং পুষ্টিমান বৃদ্ধি করা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক সহস্রাব্দ লক্ষ্য অর্জনে দেশের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। অনুর্ধ ৫ বছর বয়সী শিশুর কম ওজন হার ১৯৯০ সালের ৬৬ ভাগ থেকে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ৩৬.৪ ভাগে নেমে এসেছে। অনুর্ধ ৫ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ১৯৯০ সালের তুলনায় ৭১ ভাগ কমে এমডিজি ৪ অর্জিত হয়েছে। আইএমসিআই কর্মসূচীর আওতায় ৫৩ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সরকারী বেসরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো ১৯ লাখ ৬৫ হাজার প্রসব-পূর্ব সেবা দিয়েছে। সরকারী প্রতিষ্ঠানে সেবা গ্রহণকারীদের সংখ্যাই বেশি। এক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৬৭ ভাগ এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৩৭ ভাগ। পুরোদমে এগিয়ে চলছে স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম। মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্পিউটার। গ্রাম এলাকার প্রতিদিনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সব পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে। অবশেষে পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। দেশে অনুর্ধ ১২ মাস বয়সের শিশুদের সকল টিকা প্রাপ্তির হার ৮১ ভাগ। এক্ষেত্রে হাম ৮৫ ভাগ, ওপিভি ৯৩ ভাগ, বিসিজি ৯৯ ভাগ ও ডিপিট ৩/ পেন্টা ৩ সফলতা পেয়েছে ৮৯ ভাগ। আইএমসিআই কর্মসূচীর আওতায় ৫৩ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে বেশকিছু আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেগুলোর কয়েকটি হলো ‘রোগী সুরক্ষা আইন-২০১৪’ এবং ‘স্বাস্থ্যসেবা দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন-২০১৪’ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন-২০১৪’। ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধিত) আইন-২০১৪’। সংসদে পাস হয়েছে ওষুধনীতি আইন। পোলিও’র পর নির্মূল হয়েছে ধনুষ্টংকার রোগ।

চিকুনগুনিয়া মোকাবেলা ॥ এই সেক্টরে ২০১৭ সালে কয়েক মাস ধরে আলোচনার শীর্ষে ছিল চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব। তবে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করে চিকুনগুনিয়া মোকাবেলায় সফলতা পায় সরকার। চিকুনগুনিয়া আতঙ্কে কেঁপে উঠে দেশ। শরীরে জ্বর ও ব্যথা দেখা দিলেই দোষ পড়ে চিকুনগুনিয়ার। চিকুনগুনিয়া মশাবাহিত একটি ভাইরাসের নাম। ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস বহনকারী মশাই চিকুনগুনিয়া ভাইরাস বহন করে। এটি নতুন কোন ভাইরাস নয়। ১৯৫২ সালে প্রথম তানজানিয়ায় রোগটি শনাক্ত হয়। এখন বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে রোগটি দেখা যায়। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে এই রোগটির প্রকোপ প্রথম দেখা যায়। তবে এর আগে এই রোগীটি বাংলাদেশে অন্য নামে পরিচিত ছিল। মশক নির্ধনসহ ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচী গ্রহণ করে সরকার। এভাবে আগস্ট মাসের পর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব।

রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ॥ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। উখিয়া, টেকনাফ ও বান্দরবানের যেসব এলাকায় শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে, সেসব এলাকায় বাড়তি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকগুলো নতুন স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার শিশুকে হাম, রুবেলাসহ নানা রোগের টিকা দেয়া হয়েছে। ৪০টির বেশি বেসরকারী ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্য কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোয় রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি ও সেবার পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনাসেবা দেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা চিরকালই স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা থেকে বঞ্চিত। রোহিঙ্গা নারীদের পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা নারীদের গর্ভ-পূর্ববর্তী, গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সব ধরনের সেবার ব্যবস্থা করেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগব্যাধি চিকিৎসার জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মোট ১০টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে চিকিৎসকদের উখিয়া ও টেকনাফে মেডিক্যাল টিমে কাজ করার জন্য সংযুক্ত প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে উক্ত টিমগুলো কাজ করছে। মেডিক্যাল টিমগুলো ৮ থেকে ১০ প্রকার ওষুধ এবং তিন ধরনের অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কনডম, খাবার বড়ি, তিন মাস মেয়াদি ইনজেকশন) বিতরণ করছে। আগত শরণার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গর্ভবর্তী মহিলা রয়েছে। তাদের প্রসব পূর্ববর্তী শারীরিক চেকআপ, নিরাপদ প্রসব সেবা এবং প্রসব পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফে ৬টি এফডব্লিউসিতে প্রসব সেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত কেন্দ্রগুলোতে ১ জন স্যাকমো, ১ জন এফডব্লিউভি ছাড়াও ইউএনএফপিএ এর অর্থায়নে ২ জন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নিয়োজিত আছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৭৩টি নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হয়েছে। এছাড়াও জরুরী প্রসূতি সেবার প্রয়োজন হলে এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার-এর ব্যবস্থা আছে।

১০ হাজার নার্স নিয়োগ ও চিকিৎসক পদোন্নতি ॥ স্বাস্থ্য সেক্টরে ২০১৭ সালে রেকর্ড সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একসঙ্গে ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়ে প্রশংসা কুড়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকারী নার্স সংকট কেটে যায়। আরও প্রায় আড়াই হাজার নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ২০১৭ সালে ৫ শতাধিক চিকিৎসক পদোন্নতি পান।

চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ যা বলেন ॥ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আর্সলান জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো ও উন্নয়ন অতুলনীয় এবং বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। কেন্দ্র থেকে মফস্বল পর্যন্ত তথ্য প্রযুক্তিতে সাজানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার এমন অবকাঠামো বিশ্বের কোথাও নেই। বিশ্বের অনেক দেশের চিকিৎসাসেবা অত্যাধুনিক হতে পারে। কিন্তু ওই সব দেশে স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের মত শক্তিশালী নয়।

ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রশিদী-ই মাহবুব জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই বাংলাদেশের। বিদ্যমান জনস্বাস্থ্যসেবা ও জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্টি স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেবে। আর প্রতিটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বাড়বে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাত্রা। নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হবে মানুষ। চলমান জনস্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো দিয়ে তা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। ওই অবস্থার জন্য থাকতে হবে বাড়তি প্রস্তুতি। কিন্তু ওই ধরনের প্রস্তুতি নেই বাংলাদেশের। বর্তমান জনস্বাস্থ্যসেবার অবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী এখনও ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবাবঞ্চিত। যেখানে বিদ্যমান স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন রশিদী-ই মাহবুব।

অভিযোগ ॥ সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে জনবল বাড়লেও সেবার মান বাড়েনি সরকারী চিকিৎসাসেবায়। সরকারী হাসপাতালে জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের বিনা মূল্যে চিকিৎসা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারী নিয়ন্ত্রণে নেই বেসরকারী চিকিৎসাসেবা। দেশের অধিকাংশ মানুষ বেসরকারী হাসপাতালের উচ্চচিকিৎসা ব্যয় বহন করতে পারে না। অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে গিয়ে দেশে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ছে। সরকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসা প্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত করে তুলছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। আর এমন অবস্থায় দরিদ্র-মধ্যবিত্ত-ধনী সব শ্রেণীর মানুষের জন্য ন্যূনতম মানসম্পন্ন সেবা প্রদান জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক কোন নীতিই বাস্তবে কার্যকর করে তুলতে পারেনি সরকার। আরও অভিযোগ উঠেছে, সরকারী স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পৃক্তদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি দীর্ঘ বছর ধরে বেশ আলোচিত হয়ে আসছে। বর্তমান সরকারও এ সমালোচনা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারী চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির হার ফের বেড়েছে। তাদের কেউ কেউ কর্মস্থলে গিয়ে উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর দিয়েই চলে যান। অনেকে আসেন দিনের শেষ বেলায়। থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসকদের দেখা পায় না রোগীরা। তবে নিজেদের আবাসিক কক্ষে গড়ে তোলা অবৈধ চেম্বারে অফিস সময়ে চড়া ফি নিয়ে রোগী দেখতে ভুলেন না চিকিৎসকরা। কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত পরিদর্শন টিমের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। থানা পর্যায়ে টিমের সদস্যরা যান না। শুধু তাই নয়, থানা পর্যায়ে সকল রোগীকে বিনা টাকায় চিকিৎসা ও ওষুধ দেয়া হয় না। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের অনুকম্প ছাড়া ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। চিকিৎসকরা যে রোগীকে নির্বাচন করেন, তাকেই ওই সুবিধা দেয়া হয়। এ কারণে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অনেক রোগীকে সাধারণ ওষুধও বাইরে থেকে কিনতে হয়। আর হাসপাতালে কী কী ওষুধ বিনা টাকায় দেয়া হয়ে থাকে, তা রোগী ও তাদের অভিভাবকদের জানার সুযোগ দেয়া হয় না। এতে নিরুপায় হয়ে রোগী বাঁচানোর তাগিদে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনেন রোগীর লোকজন। বর্তমান সরকারও স্বাস্থ্য সেক্টরকে দুর্নীতি ও দলীয় লোকজনের অহেতুক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে পারেনি। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির অনেক ঘটনায় অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত