শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : কুমিল্লায় ঈদের ছুটিতে সড়ক ও রেলপথে পৃথক দুর্ঘটনায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। অপরদিকে লাকসামে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরও একজনের প্রাণ গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ জন শিশুসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং অন্তত ১০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই কর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তারা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের বাসটি গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিল। রাতে বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে নিচে রেললাইন পার হওয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকামুখী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার ও রেলমন্ত্রনালয় থেকে ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে চট্রগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় দুটি মন্ত্রনালয় থেকে আরেকটি জেলা প্রশাসন কুমিল্লা থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পেয়ারাপুর এলাকায় মোটরসাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মো. মহসিন (২৮) নামে এক প্রবাসী যুবক নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় স্বজন হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় এলাকায়।