প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিন ভাগের এক ভাগ তরুণ বেকার

ডেস্ক রিপোর্ট : নেতৃত্ব, উদ্যোগ ও উদ্ভাবন- সবদিক থেকেই তরুণরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। রাজনীতি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য পেশায় তরুণ সমাজ অনন্য ভূমিকা পালন করছে। এর পরও দেশের তরুণদের শতকরা ৩০ ভাগের বেশি বেকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, কাজ করতে আগ্রহী বা শ্রমবাজারে আছে এমন লোকসংখ্যা ছয় কোটি ২১ লাখ। এর মধ্যে পাঁচ কোটি ৯৫ লাখ লোক কাজ করছেন বা বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। আর ২৬ লাখ লোক বেকার, যার মধ্যে ১৮ লাখের বেশি তরুণ-তরুণী। এ হিসাব অনুযায়ী জাতীয় বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এ বেকারদের সিংহভাগই যুবক বা তরুণ। তারা সুনির্দিষ্ট বেকার। এর চেয়েও বড় ছদ্মবেকারত্ব রয়েছে দেশে।

এ বাস্তবতায় আজ দেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় যুব দিবস। এবারের যুব দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘যুবদের জাগরণ, বাংলাদেশের উন্নয়ন’। ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় যুব দিবস-২০১৭-এর উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানে ২৭ তরুণ আত্মকর্মী ও উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করা হবে। তরুণ ও যুবদের সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা যুব দিবসের উদ্দেশ্য। এ দিবসের মধ্য দিয়ে বিভিন্নভাবে তরুণ ও যুব সমাজকে সচেতন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুবদের জাগরণ ও উন্নয়নের জন্য কাজের সুযোগ দিতে হবে। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যায় কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর আধিক্য রয়েছে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এ অবস্থা থাকবে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠী বেশি থাকলে দেশের অর্থনীতি গতিশীল থাকে, যাকে বলা হয় জনমিতিক লভ্যাংশ

(ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড)। বাংলাদেশ সে লভ্যাংশ ভোগ করার পথে। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, এই যুব জনগোষ্ঠীর দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা না গেলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের পুরো সুবিধা পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে ভবিষ্যতে যখন এ জনগোষ্ঠী বয়স্ক নাগরিকে পরিণত হবে, তখন তারা দেশের জন্য বোঝা হতে পারে।

সম্প্রতি পিকেএসএফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, বাংলাদেশে এখনও প্রবীণ জনগোষ্ঠী কোনো সমস্যা নয়। তবে এখন যে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড চলছে, তাতে যুব জনগোষ্ঠীর জন্য ঠিকমতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা ভবিষ্যতে এ জনগোষ্ঠীই বোঝা হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম সমকালকে বলেন, যুবদের উন্নয়নে সরকার বর্তমানে সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী। এ জন্য সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা উভয় খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

বিবিএসের সর্বশেষ জরিপে দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীর সংখ্যা দুই কোটি আট লাখ। এর মধ্যে এক কোটি ৮৯ লাখ ৮৯ হাজার তরুণ-তরুণী কাজ করছেন। বাকি ১৮ লাখের বেশি বেকার। এ বয়সী জনসংখ্যা চার কোটি ১৬ লাখ। ওই জরিপে উঠে এসেছে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ৫৩ দশমিক ১০ শতাংশ অন্যের ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট পাঁচ কোটি ছয় লাখ যুব জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের মধ্যে বেকার দুই কোটি ২৮ লাখ। মোট যুব জনগোষ্ঠীর ৩১ শতাংশ দরিদ্র। জাতীয় যুব নীতিতে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীকে যুব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অধিদপ্তরের দাবি, বর্তমান সরকারের সময়ে ২১ লাখ আট হাজার ৩৯৪ জনকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬৫ জন আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় যুব দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে যুবদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে যুব শোভাযাত্রার আয়োজন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ওই শোভাযাত্রা জাতীয় প্রেস ক্লাবে শেষ হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

পুরস্কার পাচ্ছেন ২৭ জন

আজ দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় যুব পুরস্কার তুলে দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রশিক্ষিত যুবাদের মধ্য থেকে আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প স্থাপনে ‘দৃষ্টান্তমূলক অবদানের’ স্বীকৃতি হিসেবে ২২ ‘সফল’ তরুণ ও পাঁচ যুব সংগঠককে এ পুরস্কার দিচ্ছে সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, সচিব আসাদুল ইসলাম এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম। সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত