শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২২, ০১:২৭ দুপুর
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২২, ০৪:১৩ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘ক্লোজআপ ওয়ান’ সেরা দশের একজন বাঁধন এখন ইউএনও

সাবরিনা রহমান বাঁধন

আব্দুল বাছিত বাচ্চু, মৌলভীবাজার: প্রতিদিন আসেন একের পর এক সমস্যাগ্রস্ত নারী-পুরুষ। তিনিও ধৈর্য নিয়ে শুনছেন তাদের সুখ-দুঃখের কথা। তাৎক্ষনিক কিছু করতে না পরলেও বুঝিয়ে বলছেন, দিচ্ছেন শান্তনা। কারো প্রতি নেই বিরক্তিবোধ, রূঢ় আচরণ। পাশাপাশি সারাদিন নিজের প্রশাসনিক কাজ করেই চলছেন। তিনি আর কেউ না। ‘ক্লোজ আপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’  সেরা দশের একজন দেশ কাঁপানো শিল্পী সাবরিনা রহমান বাঁধন।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। একজন জনবাদ্ধব প্রশাসনিক অফিসার। বলা যায় তাঁর প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক ও  মানবিক কাজগুলো প্রশাসনের প্রতি মানুষের দীর্ঘ দিনের বদ্ধমূল ধারণা পালটে দিচ্ছে। এক সময় যেখানে যেতে মানুষ ভয় পেতো, সেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এখন যেনো অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল।

Sabrina Rahman Bandhan

শিল্পী বাঁধনের জন্ম বনলতা সেনের নাটোরে। নলডাাঙা উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী ঠাকুর লক্ষীভোল গ্রামে। বাবা ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব)। ৩ বোন আর একমাত্র ভাইয়ের মধ্যে বড় বাঁধন শিক্ষা জীবনে ছিলেন অনেক মেধাবী। স্টার মার্ক পেয়ে ১৯৯৯ সালে রাজশাহী বোর্ড থেকে এসএসসি এবং সমান নম্বর পেয়ে ২০০১ সালে ঢাকা বোর্ড থেকে এইচএসসি পাস করেন বাঁধন। স্বপ্ন ছিলো বড় ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। ভর্তি হন দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করে ৩২তম বিএসিএসে অংশ নেন। সুপারিশপ্রাপ্ত হন প্রফেশনাল ক্যাডারের সড়ক ও জনপদ  বিভাগে। কিন্তু বাবার ইচ্ছে পুরণে ৩৩তম বিএসিএসে অংশ নেন। এডমিনে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে প্রশাসনিক চাকুরী জীবনের প্রথম পোস্টিং চট্টগ্রাম কালেক্টোরেটে  সহকারী কমিশনার পদে। 

সাবরিনা রহমান বাঁধন ‘আমাদের সময় ডটকম’কে জানান, নিজে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া স্বপ্ন দেখলেও বাবা চাচ্ছিলেন আমি প্রশাসনে যোগ  দেই। তাই এই ক্যাডার পরিবর্তন। আর পিছু হঠতে হয়নি। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব থেকে ২০২১ সালের পয়েলা জুন  মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে যোগ দেন সাবরিনা রহমান।

অবশ্য ইউএনও সাবরিনা রহমানকে দেশের আবাল বৃদ্ধ বনিতা চিনে নামী শিল্পী হিসেবে। ২০১০ সালে জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ দ্বিতীয় আসরে সেরা ১০ ফাইনালিস্ট 'র হন বাঁধন। তবে প্রশাসনে যোগ দিলেও থেমে নেই তার লেখালেখি আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। গান গাওয়া, বই পড়া। লিখেন গল্প কবিতা উপন্যাস। পাশাপাশি লিখেছেন- অনেক কবিতা গল্প উপন্যাস। সাবরিনা রহমান বাঁধনের ‘শেষের কবিতা পরে’ কাব্যগ্রন্থ আর ‘কমলো মেঘের ওজন’ উপন্যাস ২০২২ সালের বই মেলায় মোড়ক উন্মোচিত হয়।

মৌলভীবাজারে যোগ দিয়ে অনেকগুলো ভালো কাজের মধ্যে সকল স্কুল কলেজ মাদ্রসার ১৪০০ শিক্ষার্থীর জন্য আয়োজন করেছিলেন শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত প্রশিক্ষণ। মুজিববর্ষে তার ব্যতিক্রম আয়োজন চা বাগানে নিয়ে শিশুদের হাতে কলমে আর্টক্যাম্প অনেক প্রশংসিত হয়।

এছাড়াও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সপ্তাহে দু’দিন তাদের পণ্য বিক্রীর জন্য চাঁদনীঘাটে চালু করেছেন হাট। এমন অসংখ্য ভালো কাজ  আয়োজনসহ আরও কতো কিছু। বলা যায়, ছাত্রী শিল্পী হিসেবে যেমন ছিলেন তারকা ঠিক তেমনি প্রশাসনেও সেরাদের সেরা সাবরিনা রহমান বাঁধন। ফুঁটফুঁটে ২ পুত্রের জননী সাবরিনা রহমান বাঁধনের স্বামী সড়ক বিভাগ মৌলভীবাজার নির্বাহী প্রকৌশল জিয়াউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে অনেক সুখী। জানালেন, যেমন মা বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন অনুপ্রেরণা ঠিক তেমনি প্রকৌশলী স্বামীর দিক থেকে নেই কোনো বাধাঁ। সম্পাদনা: হ্যাপী

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়